মেয়েদের সুরক্ষায় সব চেয়ে পিছিয়ে ভারত, বলছে সমীক্ষা

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেয়েদের জন্য সব চেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসেবে সবার আগে উঠে এল ভারতের নাম! এ দেশে মেয়েদের সঙ্গে ঘটা যৌন-নিগ্রহের পরিসংখ্যানই এমনটা বলছে বলে দাবি একটি সমীক্ষায়। প্রথম দশের তালিকায় বাদ পড়েনি আমেরিকাও।

    মঙ্গলবার, লন্ডনে ৫৫০ জন গ্লোবাল বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ‘থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন’ সমীক্ষার ফল প্রকাশ হতে, এমনটাই জানা গিয়েছে। এই তালিকায় ভারতের ঠিক পরেই, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে নাম আছে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও সিরিয়ার। সোমালিয়া ও সৌদি আরব রয়েছে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে।

    সূত্রের খবর, ২০১১ সালে এই সমীক্ষা প্রথম হয়েছিল বিশ্বের একাধিক দেশের মধ্যে। মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক দেশ হিসেবে সবার আগে নাম উঠে এসেছিল আফগানিস্তানের। তার পরেই ছিল কঙ্গো, পাকিস্তান, ভারত ও সোমালিয়া। সাত বছরের মাথায় সব চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হিসেবে ভারতের নাম সামনে আসার ঘটনায় বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এর মূল কারণ হল, ভারতে বেড়ে চলা খুন-ধর্ষণ-অ্যাসিড হামলার মতো বড় ঘটনাগুলির বিচার না হওয়া। এর বাইরেও নিত্য দিন যে হেনস্থা বা নিগ্রহের মুখে মেয়েরা পড়ছেন, তার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ না করা।

    কর্নাটকের এক সরকারি কর্তা মঞ্জুনাথ গঙ্গাধর বলছেন, “মেয়েদের প্রতি চরম অসম্মান ও দুর্ব্যবহারের উদাহরণ হয়ে উঠল ভারত… ধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ, কন্যাভ্রূণ হত্যা—এ সব যে হারে বাড়ছে, তাতে এমনটা হওয়ারই ছিল। অর্থনীতিতে রোজ উন্নতি করছে দেশ, মহাকাশ বিজ্ঞানে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করছে। সেই দেশে মহিলাদের বিরুদ্ধে ঘটা এই বেড়ে চলা হিংসার ঘটনা আদতেই লজ্জাজনক।”

    দেশের সরকারি তথ্যই বলছে, ২০০৭ থেকে ২০১৬-র মধ্যে ভারতে মহিলাদের সঙ্গে ঘটা অপরাধের সংখ্যা ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি চার ঘণ্টায় একটি করে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের হয় বলে জানাচ্ছে পরিসংখ্যান। এবং এ কথা খুব স্পষ্ট, অভিযোগ হিসেবে দায়ের হওয়া অপরাধের বাইরে থেকে যাওয়া দায়ের না হওয়া অপরাধের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

    লন্ডনের এই সমীক্ষায় শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ বা নিগ্রহের হিসেব করা হয়েছে, এমন নয়।  দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা, অর্থনৈতিক সূচক, ধর্মীয় প্রথা, কালচার—এ সবের সঙ্গেই দেখা হয়েছে মহিলাদের প্রতি যৌন নিগ্রহ বা অন্য অপরাধ বা নারী পাচারের পরিসংখ্যান।
    এই সমীক্ষার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও।

    রাহুল গান্ধী অবশ্য এ বিষয়ে টুইট করেন নিজের পেজে। বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যখন মাঠে যোগব্যায়ামের ভিডিও করছেন, তখন সৌদি, সিরিয়া, আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহে এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। দেশের লজ্জা!”
    দেখে নিন রাহুলের সেই টুইট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More