সোমবার, অক্টোবর ১৪

সুইস ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট কোন ভারতীয়দের, তথ্য পেল সরকার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বিশ্ব জুড়ে মোট ৭৫ টি দেশের সঙ্গে তথ্যের আদানপ্রদান শুরু করেছে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ট্যাক্স অ্যাডমিনস্ট্রেশন। ভারত তার মধ্যে অন্যতম। সুইস ব্যাঙ্কে কোন ভারতীয়দের অ্যাকাউন্ট আছে, তা নিয়ে সম্প্রতি এদেশের সরকারকে একদফা তথ্য দিয়েছে সুইস সরকার। এর ফলে কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করা যাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। সুইজারল্যান্ড ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ভারতকে আর এক দফা তথ্য দেবে।

সুইজারল্যান্ড ভারত সরকারকে জানিয়েছে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের কতগুলি অ্যাকাউন্ট ছিল। তার মধ্যে কতগুলি এখনও সচল রয়েছে, তাও জানানো হয়েছে। তবে ওই তথ্য নিয়ে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। সুইস ব্যাঙ্কে কতজন ভারতীয়ের অ্যাকাউন্ট আছে এবং গচ্ছিত অর্থেরই বা পরিমাণ কত, তা প্রকাশ্যে জানানো হচ্ছে না। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, সুইস ট্যাক্স অথরিটি বিভিন্ন দেশকে মোট ৩১ লক্ষ অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে জানিয়েছে। প্রতিটি অ্যাকাউন্টের মালিকের নাম, ঠিকানা, তিনি এখন কোথায় থাকেন, কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত এবং অ্যাকাউন্টে কত টাকা আছে, সবই জানানো হয়েছে।

১২ টি দেশের নাগরিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে কিছু জানাতে অস্বীকার করেছে সুইজারল্যান্ড। কারণ ওই দেশগুলি আন্তর্জাতিক বিধি মেনে হয় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করতে রাজি হয়নি অথবা তারা নিজেরা অ্যাকাউন্টের মালিকদের সম্পর্কে জানতে চায়নি। সবচেয়ে বেশি তথ্য পাঠানো হয়েছে জার্মানিকে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যে ভারতীয়রা কালো টাকা সুইস ব্যাঙ্কে জমা রেখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এখন সহজেই মামলা শুরু করতে পারবে সরকার। সুইস ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলা করা হবে। একটি সূত্রের খবর, সুইস ব্যাঙ্কে যে ভারতীয়দের অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁরা প্রায় সকলেই ব্যবসায়ী। তাঁরা গাড়ির যন্ত্রাংশ, রাসায়নিক, তাঁত, রিয়েল এস্টেট, হিরে ও অন্যান্য মণিরত্নের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের অনেকেই বিদেশে বাস করেন। কেউ কেউ থাকেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে। ব্রিটেন, আমেরিকা এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের কয়েকটি দেশেও থাকেন কেউ কেউ। ২০১৮ সালে সুইস ব্যাঙ্কে ভারতীয়দের অন্তত ১০০ টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Comments are closed.