বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে ভারত, দাবি মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিরোধীদের দাবি, নোটবন্দি ও জিএসটির ধাক্কায় হাল শোচনীয় হয়েছে ভারতীয় অর্থনীতির। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি, আমাদের অর্থনীতি যেভাবে বিকশিত হয়ে চলেছে তাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম হয়ে দাঁড়ালেও আশ্চর্যের কিছু নেই।

সোমবার গ্রেটার নয়ডায় পেট্রোটেক ২০১৯-এর উদ্বোধন হয়। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক ওই সম্মেলনের উদ্যোক্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, ভারতের অর্থনীতি এখন বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বিকশিত হয়ে চলেছে। এখন ভারত ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। আইএমএফ এবং বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো সংস্থা মনে করে, আগামী দিনেও আমাদের অর্থনীতি একইভাবে বিকশিত হবে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অবস্থা এখন অনিশ্চিত। এই অবস্থায় ভারতীয় অর্থনীতি প্রমাণ করেছে, ধাক্কা খেলেও সে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ভারত।

স্ট্যান্ডার্ড চ্যাটার্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালে আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হবে চিন। আমেরিকা দ্বিতীয় স্থানেও থাকবে না। তাদের টপকে দ্বিতীয় স্থান নেবে ভারত।

গত কয়েক বছরে অপরিশোধিত তেলের দামে ওঠাপড়া আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। মোদী সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, তেলের দাম এমনভাবে স্থির করা উচিত যাতে উৎপাদক ও ভোক্তা, উভয়ের স্বার্থই সুরক্ষিত থাকে। তেল ও গ্যাসের বাজার হওয়া চাই স্বচ্ছ। তবেই আমরা আগামী দিনের জন্য শক্তির উৎসকে বাঁচিয়ে রাখতে পারব।

মোদী বলেন, বর্তমানে তেল পরিশোধনের ক্ষমতার বিচারে বিশ্বে ভারতের স্থান চতুর্থ। ২০৩০ সাল নাগাদ আমাদের ক্ষমতা আরও বাড়বে। তখন আমরা বছরে ২০ কোটি মেট্রিক টন তেল শোধন করতে পারব।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর আমরা জৈব জ্বালানি নীতি তৈরি করেছি। জৈব জ্বালানি উৎপাদন নিয়ে গবেষণা চলছে। ১১ টি রাজ্যে জৈব জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা অতীতে বহু নীতি তৈরি করেছি। তা বাস্তবায়িতও করেছি। দেশের প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। চলতি বছরে আমরা দেশের প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষমাত্রা স্থির করেছি। বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করছি যাতে তার অপচয় রোধ করা যায়।

অন্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৬ কোটি ৪০ লক্ষ বাড়িতে রান্নার গ্যাসের কানেকশন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকার হয়েছে নারী ও শিশুদের। তারা ধোঁয়ার দূষণ থেকে রক্ষা পেয়েছে।

Shares

Comments are closed.