পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কোনও ধারণাই নেই ভারত-চিন-রাশিয়ার! তোপ ট্রাম্পের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিবেশ রক্ষায় যতটা তৎপর হওয়ার কথা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি মোটেও ততটা তৎপর নন বলে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বার অভিযোগ উঠেছে। এ বার তিনিই পাল্টা দাবি করলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই ভারত, চিন, রাশিয়ার মতো বড় দেশগুলির। সদ্য পার হওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ওই দেশগুলি বিশ্বপরিবেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না মোটেই।

    বর্তমানে তিন দিনের ব্রিটেন-সফরে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানেই একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে এই কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভারত, চিন, রাশিয়ায় শুদ্ধ বাতাসও নেই। বিশ্বপরিবেশের প্রতি ওই দেশগুলির দায়বদ্ধতাও নেই। তিনি আরও দাবি করেন, আমেরিকার জলবায়ু পৃথিবীর মধ্যে সেরা।

    ওই সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি আর প্রিন্স চার্লস মিনিট ১৫ কথা বলতে বসেছিলাম এই নিয়ে। কিন্তু কথা বলতে গিয়ে দেখলাম দেড় ঘণ্টা গড়িয়ে গেল। বেশি কথা চার্লসই বলেছেন। উনি সত্যিই বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত। এই বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।” তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, “আমি যত তথ্য ঘাঁটছি তত দেখছি, আমেরিকার হাওয়া-বাতাসই পৃথিবীর সব দেশের মধ্যে সব চেয়ে পরিষ্কার। ভারত, চিন আমেরিকার তো কোনও বোধই নেই এই ব্যাপারে।”

    “ওই দেশগুলির কিছু শহরে গেলে নিঃশ্বাস পর্যন্ত নেওয়া যায় না। আমি ওই শহরগুলোর নাম করছি না, কিন্তু করতেই পারি। এই যে ভয়াবহ অবস্থা, নিঃশ্বাস পর্যন্ত নেওয়া যাচ্ছে না, এই নিয়ে সরকার উদাসীন!”– বলেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ওই দেশগুলিতে পরিশুদ্ধ বায়ু নেই, জল নেই। এ নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথাও নেই। এ প্রসঙ্গে ইংল্যান্ডের ভূমিকার বিশেষ প্রশংসা করতে গিয়ে ট্রাম্প এ-ও বলেন, “ব্রিটেনের রানি এলিজ়াবেথ এক জন দুর্দান্ত মহিলা।”

    এই সাক্ষাৎকারটি দেওয়ার আগেই প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। সেখানে কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এমনিতেই প্রিন্স চার্লস পরিবেশ দূষণ নিয়ে চিন্তিত। বছর চারেক আগে তিনি একটি সচেতনতা অভিযানও শুরু করেছিলেন। পরিবেশ ধ্বংস করার প্রভাব কতটা খারাপ হতে পারে তা বোঝাতেই অভিযান করছিলেন প্রিন্স।

    আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলতে প্যারিস চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। সে সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ছিলেন বারাক ওবামা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হওয়ার পরে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তা নিয়ে কম সমালোচনার মুখে পডে়ননি তিনি। তার পরে সেই তিনিই ফের পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করায় বিস্মিত অনেকেই।

    তবে পরিবেশ সংরক্ষণের নতুন কোনও তত্ত্ব বা আমেরিকার বিশেষ কোনও ভূমিকার বদলে অন্য দেশগুলিকে দোষারোপ করার সুরই বেশি ধরা পড়েছে ট্রাম্পের গলায়। তিনি জানান, ভারত রাশিয়া বা চিন জানেই না পরিবেশ সংরক্ষণ কাকে বলে। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে এই দেশগুলির প্রাথমিক ধারণা নেই বলেই মনে করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More