বৃহস্পতিবার, মে ২৩

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে চেষ্টা করব, জানাল চিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যখন চরমে, তখন চিন জানাল, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য চেষ্টা করবে তারা। পাকিস্তান দাবি করে, চিন তাদের ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’। অর্থাৎ যে কোনও পরিস্থিতিতেই চিনের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্ব বজায় থাকবে। একসময় রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে জইশ ই মহম্মদের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী’ বলে ঘোষণা করার দাবি তোলে ভারত। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিন ভেটো দিয়ে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভিন্ন সুরে কথা বলেছে চিন।

সোমবার চিন জানায়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সবরকম ব্যবস্থা নেবে। তারা চায়, ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক। এদিন চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লু কাংকে প্রশ্ন করা হয়, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হবে কি? তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দু’টি দেশেরই গুরুত্ব আছে। আমরা বিশ্বাস করি, তারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে নিতে পারবে। ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক হয়, এমন সব উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করব।

লু কাংকে প্রশ্ন করা হয়, চিন কি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতা করবে? তিনি বলেন, বেজিং দুই দেশের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে চলছে। আমরা সব সময়ই গঠনমূলক ভূমিকা পালন করি।

এর আগে রাশিয়া থেকেও বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তান, দু’টিই পরমাণু শক্তিধর দেশ। তাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে আমরা মধ্যস্থতা করতে তৈরি। গত সপ্তাহে বালাকোটে জইশ ই মহম্মদের শিবিরে বায়ুসেনার আক্রমণের পরেও চিন সংযত হওয়ার জন্য আবেদন জানায়। চিনের মুখপাত্র বলেন, আমরা আশা করি, দুই দেশই সম্পর্কে উন্নতির জন্য চেষ্টা করবে।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই প্রসঙ্গে এদিন লু বলেন, এর জন্য বিভিন্ন দেশকে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। সারা বিশ্ব জুড়েই সন্ত্রাসবাদের সমস্যা রয়েছে।

চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে জঙ্গিরা সক্রিয়। সেখানে চিনা সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে উইঘুর জনজাতির কয়েকটি সংগঠন। বেশ কয়েকবার তারা বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

Shares

Comments are closed.