মঙ্গলবার, জুন ২৫

পাকিস্তানে হিন্দু মেয়ে রাভিতা কোন চাপে হয়ে যাচ্ছে গুলনাজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশটির জন সংখ্যার ১.৮৫ শতাংশ হিন্দু। দেশটির  দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মই হলো হিন্দু (১৯৯৮ সেনসাস)। পৃথিবীর মধ্যে হিন্দু জনসংখ্যায়  পঞ্চম স্থানাধিকারী  এই দেশ। এবং দেশটির নাম পাকিস্তান। ওয়াশিংটনের Pew Reaseach Centre-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালে পাকিস্তান হিন্দু জনসংখ্যার নিরিখে চতুর্থ স্থানে থাকবে।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.৮৫% হিন্দু। তার ৯৩.৩৩ শতাংশ  বাস করেন সিন্ধুপ্রদেশে। ৪.৭৬ শতাংশ বাস করেন পাঞ্জাবে। বালুচিস্তানে বাস করেন ১.৬ শতাংশ হিন্দু। এছাড়াও খাইবার পাখ্তুনখোয়া, ফাটা ও ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটোরিতে বাস করেন অল্প সংখ্যক হিন্দু। পাকিস্তানের হিন্দুদের মূল ভাষা সিন্ধি, অল্প কিছু অংশ বলেন পাঞ্জাবি।

মনে করা হয়, প্রাচীনতম হিন্দু পুঁথি ঋগ্বেদ আধুনিক পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সিন্ধুনদের উপত্যকায়,  ১৫০০ খ্রিস্ট পূর্বাব্দে  রচিত হয়েছিল। পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা থেকে মেলা বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শনে স্বস্তিকা চিহ্ন দেখতে পাওয়া গেছে। প্রাচীন হিন্দু বা সিন্ধুসভ্যতা, মহেঞ্জদাঢ়োর সিলমোহরে পশুপতির যোগমুদ্রা প্রমাণ করে বর্তমানে যেখানে পাকিস্তান, সেখানে হিন্দুদের বা হিন্দু ধর্মের একাধিপত্য ছিল। মহাভারতে সিন্ধু রাজত্ব ও তার সম্রাটের কথা বর্ণিত হয়েছে। হিন্দু পূরাণ বলে পাকিস্তানের শহর লাহোর স্থাপিত করেছিলেন রামচন্দ্রের জ্যেষ্ঠপুত্র লব। এবং কাসুর শহর প্রতিষ্ঠা করেন লবের যমজ ভাই কুশ। পুরাণের গান্ধার রাজত্ব ও গান্ধার রাজ্যের মানুষদের কথা রামায়ণ ও মহাভারতে পাই। এই রাজত্বের রাজকন্যা ছিলেন গান্ধারী। বর্তমানে এটির  বেশিরভাগ অংশ  আফগানিস্তানে পড়েছে। আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরটির পুরোনো নাম ছিলো গান্ধার। এছাড়াও হিন্দু পুরাণে পাকিস্তানের মুলস্থান বা  মুলতান ও পুরুষপুর বা পেশোয়ার নামের শহর দুটির নাম থাকাই প্রমাণ করে এই অঞ্চলে হিন্দুধর্মের সন্দেহাতীত  প্রাধান্য।

সাংবাদিকদের সামনে করাচি প্রেস ক্লাবে

এই পর্যন্ত পড়ে, পাঠকদের  মনে হতে পারে এই অঞ্চলে  হিন্দুদের চিরায়ত ঐতিহ্য ও সামাজিক গুরুত্ব কিছুটা হলেও বজায় পাকিস্তানে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি আদৌ তা নয়। পাকিস্তানে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, জোর করে ধর্মান্তরকরণ ও হিন্দু নাবালিকাদের মুসলিম পরিবারে বিয়ে দেওয়া নিয়মিত ঘটনা। হিন্দুরা অতি ভয়ে, আশঙ্কায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।

তাঁর জীবনের  প্রথম ষোল বছর  রাভিতা মেঘবর  ছিলেন পাকিস্তানের এক জন হিন্দু মহিলা, কিন্তু বর্তমানে তাঁর নাম গুলনাজ শাহ। তিনি বিবাহিত, এবং তাঁর স্বামী মুসলিম। রাভিতার পরিবারের বক্তব্য,  রাভিতাকে অপহরণ করার আগে  ড্রাগ খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়। এর পর তাকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দেওয়া হয় এক মুসলিম পুরুষের সঙ্গে। অন্য দিকে রাভিতার জবানবন্দি বলছে, তাকে কিডন্যাপ করা হয় ঠিকই। কিন্তু স্বেচ্ছায় সে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে বিয়ে করেছে মুসলিম পুরুষকে।

কয়েক দশক আগে হলে হয়তো মেঘবর কেস মেঘের আড়ালেই থেকে যেত। কিন্তু বর্তমানে সারা পাকিস্তান জুড়ে একের  পর এক হিন্দু নাবালিকাকে  জোর করে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। পাকিস্তানের সিন্ধুপ্রদেশের কোর্টে একটার পর একটা মামলা রুজু করছে হিন্দু পরিবারগুলি। ফলে দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে পাকিস্তানের হিন্দু সংগঠন গুলি। পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিন্দুর বসবাস এই সিন্ধুপ্রদেশেই। পাকিস্তানের হিন্দু সংগঠনগুলি বলছে, পাকিস্তানে হিন্দুদের জোর করে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এবং ধর্মান্তরিত করার পদ্ধতি পুরো পাকিস্তানে এক। প্রায় সব ক্ষেত্রেই  টার্গেট করা  হচ্ছে  হিন্দু নাবালিকাদের। ফলে পাকিস্তানের  হিন্দু জনমানসে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। তাঁরা মনে করছেন এটা পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা কমানোর সুপরিকল্পিত পদ্ধতি।

আজ পাকিস্তানে, দেশের জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও  কম  হিন্দু বাস করেন।  এবং পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর প্রায়  ৭০ বছর পাকিস্তানে কাটিয়েও  ফেলেছেন এই হিন্দু জনগোষ্ঠী। কিন্তু আজ সত্যিই তাঁদের অস্তিত্ব সঙ্কটে। পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর মহম্মদ আলি জিন্নাহ বলেছিলেন, সংখ্যালঘুরা নির্বিঘ্নে পাকিস্তানে বসবাস ও নিজস্ব ধর্ম পালন করতে পারবেন।কিন্তু বর্তমানে, পাকিস্তান একটি উগ্র ইসলামিক দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। ইসলামী  উগ্রবাদীরা পাকিস্তানের  সর্বস্তরে একাধিপত্য কায়েম করেছেন। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পাকিস্তানি সমাজে  ন্যূনতম অধিকারটুকুও  নেই। প্রভাবশালী ইসলামি সংগঠনগুলি হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করার কাজে লেগে পড়েছে কয়েক দশক আগে থেকেই। সিন্ধুপ্রদেশের গ্রামে হিন্দু নাবালিকাদের উপর আক্রমণের হার আশঙ্কাজনক রকমের  বেশি।  তাই অনেক হিন্দু পরিবার গ্রাম ছেড়ে  পাকিস্তানের শহরগুলিতে  আশ্রয় নিচ্ছেন। অনেক পরিবার পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

সারা পাকিস্তানে মুসলিমরা রাজনীতি অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করলেও সিন্ধুপ্রদেশে হিন্দুদের সামাজিক প্রভাব এখনও কিছুটা অবশিষ্ট আছে। কারণ সমগ্র পাকিস্তানে হিন্দু জনসংখ্যা দুই শতাংশ হলেও সিন্ধুতে ছয় শতাংশ। এখানে আবার হিন্দুতে হিন্দুতে ভেদাভেদ আছে।  নিম্নবর্গের ও নিম্নবিত্ত হিন্দুরা উচ্চবর্গের ও উচ্চবিত্ত  হিন্দুদের কাছে কিছুটা অপাংক্তেয়। বৃহত্তর পাকিস্তানি হিন্দু সমাজে সামাজিক ভাবে তারা বৈষম্যের শিকার ও অবস্থান গত ভাবে প্রান্তিক ও মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন। ২০১৫ সালের ‘সাউথ এশিয়া পার্টনারশিপ-পাকিস্তান-একটি  রিপোর্টে প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির অভিমত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আর্থিক ও ধর্মীয় প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সঙ্গে, গ্রামীণ পাকিস্তানে উচ্চবর্গের হিন্দুদের বুর্জোয়া মানসিকতা নিম্নবর্গের হিন্দুদের ধর্মান্তরিত হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে। সেই সুযোগ গ্রহণ করছে মুসলিম মৌলবাদীরা।

হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়া রাভিতার জামাইবাবু লাজপত মেঘবর মনে করেন,  তাঁর শ্যালিকাকে টার্গেট করা হয়েছে অন্য একটি শত্রুতার সুযোগে। কেননা তাঁদের পরিবার গ্রামের কুয়োকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠা এক গ্রামীণ রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। যে মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে রাভিতা চলে গেছিলেন, তাঁর সঙ্গে রাভিতাদের  পরিচয় ছিল না। কুয়ো নিয়ে বিবাদে তাঁদের পরিবার জড়িয়ে পড়েছিল মুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে! তাই রাভিতাকে টার্গেট করা হয়েছে। বিয়ের পর রাভিতাকে আর বাবা মা’র কাছে আসতেও দেওয়া হয় না।

প্রতিবাদ

পাকিস্তানের হিন্দু পরিবার ও হিন্দু সংগঠনগুলির  দাবি, এই ভাবে  সুপরিকল্পিত ও সংগঠিতভাবে ভাবে নাবালিকাদের অপহরণ, ধর্মান্তরিত করা ও মুসলিম পরিবারে বিয়ে দেওয়ানো হচ্ছে। কারণ, পাকিস্তানের গোঁড়া  মুসলিম ধর্মীয় সংগঠনগুলি মনে করে বিধর্মীদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করলে আল্লাহর সর্বোচ্চ আশীর্বাদ মেলে।
পাকিস্তানে, এই ধর্মান্তরকরণগুলির  পিছনে থাকে প্রভাবশালী মসজিদ, মুসলিম ধর্মগুরু এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়, প্রভাব ও অর্থ। তাঁরাই সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের আশ্রয় দেন। এবং তারাই প্রচার করেন যে নাবালিকারা স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে, ধর্মান্তরিত হয়েছে এবং মুসলিম যুবকদের  বিয়ে করেছে। নাবালিকারাও একই কথা বলে, ভয়ে বা চাপে। নাবালিকাদের এই রকম হলফনামা হিন্দু পরিবারগুলির আইনজীবী ও হিন্দু সমাজসেবী সংগঠনদের সমস্যায় ফেলেছে। বিবাহগুলি আদৌ স্বেচ্ছায় হয়নি, হয়েছে  হুমকির শিকার হয়ে, তা কোর্টে  প্রমাণ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাবালিকার জবানবন্দিই পাকিস্তানের কোর্টগুলিতে গুরুত্ব পায়। বেশিরভাগ নাবালিকারা  বলে  যে  তারা  সাবালিকা তাই তার নিজের ইচ্ছাতে স্বামী বাছার অধিকার আছে। তা সত্ত্বেও তার হিন্দু বাবা মা শেষ চেষ্টা করে যান।পাকিস্তানের  কোর্টকে বোঝাতে চেষ্টা করেন, যে স্থানীয় মসজিদে বিয়ে হয়েছে। সেখানকার  প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জোর করে, ভয় দেখিয়ে, ধর্মান্তরিত করে বিয়ে দিয়েছেন মুসলিম যুবকের সঙ্গে।

২০১২ সাল নাগাদ পাকিস্তানে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে এই জবরদস্তি ধর্মান্তরিত করার খবর। তিন জন হিন্দু মেয়েকে জোর করে ধর্মান্তরিত করা ও মুসলিম পুরুষকে বিয়ে দেওয়ার  খবর  প্রচার মাধ্যমে উঠে আসে। এই মামলা পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টেও ওঠে। তিন নাবালিকার মধ্যে এক জন হল  রিংকি কুমারী। যাকে ধর্মান্তরিত করা হয় এমন একটি মসজিদে,  যেটির  পরিচালন সমিতিতে ছিলেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির এক সাংসদ। তখন পাকিস্তানে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সরকার। ধর্মান্তরিত রিংকি কুমারি, সুপ্রিম কোর্টে তার জবানবন্দিতে বলে, সে তার মুসলিম স্বামীর সঙ্গে থাকতে চায়। যদিও হিন্দু সমাজসেবী মঙ্গলা শর্মা (যিনি সুপ্রিম কোর্টে রিংকি কুমারীর সঙ্গে  ছিলেন) বলেছিলেন গাড়িতে যেতে যেতে রিংকি বলেছিল,  তাকে অপহরণ করা হয়েছে ও জোর করে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তিনটি হিন্দু মেয়েকেই মুসলিম স্বামীর সঙ্গে থাকার নির্দেশ দেয়। এই রায়ে খুবই হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন পাকিস্তানের হিন্দুরা। উল্লাসে ফেটে পড়ে মৌলবাদীরা।  এই সব কারণেই পাকিস্তান ছাড়ার কথা ভাবেন পাকিস্তানি হিন্দুদের একাংশ। কিন্তু পাকিস্তানের উচ্চবিত্ত হিন্দু ও হিন্দু  সরকারি কর্মচারীরা দেশ ছাড়তে পারেন না। যেমন মঙ্গলা শর্মাই বলেছিলেন, “আমি যদি পাকিস্তান ছাড়ি, তা হলে পাকিস্তানের নিপীড়িত হিন্দুদের কথা পৃথিবীর সামনে কে তুলে ধরবে ?”

রিংকি কুমারীর মামলার পরে, পাকিস্তানে হিন্দু সংগঠন ও সমাজসেবীরা  জবরদস্তি ধর্মান্তরিত করার বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে হাওয়া তোলে। সিন্ধু আইনসভায় ২০১৬ সালে একটি বিল পাশও হয়। সেই বিলে বলা হয় জোর করে কাউকে ধর্মান্তরিত করা যাবে না এবং ১৮ বছর বয়েসের আগে কেউ ধর্মান্তরিত হতে পারবেন না।
এই বিলের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ধর্মীয় মৌলবাদীরা  ফুঁসে  ওঠে। যাদের মধ্যমণি ছিলো জঙ্গি সংগঠন  লস্কর-ই-তইবার  সামাজিক মুখোশধারী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া।  এই লস্কর-ই-তইবা-ই ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার পিছনে ছিল। জামাত-উদ-দাওয়ার তৎকালীন প্রধান, মুজাম্মিল ইকবাল হাশমি বলেছিলেন, ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁরা কোনও বাধা তাঁরা মানবেন না।
মৌলবাদীদের বিক্ষোভ এতটাই চরমে ওঠে, সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর পাশ হয়ে যাওয়া বিলে সই করে বিলকে আইনে পরিণত করতে অস্বীকার করেন। অন্য দিকে  দিকে পাকিস্তান হিন্দু কাউন্সিল  লড়ে যেতে থাকে।  যাতে হিন্দু নাবালিকার মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে, নাবালিকার মতামতই চূড়ান্ত না হয়। ইসলামি মৌলবাদীরা বলতে থাকেন, তাঁদের ধর্মে প্রবেশের  কোনও বয়স সীমা নেই। হিন্দু সংগঠনগুলিও বলতে থাকে ইসলামে প্রবেশে বয়সসীমা থাকা বা না থাকা মুসলিমদের ব্যাপার। হিন্দু হয়ে তাঁরা সেটা মানবেন কেন ? শরিয়ত আইন হিন্দু ছেলেমেয়েদের ওপর চাপানো হবে কোন অধিকারে?

পাকিস্তানি হিন্দুদের জন্য রক্ষাকবচ হতে পারত যে আইন, আজও তা  আসেনি পাকিস্তানে।
আশঙ্কা ও দুশ্চিন্তায় প্রতিনিয়ত ভুগছে পাকিস্তানের  হিন্দু নাবালিকা ও অবিবাহিত তরুণীদের বাবা মা পরিবার। শুধু জোর করে হিন্দু মেয়েকে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়াই নয়, নিম্নবর্গের হিন্দুদের গণ হারে ধর্মান্তরিত করার ঘটনাও ঘটছে সিন্ধুপ্রদেশে। হিন্দু থেকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিতদের টাকা-পয়সা, বাড়ি, দোকান করে দেওয়া হচ্ছে। রীতিমতো প্রেস রিলিজ করে এই গণ ধর্মান্তরকরণ অনুষ্ঠান করা হয়। এই কাজটির পিছনে থাকা সংস্থা, ধর্মস্থান, রাজনৈতিক নেতা সবাই এটাকে বড় সাফল্য ভাবেন। ভাবেন একটা বিশাল পুণ্যের  কাজ করলেন।  জিয়াউল হক তাঁর শাসনকালে সুপ্রিম কোর্টকে দিয়ে একটি শরিয়তি আইন পাশ করিয়েছিলেন, যে পাকিস্তানে সরকারের পক্ষ থেকে বিধর্মী জনগণকে ইসলামে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা হবে। মাঝে ভাটা পারলেও আবার চাগাড় দিয়েছে এই মনোভাব। প্রতি বছর পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে আসছেন  প্রায় ৫০০০ পাকিস্তানি হিন্দু।

সিন্ধুপ্রদেশের রাজধানী করাচি। শহরটি চলে পাকিস্তানের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কথায়। খুনখারাপি, ড্রাগ, মাফিয়া নিয়ে এই বন্দর শহরে  সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হিন্দুদের। প্রতিদিনই প্রায় হিন্দু নাবালিকা অপহরণ লেগে থাকে। হিন্দুরা নিজেদের ভিটে মাটি ছেড়ে করাচির স্বামীনারায়ণ মন্দিরের আশেপাশে  বসবাস করতে শুরু করেছেন। মন্দির চত্বরে  বসবাসকারী এক উদ্বাস্তু হিন্দু মনপ্রীত চন্দ্রপাল জনিয়েছেন, শেষ দশ বছরে পরিস্থিতি অবস্থা শোচনীয় জায়গায় পৌঁছে গেছে।
তিনি বলেন প্রায় আমাদের শুনতে হয়,  দেখো তোমাদের দেশে (ভারতে) কী হচ্ছে। যেন পাকিস্তান আমার দেশ নয়, আমাদের দেশ ইন্ডিয়া। পারস্পরিক অবিশ্বাসের ফলে দুই ধর্মের মানুষজনের মধ্য়ে দূরত্ব বাড়ছে। ধর্মীয় সহিষ্ণুতার নামগন্ধ নেই। পাকিস্তানের সরকার কিন্তু জানে,  জবরদস্তি ধর্মান্তরিত করাটা সামাজিক ব্যাধির আকার নিয়েছে পাকিস্তানে। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও মৌলবাদীদের সীমাহীন প্রভাব ব্যাধিকে জটিল থেকে জটিলতর করে চলেছে।
সদিচ্ছার অভাব নাকি হিন্দুশূন্য পাকিস্তানের অপেক্ষা?  প্রশ্নটির উত্তর খুঁজে চলেছেন পাকিস্তানের  হিন্দুরা, খুঁজবেন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত অবধি।

Leave A Reply