অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, তার মধ্যেই মুসলিম বরযাত্রীদের মানববন্ধন করে মণ্ডপে পৌঁছে দিলেন হিন্দুরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে যখন সারা দেশজুড়ে বাড়ছে বিক্ষোভের আঁচ, যখন অভিযোগ উঠছে হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা চলছে এ দেশে, তখনই সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করল কানপুর। অশান্তির আবহে মানুষের জন্য ঢাল হয়ে উঠল মানুষ। মুসলিম বরযাত্রীর একটি দলকে ৫০ জন হিন্দু মিলে মানববন্ধন করে, রীতিমতো আগলে, নিরাপদে পৌঁছে দিল বকরগঞ্জের বিয়েবাড়িতে।

জানা গেছে, ২১ তারিখ কানপুরের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা হসনৈন ফারুকের বিয়ে ঠিক হয়েছিল বকরগঞ্জের পাত্রী জিনাতের সঙ্গে। কিন্তু তখন অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি গোটা উত্তরপ্রদেশ জুড়ে। পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত সংঘর্ষ চলছে। নাহরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন একাধিক বিক্ষোভকারী। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনের আঁচে জ্বলছে গোটা রাজ্য। কার্ফু জারি রাজ্য জুড়ে, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।

এই অবস্থায় বিয়ে করতে বেরিয়ে আটকে পড়েন ফারুক ও তাঁর সঙ্গীরা। বকরগঞ্জে কনে জিনাতের বাড়িতে তাঁরা ফোন করে জানান, অশান্তির কারণে পৌঁছতে পারছেন না মণ্ডপে। দেড়-দু’কিলোমিটার আগেই আটকে আছেন তাঁরা। এ কথা শুনেই আসরে নামেন জিনাতের প্রতিবেশী বিমল চাপাড়িয়া। তাঁর প্রতিবেশীর মেয়ের বিয়ে আটকে যেতে পারে শুনেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ডেকে নেন দুই বন্ধু সোমনাথ তিওয়ারি ও নীরজ তিওয়ারিকে। সবাই মিলে ডাকাডাকি করে ৫০ জন লোক জোগাড় করেন। ঘটনাচক্রে, সকলেই হিন্দু। তাঁরাই দল বেঁধে বেরিয়ে পড়েন, বরযাত্রীকে নিয়ে আসবেন বলে।

শেষমেশ বরযাত্রীরা যেখানে আটকে পড়েছিলেন, সেখানে পৌঁছে যান ৫০ জনের ওই দলটি। নিজেরা হাতে হাত ধরে মানববন্ধন করে ঘিরে ফেলেন ৭০ জন বরযাত্রীর দলটিকে। ওভাবেই হাঁটতে শুরু করেন তাঁরা। সন্ধের মধ্যেই নিরাপদে বকরগঞ্জের বিয়ের মণ্ডপে এসে পৌঁছন ফারুক। বিয়ে শেষ করে, কনের বিদায় হওয়ার পরে তবে ছুটি নেন বিমল।

বিমল চাপাড়িয়া বলেন, “আমি জিনাতকে বড় হতে দেখেছি চোখের সামনে। ও আমার ছোট বোনের মতো। আমি কী করে চুপ করে বসে থাকতাম? ওদের গোটা বাড়ি চিন্তায় ভেঙে পড়েছিল। ঝামেলার জন্য আসতে পারছিল না বর। আমি তখন ঠিক করি, ওদের নিয়ে আসব। প্রতিবেশী হিসেবে এটুকু তো আমায় করতেই হতো।”

সদ্যবিবাহিতা জিনাত বলছে, “বিয়েটা ভেঙেই যেতে বসেছিল, বরের বাড়ি থেকে বলল ওরা আসতে পারছে না। সবাই খুব চিন্তা করছিল। তখনই কাকাকে (বিমল) ফোন করে সব বলে আমার বাবা। কাকা আর কাকার বন্ধুরা না থাকলে বিয়েটা হতো না।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More