বুধবার, নভেম্বর ১৩

ভারতে এসেও ‘মেড ইন চায়না’ গাড়িতেই চড়লেন শি, পিছনে চিনের পুরনো নিয়ম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে এসেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দু’দিনের সফর। কিন্তু সেই সফরেই দেশ থেকে আস্ত গাড়ি নিয়ে এসেছেন। ভারতের রাস্তায় চিনা প্রেসিডেন্ট চড়লেন ‘মেড ইন চায়না’ গাড়িতে। হেলিকপ্টার নয় চেন্নাই থেকে মামাল্লাপুরম ৫৭ কিলোমিটার রাস্তা সেই গাড়িতে।

এদিন চেন্নাই থেকে হেলিকপ্টারে মামাল্লাপুরম আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু সে পথে আসেননি শি জিনপিং। কারণ, চিনের নীতি। সে দেশের কোনও রাষ্ট্রনেতাই হেলিকপ্টারে চড়েন না। চড়েন ‘হংকি’-তে। এটাই চিনা প্রেসিডেন্টের গাড়ির নাম।

‘হংকি’ মানে লাল পতাকা। আর সেই লাল পতাকাই বাহন হয় চিনের শাসক কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না-র নেতাদের। এদিন চেন্নাই থেকে ওই গাড়িতে করে মামাল্লাপুরমের অনুষ্ঠান সেরে ফিরে যান চেন্নাইতে। তার আগে শি জিনপিং প্রতিনিধি দল নিয়ে সাইটসিয়িং সারেন মামাল্লাপুরমে। শনিবার প্রতিনিধি দল নিয়ে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের জন্য ফের ৫৭ কিলোমিটার পথে গাড়িতে এসে গাড়িতেই ফিরবেন তিনি। এর পরে নেপালে চলে যাবে ওই চিনা প্রতিনিধি দল।

চিনের নেতারা যে হেলিকপ্টার এড়িয়ে চলেন সেটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। তাঁরা প্লেনে চড়েন, গাড়িতে চড়েন কিন্তু হেলকপ্টারে নৈব নৈব চ। এটাই সে দেশের নীতি। আর তার যে গাড়িতে চড়েন তার নাম– ‘হংকি’। মানে লাল পতাকা।
এটা সেই মাও জেদং-এর আমল থেকেই।

তবে ‘মেড ইন চায়না’ গাড়ি নিয়ে বিদেশ যাত্রার রেওয়াজটা শুরু হয়ে শি জিনপিং-এর আমলে। ২০১৪ সালে নিউ জিল্যান্ড সফরের সময়েও চিনে তৈরি ‘হংকি’ নিয়ে গিয়েছিলেন শি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিনে উৎপাদিত গাড়ি তুলে ধরতেই শি এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে মনে করা হয়। ২০১২ সালেই তিনি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, চিনা নেতাদের উচিত সব সময়ে দেশে তৈরি গাড়িতে চাপা। সেটাই তিনি মেনে চলেন। তবে এটাও ঠিক যে, কোনও দেশে সফরে গিয়েই সে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরে পুরোপুরি নির্ভর করেন না চিনা রাষ্ট্রপ্রধানরা।

আরও পড়ুন

সুন্দরবনের  দুটি দ্বীপ, ভূমি হারানো মানুষ

Comments are closed.