শনিবার, মে ২৫

হারিয়ে গেছিল লুসি, ক্রিসের আকুতিতে তাকে খুঁজে দিল পুলিশ! দেখুন ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোর-ডাকাত খোঁজে তারা। খোঁজে নিখোঁজ মানুষ। দামী জিনিসপত্রও খোঁজে প্রায়ই। কিন্তু তারা যে ইঁদুরও খোঁজে, তা কি জানতেন! হারিয়ে যাওয়া ইঁদুর খুঁজে এনে কার্যত তেমনই অজানা রেকর্ড গড়লেন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ।

৫৯ বছরের ক্রিসের পোষা ইঁদুর হারিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছিলেন সাউথ ওয়েলসের পুলিশ। তার পরেই তারা সেই ইঁদুরকে খুঁজে এনে তুলে দেন ক্রিসের হাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি জানাজানি হতেই বিস্ময় ও মুগ্ধতা একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মধ্যে।

আসলে, ইঁদুরটি ছিল ক্রিসের নিত্যসঙ্গী। আর কেউই নেই ক্রিসের। ভবঘুরে জীবন কাটান তিনি। একটি বাক্সে ভরে ইঁদুরটিকে নিজের সঙ্গেই তিনি রাখতেন সব সময়।

কিন্তু কয়েক দিন আগে ইঁদুরটিকে ঘরে রেখে শৌচালয়ে যাওয়ার পর ফিরে এসে ক্রিস দেখেন, তাঁর ইঁদুর উধাও! সে ইঁদুর অবশ্য ক্রিসের কাছে মোটেও কেবল ইঁদুর নয়। আদরের সেই পোষ্যের নাম লুসি। লুসি হারিয়ে যাওয়ার পরে ক্রিস ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো লুসিকে চুরি করে নিয়ে গেছে।

তবু ইঁদুরটি ফিরে পাওয়ার আশায় একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি লিখে সবাইকে দেখাতে শুরু করেন ক্রিস। এর পরে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পেতে শুরু করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় লুসির ছবি রীতিমতো ভাইরাল করে দেন ক্রিসের প্রতিবেশীরা।

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দেখেই বিষয়টি নিউ সাউথ ওয়েলসের পুলিশ বিভাগের নজরে আসে। এর পরেই ক্রিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইঁদুরটিকে খুঁজতে শুরু করে পুলিশ। আর অসাধ্য সাধন করে, খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ লুসিকে পেয়েও যায়।

লুসিকে কী ভাবে খুঁজে পাওয়া গেল, তা একটি বিবৃতি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লুসিকে একা বসে থাকতে দেখে এক মহিলা ইঁদুরটিকে রাস্তা থেকে তুলে বাড়ি নিয়ে যান। কেউ তাকে ফেলে রেখে গেছে, এই ভাবনা থেকে তিনি ইঁদুরটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জেনেছে পুলিশ।

দেখুন ক্রিস-লুসি পুনর্মিলনের মুহূর্ত।

শেষমেশ তাকে খুঁজে এনে ক্রিসের হাতে তুলে দেয় পুলিশ। হারানো ইঁদুর খুঁজে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্রিস। পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, “লুসিকে খুঁজে পেতে সবাইকে অনেক বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেছি। ওকে খুঁজে পেয়ে এখন খুব ভালো লাগছে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমি জানি, লুসিও আমাকে খুবই মিস করেছে এই ক’দিন।”

Shares

Comments are closed.