শুক্রবার, মে ২৪

সপ্তাহে এক দিন হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করেন প্রধানমন্ত্রী! জানেন, কোন সে সুখী দেশ?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা যদি শনিবার হয়, আর দেশটা যদি ভুটান হয়, তবে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে আপনি দেখতে পাবেন, হাসপাতালে। না, চিকিৎসা করাতে যান না তিনি। যান, চিকিৎসা করতে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং পেশায় এক জন ইউরো-সার্জেন। তাই তাঁর সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারে, রীজনীতির গতি থেকে নেমে গায়ে এপ্রন চড়িয়ে নেন বছর পঞ্চাশের এই মানুষটি। হাতে তুলে নেন স্ক্যালপেল। ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতালে সারেন কোনও না কোনও রোগীর অস্ত্রোপচার।

তথ্য বলছে, ২০০৮ সালে ভুটানের রাজতন্ত্রের সমাপ্তির পরে তৃতীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে, ২০১৮ সালে সাড়ে সাত লাখ মানুষের ভোটে জিতে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন শেরিং। শেরিং বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রী হলেও, ডাক্তারি করাটা আমার কাজ। এবং এই কাজ এতই ভাল লাগার, যে এই কাজ আমার অবসর সময়ের সঙ্গী। কেউ অবসরে গলফ খেলে, কেউ শিকার করে, আর আমি সার্জারি করি। তাই আমার ছুটির দিনটা আমি হাসপাতালেই কাটাই।”

ভুটানের মানুষজনও এমনটায় দিব্যি অভ্যস্ত। হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে কেউ চোখ কপালে তোলে না। সবাই নিজের মতো কাজ করে, কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী শেরিংও। বহু বছরের পুরনো মলিন এপ্রনটা পরেই হাসপাতালের ব্যস্ত করিডোর ধরে পায়চারি করেন প্রধানমন্ত্রী। নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্যরা স্বাভাবিক ভাবেই তাঁদের কাজ করে যান।

বিশ্বের দেশগুলির নিরিখে ভুটানকে সুখী দেশ বলা হয়। এমনই অদ্ভুত সব স্বাভাবিক ঘটনা সে দেশের সুখের পাল্লা ভারী করে চলেছে প্রতিনিয়ত।

বাংলাদেশের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ও এফসিপিএস করার পরে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি। শুরু করেন চিকিৎসা। এর পরে ২০১৩ সালে রাজনীতিতে আসেন লোটে শেরিং। তবে সেই বার তাঁর দল জিততে ব্যর্থ হয়।

পরাজয়ের পরে, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক তাঁকে চিকিৎসকদের একটি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে দূরবর্তী গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। সেই থেকেই রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর চিকিৎসা করা শুরু। এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও, প্রতি শনিবার তিনি তাঁর কাছে রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা করেন। বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি অন্য ডাক্তারদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ দেন। এ সবের বাইরে রবিবার পরিবারকে সময় দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিংয়ের কার্যালয়ে, তাঁর চেয়ারেও ঝুলতে দেখা যায় একটি এপ্রন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য সেবা তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভুটানে স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীদের সরাসরি টাকা দিতে হয় না, কিন্তু শেরিং এটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, শিশু মৃত্যুর হার কমা, অনেক সংক্রামক রোগ নির্মূল হওয়া– ইত্যাদি বিষয়ে সম্প্রতি উন্নতি করেছে ভুটান।

শেরিং এর কাছ থেকে পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার সেরেছেন চল্লিশ বছরের এক রোগী বুমথাপ। তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছি, যাকে দেশের সেরা চিকিৎসক হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাই এখন আমি অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।”

শেরিংয়ের কাছে রাজনীতিও অনেকটাই ডাক্তারির মতো। তিনি বলেন, “হাসপাতালে আমি রোগীদের স্ক্যান করি, চিকিৎসা করি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও আমি নিয়মিত দেশের সরকারের স্বাস্থ্য স্ক্যান করি ও সেটিকে আরও ভাল করার চেষ্টা করি। আমৃত্যু আমি এটা করে যাব।”

Shares

Comments are closed.