শনিবার, মার্চ ২৩

পুলওয়ামায় হামলার ১০০ ঘণ্টার মধ্যে কাশ্মীরে জইশ নেতৃত্ব খতম, বলল সেনাবাহিনী

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবারই পুলওয়ামায় সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে জইশ ই মহম্মদের তিন জঙ্গি। মারা গিয়েছেন চার সৈনিক ও কাশ্মীর পুলিশের এক কনস্টেবল। এরপরে মঙ্গলবার সেনাবাহিনী জানাল, কাশ্মীরে আর কোনও জইশ নেতা নেই। পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা ১০০ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে পুরো জইশ নেতৃত্বকেই খতম করে ফেলা গিয়েছে।

ভারতীয় সেনার চিনার কোরের কম্যান্ডার কানওয়াল জিৎ সিং ধিলোঁ এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, আমরা জইশ নেতৃত্বের ওপরে নজর রাখছি। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, কাশ্মীর উপত্যকায় জইশ নেতৃত্বকে খতম করে ফেলা গিয়েছে। তাদের পাকিস্তান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হত।

কাশ্মীর উপত্যকার মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে কম্যান্ডার ধিলোঁ বলেন, আমরা মায়েদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, আপনাদের যে সন্তানেরা হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে, তাদের আত্মসমর্পণ করতে বলুন। কাশ্মীরে যেই হাতে অস্ত্র তুলে নেবে, সে যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাকে খতম করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলওয়ামায় জঙ্গি হানা নিয়ে তদন্ত এগিয়েছে অনেক দূর। তবে এখনই এসম্পর্কে কিছু জানানো হবে না। কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গি লড়াইয়ে নিরীহ মানুষের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা সংঘর্ষের সময় সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে বেরতে বারণ করি।

সোমবার জইশ জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে যে চার সৈনিক নিহত হয়েছেন, তাঁরা হলেন মেজর বিভূতিশংকর ধৌন্দিয়াল, সিপাই হরি সিং, হাবিলদার শেও রাম ও সিপাই অজয় কুমার। কাশ্মীর পুলিশের যে কনস্টেবল মারা গিয়েছেন, তাঁর নাম আবদুল রশদ কালাস।

যে তিন জইশ সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে কামরান। সে ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা হানার অন্যতম চক্রী এবং জইশের প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারের ঘনিষ্ঠ। কামরানই আত্মঘাতী জঙ্গি আদিল আহমেদ দারকে জইশ গোষ্ঠীতে ভিড়িয়ে নেয়। গত বৃহস্পতিবার আদিল স্করপিও গাড়িতে বিস্ফোরক নিয়ে সিআরপিএফের কনভয়ে ধাক্কা মেরেছিল।

অপর যে তিন সন্ত্রাসবাদী সোমবার খতম হয়েছে তাদের নাম হিলাল আহমেদ, রশিদ ও লোকমান। পুলিশের বক্তব্য, নিহতদের বিরুদ্ধে জঙ্গি হানায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। তবে পুলওয়ামার হামলায় তারা জড়িত ছিল কিনা তদন্ত করে দেখা হবে।

Shares

Comments are closed.