বুধবার, অক্টোবর ১৬

EXCLUSIVE: সময় কমবে পাঁচ ঘন্টা, হাওড়া থেকে দিল্লি এবার মাত্র ১২ ঘন্টায়!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে দিল্লির রেল সফরের সময় কমে যেতে পারে পাঁচ ঘণ্টা! একই ভাবে সময় কমতে পারে মুম্বই থেকে দিল্লির রেল সফরের সময়ও। কারণ, এই দুই রুটে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ট্রেন চালানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

আগামী চার বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের জন্য ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে কেন্দ্র। এর মধ্যে কলকাতা-দিল্লি রেল রুটের পরিকাঠামো বাড়ানোর জন্য ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুম্বই থেকে দিল্লি রুটের পরিকাঠামো বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থ বিষয়ক কমিটির অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তবে রেল সূত্রে বলা বলা হচ্ছে, চার বছর পরই সফরের সময় কমতে শুরু করবে এমন নয়। ৩১ অগস্ট থেকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে। ফলে সম্ভাবনা হল- কলকাতা থেকে দিল্লি যাত্রার সময় ধাপে ধাপে কমবে। অর্থাৎ আগামী বছরের মধ্যে সফরের সময় এক থেকে দেড় ঘন্টা কমে যেতে পারে।

কলকাতা থেকে দিল্লি- ১৫২৫ কিলোমিটার এই রেলপথে পর্যায়ক্রমে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলবে। যেমন যেমন কাজ এগোবে, তেমন তেমন ফল মিলতে শুরু করবে।

রেল মন্ত্রক ১০০ দিনের যোজনায় যে ১১টি প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল এই দুই প্রকল্প। কারণ, কলকাতা থেকে দিল্লি এবং মুম্বই থেকে দিল্লি-– এই দুই রেলপথই ভারতীয় রেলের ব্যস্ততম রুট। এই দুই রুটে মোট রেলযাত্রীর ৩০ শতাংশ যাতায়াত করেন। আবার রেলের মোট পণ্য পরিবহণের ২০ শতাংশই এই রুটে হয়।

বর্তমানে কলকাতা থেকে দিল্লি দ্রুততম ট্রেনটি সফরের জন্য ১৭ ঘণ্টা সময় নেয়। মূলত, রাজধানী এক্সপ্রেস ও দুরন্ত এক্সপ্রেস সব থেকে দ্রুত গতিতে চলে। সরকারের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ট্রেনে চেপে ১২ ঘণ্টায় হাওড়া-শিয়ালদহ থেকে দিল্লি যাওয়া যাবে।

মুম্বই থেকে দিল্লির রেল পথে দূরত্ব হল ১ হাজার ৪৮৩ কিলোমিটার। রাজধানী এক্সপ্রেসে চড়ে মুম্বই থেকে দিল্লি পৌঁছতে সময় লাগে সাড়ে ১৫ ঘণ্টা। সেই পথ ১০ ঘণ্টাতেই অতিক্রম করা যাবে।

দ্বিতীয় বার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরই সব মন্ত্রককে ১০০ দিনের প্ল্যান বানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ঠিক করে ফেলতে হবে, চলতি মেয়াদের মধ্যে কোন কোন কাজ শেষ অগ্রাধিকার দিয়ে শেষ করে ফেলতে হবে। তার কারণও রয়েছে। সরকারের প্রথম মেয়াদে নজরে পড়ার মতো কাজের কাজ হয়নি। ফলে রাজনৈতিক ইস্যুতে ভর করে ভোটে যেতে হয়েছে। পাঁচ বছর পর তার যাতে পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না হয়, সে জন্যই এ বার তড়িঘড়ি শুরু হয়েছে গোড়া থেকেই।

Comments are closed.