বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

দেশে দেশে ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছেন ইমরান, তোপ সিন্ধুর মুখ্যমন্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে পাকিস্তান। সাহায্য চাইতে রবিবারই আবু ধাবিতে গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এদিনই ইমরানকে কার্যত ‘ভিখারি’ বলে সমালোচনা করলেন তাঁর নিজের দেশেরই এক বড়ো মাপের রাজনৈতিক নেতা।

সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ এক জনসভায় বলেন, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট দূর করার জন্য ইমরান দেশে দেশে ভিক্ষা চেয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি এমন সব লোককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন যাদের কোনও অভিজ্ঞতাই নেই।

ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরিশাহি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য পাকিস্তানকে ৬২০ কোটি ডলার দেওয়া হবে। পাকিস্তানের ‘ডন’ সংবাদপত্রে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যুবরাজ মহম্মদ বিন জায়েদ অল নাহিয়ান রবিবার দু’দিনের সফরে পাকিস্তানে এসেছেন। তখনই তিনি ওই অর্থ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। গত অক্টোবরে সৌদি আরবও একই অঙ্কের অর্থ পাকিস্তানকে দেবে বলে ঘোষণা করেছিল। এর ফলে তেল ও গ্যাস আমদানিতে ৭৯০ কোটি ডলার বাঁচাতে পারবে পাকিস্তান। তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কমানোর জন্য কাতারের সঙ্গেও আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা।

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের মিত্র চিনও সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে। যদিও ঠিক কী পরিমাণ অর্থ দিয়ে চিন সাহায্য করছে জানা যায়নি। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের কাছেও ঋণ মাপ করার জন্য পাকিস্তান আবেদন জানিয়েছে। ইমরান চান, আইএমএফ তাঁদের ৮০০ কোটি ডলার ঋণ মাপ করুক। তবে পাকিস্তানের প্রশাসনের কর্তাদের ধারণা, ঋণ মাপ করতে হলে কঠোর শর্ত আরোপ করবে আইএমএফ। এই মুহূর্তে চিনের সঙ্গে একাধিক প্রকল্পে কাজ করতে চলেছে পাকিস্তান। ওই সব প্রজেক্টের মোট মূল্য ৬০০০ কোটি ডলার। আইএমএফ ওই প্রকল্পগুলির ওপরে কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে বলে ইসলামাবাদের আশঙ্কা।

এর আগে চিনের কাছেও বিপুল অঙ্কের অর্থ ঋণ নিয়েছিল পাকিস্তান। আমেরিকার ধারণা, আইএমএফ ঋণ ছাড় দিলে পাকিস্তান যে অর্থ বাঁচাতে পারবে, তা দিয়ে চিনের ঋণ শোধ করবে। তা যাতে না হয়, সেজন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইতিমধ্যে আমেরিকা পাকিস্তানকে সাহায্য করা কমিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের ধারণা, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়েছে। কিন্তু তার বিনিময়ে আফগানিস্তানে আমেরিকার শত্রুদেরই সাহায্য করে গিয়েছে। মূলত তালিবান জঙ্গিরা পাকিস্তানে ঘাঁটি বানানোয় চটেছে আমেরিকা। যদিও পাকিস্তানের দাবি, জঙ্গি দমনে তারা যথাসাধ্য করেছে।

Shares

Comments are closed.