মানবিক ও জরুরি প্রশ্ন তুলল স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ইতি অসীম’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই কলকাতা শহরেই খুব অল্প টাকায় তৈরি হওয়া স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি ‘ইতি অসীম’ জায়গা করে নিয়েছে তিনটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। আরও অনেকগুলি উৎসব থেকে আমন্ত্রণ এসেছে। যে চলচ্চিত্র উৎসবগুলিতে ছবিটির অফিশিয়াল এন্ট্রি হয়েছে, সেগুলি হল ‘অকল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল’, ইন্টারন্যাশনাল সাউন্ড এ্যান্ড ফিল্ম মিউজিক ফেস্টিভাল, ক্রোয়েশিয়া ও ‘নিউ ইয়র্ক সিটি ফিল্মস ইনফেস্ট’।

এর মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার ফেস্টিভালটি পুরোপুরি চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত সঙ্গীতের জন্য। ছবির সঙ্গীত অবশ্যই অরিজিনাল স্কোর হতে হবে এই চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পেতে গেলে। এ ছবির কাহিনী চিত্রনাট্য পরিচালনা, সুমন্ত্র চট্টোপাধ্যায়ের। ছবিটি তৈরি হয়েছে সুমন্ত্রর অনেক বন্ধুর অর্থানূকুল্যে। কর্পোরেট দুনিয়ার মানুষ সুমন্ত্র গল্প, নাটকও লেখেন। তাঁর লেখা বেশ কিছু নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে কলকাতায়। এটি ওঁর চতুর্থ স্বল্প দৈর্ঘ্যের কাহিনী চিত্র।

সুমন্ত্র চট্টোপাধ্যায়

ছবিতে অসীম নামে এক ভদ্রলোক ক্যানসারে মারা গিয়েছেন। রেখে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও বাইশ বছরের ছেলেকে, যে মানসিক ভারসাম্যহীন। অসীমের কলেজের বন্ধু অনীক এসেছে মিমি অর্থাৎ অসীমের স্ত্রীর সাথে দেখা করতে। অনীক অকৃতদার, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে এখন দেশে ফিরে চলে এসেছে। দুজনে পুরনো দিনের কথা বলে।

অনীক অসম্ভব অবাক হয় জেনে যে অসীমের এত বড় অসুখের কথা একদম শেষ সময়ের আগে মিমিও জানত না! মারা যাবার কিছুদিন আগে অসীম অনীককে একটা ফোন করেছিল। বলেছিল কিছুদিন পরে ওকে দরকার হবে, আর মিমি ফোন করবে। আসলে অনীকের জন্য একটা চিঠি রেখে গিয়েছে অসীম। সেই চিঠিটি নিতেই মূলত আজ অনীকের আসা।

গল্পের একটা অন্য মোড়ও আছে। বিয়ের অনেক বছর পরে মিমির সঙ্গে অনীকের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। অসীমকে ছেড়ে সে সময়ে মিমি চলেও গিয়েছিল। পরে অবশ্য ফিরে আসে। অসীম ওকে মেনেও নেয়। সেকথা ভেবে দুজনেই আজ সামান্য হলেও অস্বস্তিতে। চিঠি নিয়ে ফিরে আসে অনীক। অসীম লিখে গিয়েছে যখন সে জানতে পারল যে তার মারণ রোগ ধরেছে তখন অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। জানতে পারল চিকিৎসা অতীব ব্যয়সাধ্য। আর চিকিৎসা করালে সে বড়জোর এক বছর বাঁচবে। আর চিকিৎসা না করালে খুব বেশি হলে ছয় মাস। এই বাড়তি ছমাস জীবনের জন্য তাঁর স্ত্রী পুত্রকে পথে বসিয়ে দিয়ে যেতে তাঁর মন চায়নি। তাই স্ত্রীকেও কিছু জানাননি অসীম। ডাক্তারকে বলেছেন শুধু রোগের যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ দিতে। মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে মিমিকে সব বলে ক্ষমা চেয়ে গিয়েছেন। আর এখন চিঠিতে অনীককে সব বলে গেলেন। প্রশ্ন করে গেলেন ‘এই সভ্যতার আর বিজ্ঞানের অগ্রগতির মানে কী যদি একজন সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য পথে বসতে হয়?’

 

 

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More