লকডাউন ভাঙার জন্য যা শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমি লজ্জিত, বললেন পুলিশকর্তা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গত বুধবার দেশ জুড়ে লকডাউন চালু করেছে কেন্দ্র। বিধি না মেনে রাস্তায় বেরিয়ে শাস্তির মুখে পড়েছেন অনেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এমনই এক ভিডিওয় দেখা যায়, কার্ফু না মেনে রাস্তায় বেরোনর অপরাধে একদল তরুণকে রাস্তায় শাস্তি দিচ্ছে পুলিশ। তাদের পিঠে রয়েছে ভারী ব্যাগ। সেই অবস্থায় ছেলেগুলিকে হাত-পা মাটিতে রেখে লাফ দিয়ে এগোতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ভিডিও দেখে পুলিশের এক উচ্চপদস্থ অফিসার বলেছেন, তিনি লজ্জিত।

    ওই ভিডিও চিত্র তোলা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন শহরে। যাঁদের পুলিশ ওইভাবে শাস্তি দিচ্ছিল, তাঁরা ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিক। লকডাউনের মধ্যে তাঁরা বাড়ি ফিরতে চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশকে তাঁরা সেকথা বুঝিয়ে বলার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের কথায় কান দেয়নি। তাঁদের ওইভাবে লাফিয়ে এগোতে বাধ্য করা হয়েছে। অনেককে রাস্তায় হামাগুড়ি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

    বদায়ুন পুলিশের প্রধান এ কে ত্রিপাঠি বলেন, যে পুলিশকর্মীটি ওইভাবে ছেলেগুলিকে শাস্তি দিচ্ছিলেন, তাঁর বেশি অভিজ্ঞতা নেই। তিনি মাত্র একবছর পুলিশে চাকরি করছেন। সিনিয়র অফিসাররাও সেদিন পথে নেমেছিলেন। কিন্তু তাঁরা ডিউটি করছিলেন অন্যত্র। যা ঘটেছে তার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। আমি লজ্জিত।

    ভারতে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুসারে দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬৪৯। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪৭ জন বিদেশি নাগরিক। এছাড়াও সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪২ জন। সব মিলিয়ে সারা দেশে কোভিড ১৯ সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা এখন ১৬। শুধু দিল্লিতেই কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৯০০ জন।

    বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীর, গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রে মোট ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপত্যকায় এটা প্রথম মৃত্যু হলেও করোনার কোপে এই নিয়ে গুজরাতে বলি হয়েছেন ৩ জন, আর মহারাষ্ট্রে ৪ জন। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই বিদেশি নাগরিকের। তাঁদের মধ্যে একজন ইতালীয় পর্যটক, যাঁর মৃত্যু হয়েছিল জয়পুরে। দ্বিতীয়জন ফিলিপিন্সের বাসিন্দা, তাঁর মৃত্যু হয়েছে মুম্বইতে। বুধবার রাতে জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদে আক্রান্ত হয়েছে এক তিন বছরের শিশু। দেশের সর্বকনিষ্ঠ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এই শিশু সদ্যই সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিল বলে খবর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More