বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে, নইলে বিপর্যয় মোকাবিলায় লাগাতে পারতাম: মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন এলাকায় বুলবুল ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার পরদিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহও ফোন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। কেন্দ্র যেকোনও রকম সাহায্যের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছিলেন দু’জনেই।

নয়াদিল্লি-নবান্ন সে দিন কথোপকথন ঠিক কী হয়েছিল তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার দেখা গেল, আর্থিক অসহযোগিতা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুলবুল ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পর্যালোচনার জন্য এ দিন নবান্নে বৈঠক ছিল। তার পর সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে রাজ্যের পাওনা টাকা ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ বাংলা থেকেই কর আদায় করে ওই টাকা পায় কেন্দ্র। তাঁর কথায়, “ওই টাকাগুলো পেলে আমরা এই বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে লাগাতে পারতাম”।

কিন্তু প্রশ্ন হল, কোন টাকা রাজ্য পাচ্ছে না! যে কারণে বিপর্যয় মোকাবিলার কাজে অসুবিধা হচ্ছে? তা হলে কি বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রের তহবিল থেকে যে টাকা পাওয়ার কথা তা মোদী সরকার দিচ্ছে না? এ প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণের টাকা দেবে। ওদের একটা টিমও রাজ্যে আসার কথা। তিনি বলেন, “ওখান থেকে টাকা দিলে নিশ্চয়ই আপনাদের জানাব।”

পরে নবান্ন সূত্রে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী টাকা আটকে রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গে বুলবুলের সম্পর্ক নেই। একশ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সহ দশ রকম খাতে কেন্দ্র রাজ্য সরকারকে অনুদান দেয়। সেই সব খাতে কেন্দ্রের থেকে বহু কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে নবান্নের দাবি।

যদিও কেন্দ্রেরও পাল্টা বক্তব্য রয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এক কর্তার কথায়, টাকা আটকে রাখার ব্যাপার এখন নেই। কাজ ঠিক মতো সম্পূর্ণ হলে টাকা ট্রান্সফার হয়ে যায়। তাঁর কথায়, বিভিন্ন খাতের হিসাব না দেখে বলা মুশকিল। তবে আপাত ভাবে বলা যায় যে রাজ্য কাজ করেছে অথচ দিল্লি টাকা না দিয়ে চেপে রেখেছে-এরকম কখনও হয় না।

প্রসঙ্গত, বুলবুল-বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি গিয়েছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কাকদ্বীপে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর গন্তব্য ছিল বসিরহাট। সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে এসে বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।

নবান্নের বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বুলবুলের জন্য। ১৫ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে। ১৬ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন ভাবে দুর্যোগ কবলিত। এর মধ্যে ৬ লক্ষ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই বুলবুল-বিধ্বস্ত এলাকাগুলিতে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যাঁরা মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক করছেন,তাঁদের বলব মানুষের পাশে দাঁড়ান। রাজনীতি সবসময় থাকবে। আমরাও অনেকে রাজনীতি করতে পারি। অনেক কিছু হয়েছে। দুটো মানুষকে নিয়ে ভাঙচুর করা খুব সহজ। কিন্তু, যেটা ভেঙে গেছে সেটাকে ঠিক করা অনেক কঠিন।”

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ জলের পাউচ দেওয়া হবে। এর মধ্যেই ১০ লক্ষ পাউচ বিতরণ হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা গিয়েছে। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়া এলাকাগুলির জন্য কেরোসিন তেল ও হ্যারিকেনের ব্যবস্থাও সরকার করছে। তা ছাড়া প্রতিটি পরিবারকে একটি করে কিট সেবে সরকার। তার মধ্যে থাকবে কম্বল, ত্রিপল, চাল, ডাল, শুকনো খাবার, কিছু সাধারণ ওষুধ, বেবি ফুডের মতো জিনিস। এই কিটগুলি তৈরি হতে আরও দিন সাত-আটেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

Comments are closed.