বুধবার, জুন ২৬

আলিপুরদুয়ার কাণ্ড: সরানো হল ফালাকাটার আইসি-কে, কোচবিহার থেকে এলেন নতুন আইসি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুরদুয়ারের ডিএমকে বদলি করার পরে এবার সরিয়ে দেওয়া হল ফালাকাটার আইসিকেও। তাঁকে কোচবিহারে পাঠিয়ে, কোচবিহারের আইসিকে আনা হল ফালাকাটায়।

স্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে থানায় ঢুকে ধৃত যুবককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মলের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযোগ, এই গোটা পর্বে নির্বাক দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ। থানার ভিতরে আইসি-সহ অন্য পুলিশদের সামনেই ঘটেছে গোটা মারধরের পর্ব।

প্রশ্ন উঠেছে, পদাধিকার যা-ই থাকুক, তার জোরে কাউকে মারধর করলে, তা-ও আবার থানার ভিতরে ঢুকে– সেটা কি চোখের সামনে দেখেও পুলিশের চুপ করে থাকার কথা? যদিও এক পক্ষের যুক্তি, ওই পরিস্থিতিতে, খোদ জেলাশাসকের ওই রুদ্রমূর্তি দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিল উপস্থিত পুলিশ। হাজার হোক, তিনি ক্ষমতায় এবং পদে জেলাশাসকের চেয়ে অনেক নীচে।

কিন্তু অন্য পক্ষের দাবি, ক্ষমতার সমীকরণ যা-ই হোক না কেন, থানার ভিতরে এই জুলুম বরদাস্ত করা উচিত নয়। সে যিনিই করুন না কেন। তা হলে তো ধরে নিতে হয় আইন-প্রশাসন বলে কিছুই নেই। নেই কোনও নিয়ম বা শৃঙ্খলাও। যা আছে সবই ক্ষমতার জোর।

এই বিতর্কের মধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হল ফালাকাটা থানার আইসি সৌম্যজিৎ রায়কে। কোচবিহার কোতোয়ালিতে বদলি করা হয়েছে তাঁকে। বদলে কোচবিহার থেকে সমীর পালকে আনা হল ফালাকাটায়। সূত্রের খবর, ঘটনা চলার সময়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ করল প্রশাসন।

রবিবার রাত থেকে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল রাজ্য প্রশাসনে। একটি ভিডিও ফুটেজে স্তম্ভিত হয়ে যায় গোটা দেশ। এক জন ডিএম কি না স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে থানায় ঢুকে পেটাচ্ছেন অভিযুক্তকে। আলিপুরদুয়ারের ডিএম নিখিল নির্মল এবং তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণের সেই কাণ্ডের পর অনেক দূর জল গড়িয়েছে। সোমবারই তাঁকে ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছে নবান্ন। মঙ্গলবার সাত ঘণ্টার জন্য উধাও হয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক বিনোদ সরকার।

বিনোদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ফেসবুকের একটি গ্রুপে ডিএম-এর স্ত্রীকে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এই অভিযোগে প্রথমে তাঁকে থানায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী এসে শুরু করেন ‘তাণ্ডব।’ ওই ভিডিও ফুটেজে শোনা গিয়েছিল, ডিএম বলছেন, “আমার জেলায়, আমার উপরে কেউ কথা বলবে না।” এবং গোটা ফুটেছে পুলিশ ছিল কার্যত নির্বাক দর্শক। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় ওই ভিডিও। দ্য ওয়ালই প্রথম ওই খবর প্রকাশ করেছিল।

পরের দিন আদালত চত্বরে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন বিনোদ। বলেন, “আগে আমায় গালিগালাজ করেছিল। তার পরে আমি করেছি। আমি জানতাম না উনি ডিএম-এর স্ত্রী। আর আমি যদি দোষী হই, তাহলে আদালতে আমার বিচার হবে। ডিএম এবং তাঁর স্ত্রী আমায় মারলেন কেন?” এই অভিযোগের পরেই আরও এক বার উস্কে যায় পুলিশের নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ।

বুধবার আইসি বদলির পরে আরও একটু ঘন হল ঘটনার জট। এর পরে নতুন আইসি-র কোনও বিশেষ ভূমিকা থাকে কি না, সেটাই  দেখার।

Comments are closed.