বুধবার, মার্চ ২০

ভারতীয়দের চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব, মামলা আইবিএমের বিরুদ্ধে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্ববিখ্যাত তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা আইবিএমের পরিচালকরা কিছুদিন আগে আলোচনা করেছিলেন, কীভাবে তরুণ কর্মীদের নিয়োগ করবেন এবং বিদেশ থেকে কাজ করিয়ে নেবেন। এই নিয়ে আমেরিকায় মামলা হয়েছে সংস্থার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, কর্মীদের গড় বয়স যাতে কম থাকে সেজন্য বহু প্রবীণ কর্মচারীকে ছাঁটাই করেছে তারা। দ্বিতীয়ত বিদেশ থেকে কাজ করিয়ে নিলে আমেরিকার নাগরিকদের চাকরি না পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আইবিএমের পরিচালকরা যে মিটিং-এ ওই বিষয়গুলি আলোচনা করেছিলেন, তার কয়েকটি নথিপত্র আদালতে পেশ করা হয়েছে। বিচারপতির কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, ওই মিটিং-এর বাকি নথিপত্রও আইবিএমকে প্রকাশ্যে আনতে বলা হোক। যিনি এই আবেদন জানিয়েছেন, তিনি নিজে অই সংস্থার একজন প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ। বয়স হয়ে যাওয়ার অজুহাতে তাঁকে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আদালতে আইবিএমের যে নথিপত্র জমা পড়েছে, তাতে দেখা যায়, কর্তারা আলোচনা করছেন, প্রথমত, কর্মীদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তির সংখ্যা যেন বেশি না হয়। দ্বিতীয়ত, কোস্টা রিকা ও ভারতের মতো দেশ থেকে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নেওয়া যায় কীভাবে। আইবিএমের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ গত ৪ জানুয়ারি আদালতে বলেন, আদালতে ওই সংস্থার যে নথিপত্র জমা পড়েছে, তা অস্বীকার করছেন না কেউ। কিন্তু আইবিএম অই মিটিং-এর অন্যান্য নথি পেশ করতে চাইছে না।

ব্লুমবার্গ আগেই জানিয়েছিল, নিঃশব্দে বহু লোককে ছাঁটাই করছে আইবিএম। কিন্তু সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার জিন্নি রোমেটি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তাঁরা আমেরিকায় ২৫ হাজার লোককে চাকরি দেবেন। ২০১৬ সালে আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থার কর্তারা। তখনই জিন্নি ওই ঘোষণা করেন। তাতে অসন্তুষ্ট হন আইবিএমের কর্মীরা। তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় রাগের কথা প্রকাশ করেন।

গত বছর প্রো-পাবলিকা নামে এক সংস্থা আইবিএমের বেশ কিছু নথিপত্র প্রকাশ করে। তাদের দাবি, ওই সংস্থা আমেরিকার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন ভেঙেছে। বয়স্ক কর্মীদের প্রতি অবিচার করেছে। আইবিএম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আমরা কর্মীদের দক্ষতার কথা বিবেচনা করি। বয়স নিয়ে মাথা ঘামাই না।

২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইবিএমের কর্মীর সংখ্যা কমেছে ৫৪ হাজার। আমেরিকা, কানাডা ও অন্যত্র যাঁরা বেশি বেতনের চাকরি করতেন, মূলত তাঁদেরই ছাঁটাই করা হয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং আর মোবাইল টেকনলজির ক্ষেত্রে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে চলেছে, সেই প্রেক্ষিতেই খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই সংস্থা। গুগল, মাইক্রোসফটের মতো কোম্পানি এখনও চেষ্টা করছে যাতে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।

Shares

Comments are closed.