সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

মানুষের কথা বলব কী, আমারই কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে! পদত্যাগ করলেন কেরল বন্যার কাজে প্রশংসিত আইএএস অফিসার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব হচ্ছে, এমন অভিযোগ করে পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আরও এক আইএএস অফিসার কান্নান গোপীনাথ। জানালেন, তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ করছে প্রশাসন।

গোপীনাথের দাবি, কাশ্মীরের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই সরকারি চাকরি ছাড়ছেন ৩৩ বছর বয়সি কান্নান। যদিও ইস্তফাপত্রে কাশ্মীর শব্দটি এক বারও উল্লেখ করেননি তিনি। কয়েক মাস আগেই দেশ জুড়ে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে আইএসএসের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে নেমেছিলেন শাহ ফয়জল নামের এক যুবক৷ সে পথেই হাঁটলেন গোপীনাথ।

ইস্তফাপত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গোপীনাথ লিখছেন, “আমি ভেবেছিলাম, সিভিল সার্ভিসে থেকে মানুষের বক্তব্য তুলে ধরতে পারব। দেখলাম আমারই কণ্ঠ রুদ্ধ  করে দেওয়া হচ্ছে, আমি আর কী বলব মানুষের কথা।” গোপীনাথের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ গোপীনাথ। তাঁর কথায়, “মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অর্থ জরুরি অবস্থা জারি হওয়া।”

পদত্যাগ করার পরে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে গোপীনাথ বলেন, “৩৭০ ধারা তুলে দেওয়াটাই একমাত্র সমস্যা নয়। সমস্যা হল, জম্মু ও কাশ্মীরে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অথচ, সবাই চুপ! ২০১৯ সালে এটা ভাবা যায় না।”

২০১২ ব্যাচের এই আইএএস সাত বছরের কেরিয়ারে বহু বার প্রশংসিত হয়েছেন নানা কারণে। গত বছর কেরলের বন্যার সময়েও ত্রাণের কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। নিজের আমলা পরিচয় গোপন রেখেই ত্রাণ শিবিরের কাজে হাত লাগিয়েছিলেন।

শুধু তা-ই নয়, বিপুল লোকসানে চলা দাদরা নগর হাভেলির বিদ্যুৎ দফতর তাঁরই প্রশাসনিক দক্ষতায় লাভ করতে শুরু করে। এমনকী মিজোরামে তাঁর অনুপ্রেরণায় ৩০টি ব্যাডমিন্টন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেছেন খেলোয়াড় পুলেল্লা গোপীচাঁদ।

গোপীনাথের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, তিনি বরাবরই পেশার ক্ষেত্রে সৎ। দেশের মানুষের সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আইএএস অফিসার হয়েছিলেন। ইস্তফার পরে গোপীনাথের বক্তব্য, ‘‘আমার ইস্তফায় পরিস্থিতির বদল হবে না। কিন্তু আমি আমার বিবেকের কাছে স্বচ্ছ।’’

গোপীনাথের এই সিদ্ধান্তে অনেকে অভিনন্দন জানালেও, এমনটা মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। এমনকী তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এতে গোপীনাথের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘দেশের স্বার্থে আমি দেশ-বিরোধী তকমা সহ্য করতেও রাজি।’’ 

যদিও গোপীনাথের ইস্তফা এখনও গৃহীত হয়নি। এক উচ্চপদস্থ কর্তা এ বিষয়ে বলেন, ‘‘কেউ ইস্তফা দিতেই পারেন। তবে উনি ইস্তফার কারণ জানাননি। সরকার বিষয়টি দেখবে।’’

Comments are closed.