শুক্রবার, জুন ২১

প্রেমিকা পাশে না থাকলে এই সাফল্য আসত না! অকপট কথায় মন কেড়ে নিলেন ইউপিএসসি টপার কনিষ্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়াশোনা করতে করতেই ছেলে প্রেমে পড়েছে বলে, কতই না বকাবকি করেছেন আপনি! কত বারই না বুঝিয়েছেন, এ সব করলে পড়াশোনায় ক্ষতি হবে। শিখিয়েছেন, পড়াশোনায় উজ্জ্বল স্থান অধিকার করতে গেলে প্রেম থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। আর এরকমই নানা উপদেশে আপনার সন্তান প্রেম করলেও তা করেছে লুকিয়েচুরিয়ে। ভারতবর্ষে এমনটাই যেন দস্তুর। সমাজের ও বয়োজ্যেষ্ঠ্যদের চোখরাঙানি অতিক্রম করে, চাকরি পাওয়ার পরে প্রেমিকার পরিচয় পরিবার ও সমাজকে জানানোই যেন অলিখিত নিয়ম।

কিন্তু সেই স্টিরিওটাইপকেই ভেঙে খানখান করে দিলেন ইউপিএসসি-র টপার রাজস্থানের কনিষ্ক কাটারিয়া। জীবনের একটি অন্যতম প্রধান লড়াইয়ে জেতার পরে মা, বাবা, বোনের সঙ্গে নিজের প্রেমিকার অবদানকেও প্রকাশ্যে স্বীকৃতি জানালেন ২৬ বছরের তরুণ। পরোয়া করলেন না সমাজের চোখরাঙানির। ‘লোকে কী বলবে’ নামের অদৃশ্য পর্দাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে স্পষ্ট গলায় জানিয়ে দিলেন, গার্লফ্রেন্ড পাশে না থাকলে এই সাফল্য আসত না।

 

সপরিবার।

শনিবার ইউপিএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির (আইআইটি) মুম্বই শাখার বি-টেক কনিষ্ক বলেছেন, ‘‘এটা আমার কাছে একটি অসাধারণ মুহূর্ত। এই পরীক্ষায় প্রথম হবো, এমনটা আমি আশাই করতে পারিনি। আমাকে সাহায্য করা ও নৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য আমি আমার মা, বাবা, বোনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বলতে চাই আমার প্রেমিকার কথাও। ও আমায় প্রতিনিয়ত সাহায্য ও মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। ওরা সকলে আমাকে এক জন দক্ষ প্রশাসক হিসেবে দেখতে চাইছে। আর সেটা হয়ে ওঠাটাই আমার লক্ষ্য।’’

অকপট কনিষ্কর এই স্বীকৃতি শুনে বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়েছে গোটা দেশ। সিভিল সার্ভিসে প্রথম স্থান পাওয়া নতুন নয়। কিন্তু এই প্রথম সে সাফল্য কেউ পরিবারের পাশাপাশি প্রেমিকাকেও উৎসর্গ করলেন। সমস্ত অচলায়তন ও সংরক্ষণশীলতা ভেঙে যেন জানিয়ে দিলেন, প্রেমিকাও পরিবারের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকেও স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।

সিভিল সার্ভিসে এবার পাশ করেছেন মোট ৭৫৯ জন। খুব তাড়াতাড়িই আইএএস, আইপিএস, আইএফএস পদে চাকরিতে যোগ দেবেন উত্তীর্ণরা। ‌‌

আরও পড়ুন…

ইউপিএসসি-র শীর্ষে আআইটি-র প্রাক্তনী কনিষ্ক কাটারিয়া

Comments are closed.