সমর্থকদের আবেগ বুঝি, ইস্টবেঙ্গলের কোচিং আমার কাছে চ্যালেঞ্জের, জানালেন কোচ ফাউলার

২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : লাল হলুদ কোচিংয়ের দায়িত্ব তিনি যে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে চান, সদম্ভে জানিয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের প্রাক্তন নামী স্ট্রাইকার রবি ফাউলার। যিনি ২৪ ঘন্টাও হয়নি লাল হলুদ দলের হেডস্যার হয়েছেন, কিন্তু কাজটিকে তিনি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটি বুঝিয়ে দিলেন কলকাতার সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে।
তিনি নিজেই ইস্টবেঙ্গলের মিডিয়া ম্যানেজার মারফৎ সকালেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, কলকাতার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। সেই মতোই প্রশ্ন চাওয়া হয়, সেই প্রশ্নের নানা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন লিভারপুল কিংবদন্তি। ফাউলার বলেই দিয়েছেন, ‘‘আমি লিভারপুলে খেলেছি দীর্ঘদিন, প্রায় দশবছর। আমি জানি সমর্থকদের আবেগ, সেই কারণেই বলতে চাই ইস্টবেঙ্গলে কোচিং করানো আমার কাছে বিশেষ চ্যালেঞ্জের। সমর্থকদের সঙ্গে আমি চলতে ভালবাসি, ওদের সম্মান করি।’’

ফাউলার ফুটবলার হিসেবে সুপারস্টার, বেকহ্যাম, ল্যাম্পার্ড, জেরার্ডদের প্রিয় সতীর্থ, যাঁকে লিভারপুলের অ্যানফিল্ড স্টেডিয়ামের দর্শকরা ডাকতেন ‘গড’ বলে। মানে ঈশ্বর, কারণ তিনি এতবার পিছিয়ে পড়া লিভারপুলকে গোল করে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন ইয়ত্তা নেই। তাই লিভারপুলের লাল রং এবার তিনি পড়তে চলেছেন ইস্টবেঙ্গলে এসে।

সব থেকে বড় বিষয় হল এদিনের প্রেস মিটে তিনি নিয়ে এসেছিলেন তাঁর সহকারি অ্যান্তোনিও গ্রান্টকে। ৪৫ বছর বয়সী লাল হলুদের নয়া কোচ বলেছেন, ‘‘আমি যে ক্লাবের দায়িত্ব নিলাম, সেই ক্লাবটির বয়স এবার ১০০, সেই কারণেই এই ক্লাবের বিশেষ আবেগ রয়েছে, সমর্থকদের সেই চাওয়াকে আমি গুরুত্ব দিতে চাই, আমি প্রস্তুত।’’

যিনি ফুটবল জীবনে অগণিত ডার্বি ম্যাচ খেলেছেন, সেই নামী প্রাক্তন মহাতারকাকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘‘আমি শুনেছি এখানে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বড় আকার নেয়, আমি সব জেনে নিয়েছি এর মধ্যেই। আমিও তো জীবনে বহু ডার্বি খেলেছি, জানি ওই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা, রোমাঞ্চে ভরা।’’

তিনি জানেন তাঁর কাজটি কঠিন হবে। মোহনবাগান দল ছাড়া অন্যান্য দল যখন শিবির শুরু করে দিয়েছে, তিনি ভারতে আসতেই পারলেন না। কিন্তু দলের সহকারি কোচ রেনেডি সিংয়ের সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়েছে। তিনি দলের ফুটবলারদের সম্পর্কে সব তথ্যই নিয়েছেন। সেই জন্যই বলেছেন, ‘‘আমি ভারতীয় ফুটবলারদের সম্পর্কে জেনেছি, আমার ওদের স্কিল ভাল লেগেছে। তবে আমরা দেরিতে শুরু করছি, তাই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।’’
দলের ড্রেসিংরুমের মধ্যে পরিবেশ, ও দলের ফুটবলারদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই যে একটা চ্যাম্পিয়ন দলের ভিত হতে পারে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের প্রাক্তন সদস্য। ফাউলার অবশ্য মানছেন, তিনি যেহেতু একটা ভাল সাপোর্ট স্টাফ নিয়ে আসছেন, সেই জন্যই সমস্যা হবে না দ্রুত মানিয়ে নিতে।
ফুটবলার হিসেবে তিনি বিশ্বখ্যাত, কিন্তু কোচ হিসেবে নন। ২০১২ সালে তাঁর কোচ হিসেবে পথ চলা শুরু হয়েছিল। সেবার কোচ ছিলেন মুয়াঙথঙ ইউনাইটেড, তারপর গত মরসুমে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবে। সেই দলে সাফল্য ভালই, কিন্তু স্বীকৃত ও পরীক্ষিত কোচ বলতে যা বোঝায়, তিনি তা নন, তাই লাল হলুদের কোচ হিসেবে তাঁর পথ যে কন্টকাকির্ণ হবে, বলাই চলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More