বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

বাংলায় হিংসার পরিবেশ দেখে কষ্ট হচ্ছে, অর্জুনকে দেখে বেরিয়ে এসে বললেন রাজ্যপাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাম জমানায় বাংলায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা দেখে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী বলেছিলেন, ‘হাড় হিম করা সন্ত্রাস।’

সোমবার আহত বিজেপি নেতা তথা ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং-কে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন,“বাংলায় হিংসার ঘটনা দেখে আমার কষ্ট হচ্ছে”। তাঁর কথায়, “সাংবিধানিক পদে থেকে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে বাংলায় আইনের শাসন কায়েম থাকুক। হিংসা, সন্ত্রাস বন্ধ হোক। বাংলায় উন্নয়নের পথে হাঁটুক”।

রবিবার শ্যামনগরে পার্টি অফিস দখল করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল-বিজেপি উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই থেকে হাতাহাতি, মারামারি। তার রীতিমতো হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে সেখানে যতক্ষণে পৌঁছন অর্জুন সিং তখন বিশাল পুলিশ বাহিনীও পৌঁছে গিয়েছে সেখানে। তার পরই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মাথা ফাটে বিজেপি সাংসদের। তিনি অবশ্য অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় পুলিশ সুপার মনোজ ভার্মা বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় মেরেছেন।

সোমবার ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকায় বনধ ডেকেছিল বিজেপি। কিন্তু পরিস্থিতি এখনও অগ্নিগর্ভ। বিক্ষিপ্ত ভাবে এলাকায় হিংসার ঘটনা চলছেই।

এ সবের মাঝেই এ দিন অর্জুনকে দেখতে হাসপাতালে চলে যান রাজ্যপাল। বাইরে যখন এমন পরিস্থিতি তখন রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা নিয়ে সোমবার বিধানসভাও উত্তাল হয়। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, সারা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। একটা চক্রান্ত হচ্ছে। সরকার সঠিক পদক্ষেপ করুক। জবাবে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলেছেন, একটা ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এর অতিরিক্ত কিছু বলার নেই।

তবে বিরোধীদের অনেকের মতে, লোকসভা ভোটের পর থেকে যে ভাবে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল অস্থির হয়ে রয়েছে, তার নেপথ্যে শাসক দলের কোনও নকশা থাকতেই পারে। তাঁদের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই শাসক দল ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে। নইলে কিছু সমাজবিরোধী রোজ অশান্তি পাকাচ্ছে, বোমাবাজি চালাচ্ছে আর পুলিশ দু’মাস ধরে কিছু করতে পারছে না? এমনও হয়? ব্যারাকপুরে কি সেনা নামাতে হবে? তাঁদের কথায়, আসলে তৃণমূল দেখাতে চাইছে বিজেপি-কে জিতিয়ে আনলে আগামী দিনে এমনই পরিস্থিতি হবে। সেই কারণেই হয়তো এমন হচ্ছে।
শ্যামনগরের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এখনও খুব বেশি সরব নয়। বরং পুলিশ তদন্ত করছে বলে চুপ রয়েছে। তবে রাজ্যপালের কথায় সরকারের যে অস্বস্তি হচ্ছে সে বিষয়ে সংশয় নেই।

Comments are closed.