মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৮
TheWall
TheWall

আট বছর আগে হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিল ফেসবুক!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আট বছরের ছেলেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন মা। তার আট বছর পরে ফেসবুক মিলিয়ে দিল তাদের! মা খুঁজে পেলেন হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে। সে দিনের শিশু এখন কিশোর হয়েছে। তাতে কী! মায়ের চোখ চিনতে ভুল করেনি মোটেই। হায়দরাবাদের এই অভূতপূর্ব ঘটনায় নেটিজেনরা বলছেন, ফেসবুকের এই উপযোগিতার কথা ভোলা যাবে না কোনও দিন।

২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি হায়দরাবাদের বাসিন্দা সুসান্না জেনা হায়দরাবাদের খুশাইগুদা থানায় একটি মিসিং ডায়েরি দায়ের করেন। জানান, তাঁর ছেলে দীনেশ জেনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দাদা দীপকের সঙ্গে ঝগড়া করে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে বলে জানান তার মা। তদন্ত চালিয়েও কোনও সূত্র মেলেনি তখন। ছেলের অপেক্ষায় রয়ে গিয়েছেন শোকার্ত মা। সমস্ত চেনাজানার মধ্যে খোঁজাখুঁজি করেছেন। বাকি রাখেননি কোনও থানা, হাসপাতাল। কিন্তু সবই ব্যর্থ হয়। দীনেশ ঘরে ফেরেনি।

পুলিশ কমিশনার মহেশ ভগত জানিয়েছেন, “আমাদের খাতায় আট বছর আগে নিখোঁজ ডায়েরি রয়েছে। আমরা খুঁজেছিলাম ছেলেটিকে, কোথাও কোনও সূত্র পাইনি।”

এত দিন পরে, হঠাৎই সুসান্না জেনা ফের হাজির হন থানায়। মোবাইল খুলে পুলিশদের একটি ফেসবুক প্রোফাইল দেখান। দাবি করেন, ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে এই প্রোফাইলের খোঁজ পেয়েছেন তিনি। এই প্রোফাইলের ছবির সঙ্গে তাঁর ছেলের মুখের মিল রয়েছে। নামও মিলে যাচ্ছে। তিনি ফেসবুকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে তিনি অনুরোধ করেন, প্রোফাইলের মালিককে খুঁজে বার করে দিতে।

দীনেশের যে ছবি দেখে চিনতে পারেন মা।

মহেশ ভগত বলেন, “ওই প্রোফাইলের বিস্তারিত বিবরণ-সহ নতুন করে একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন সুসান্না জেনা। ফেসবুকে ওই প্রোফাইলের নাম লেখা ছিল, দীনেশ জেনা লিমা। আমরা সাইবার দফতরের সাহায্যে খোঁজ নিতে শুরু করি। তদন্তে জানা যায়, ওই প্রোফাইলটি অমৃতসরের রানাকলা গ্রাম থেকে কেউ চালাচ্ছেন।”

হায়দরাবাদ পুলিশের একটি দল রওনা দেয় পঞ্জাব। অমৃতসরের ওই গ্রামে পৌঁছে খুঁজে বারও করে দীনেশকে। পুলিশ জানিয়েছে, রানাকলা গ্রামের জমির মালিক সুখরাজ সিংয়ের অধীনে জনমজুর খাটছিল দীনেশ। সুখরাজের পরিবার অবশ্য তার ওপরে কোনও অত্যাচার করেনি বলেই জানা গিয়েছে তদন্তে। বরং সুখরাজের দাবি, তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন, দীনেশের পরিবারের খোঁজ পাওয়ার।

সুখরাজ উল্টে পুলিশকে জানিয়েছেন, দীনেশ স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়ে চলে এসেছিল। কিছু দিন পরে দুবাই চলে যাওয়ারও পরকল্পনা করছিল। পুলিশও পাল্টা অনুসন্ধানে জেনেছে, আট বছর আগে দাদা দীপকের সঙ্গে ঝগড়া করেই ঘর ছেড়েছিল দীনেশ। সঙ্গে নিয়েছিল দু’হাজার টাকা। তার তখন বয়স অনেক কম। ধারণা ছিল, দু’হাজার টাকায় দুবাই পৌঁছে যাবে সে।

শেষমেশ দীনেশকে নিয়ে হায়দরাবাদে ফিরে আসে পুলিশের দল। তাকে দেখে মা সুসান্না নিশ্চিত হন, এই ছেলেই তার হারিয়ে যাওয়া দীনেশ। এত বছর পরে মায়ের কাছে ফিরে খুশি দীনেশও। বলে, “আমি ফিরচে চাইনি, এ কথা ঠিক। কিন্তু ফেসবুকে যে মা এভাবে আমায় খুঁজে পেয়ে যাবে, ভাবতে পারিনি। আট বছরে আমার মা অনেক আধুনিক হয়ে গিয়েছে, আমি জানতে পারিনি।”

Share.

Comments are closed.