বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর আত্মীয়দের গণপ্রহার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে হত্যা করার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। কেতুগ্রামের খাটুঙ্গি গ্রামের ঘটনা। এর জেরে অভিযুক্তের দুই আত্মীয়কে গণপ্রহার করে মৃতার বাপের বাড়ির আত্মীয়রা। মৃতার নাম ছন্দা মাঝি (২৫)। অভিযুক্ত রবিন মাঝিকে আটক করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।

    বছর পাঁচেক আগে বিয়ে হয় রবিন ও ছন্দার। তাঁদের এক বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিল্লিতে একটি চটকলে কাজ করেন রবিন। বছরে বার দুয়েক তিনি বাড়িতে ফেরেন। দিল্লিতে তাঁর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে জানাজানি হয়ে যায়। এই সম্পর্কের কথা জেনে তার প্রতিবাদ করেন ছন্দা। রবিন বাড়িতে এলেই এনিয়ে স্ত্রী ছন্দার সঙ্গে অশান্তি লেগেই থাকত, ছন্দা এই প্রসঙ্গ তুললেই রবিন তাঁকে মারধর করত বলে অভিযোগ।

    নিহত ছন্দা মাঝির শোকার্ত পরিবার

    কয়েক দিন আগে দিল্লি থেকে বাড়িতে ফিরেছে রবিন। ফের এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হওয়ায় কেতুগ্রামের চড়কিতে বাপেরবাড়িতে চলে যান ছন্দা। শুক্রবার সকালের দিকে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে ছন্দাকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলে রবিন। ছন্দার এক সম্পর্কিত বৌদি তাঁকে নিয়ে রবিনের বাড়িতে যান।

    অভিযোগ, তাঁরা পৌঁছাতেই ছন্দাকে জোর করে বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে নেয় রবিন। ছন্দার বাপের বাড়ির লোককে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই আত্মীয়দের এ কথা ফোন করে জানান সম্পর্কিত ওই বৌদি। আত্মীয়রা এলে তাঁদেরও একই হুমকি দেয় রবিন। এরপর বাড়ির ভিতর থেকেই ছন্দা তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে বলেন চলে যেতে। তাঁর কথা শুনে পরিবারের লোকজন ফিরেও যান।

    সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন ফোন করেন ওই গ্রামের এক পরিচিতের বাড়িতে। জানতে চান ছন্দা কেমন আছে। তখনই জানতে পারেন যে ছন্দা অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে ওই আত্মীয়ের কাছেই জানতে পারেন, চড় মারা হয়েছিল ছন্দাকে।

    ছন্দার পরিবারের লোকেরা রাতেই কাটোয়া হাসপাতালে যান, সেখানে গিয়ে তাঁরা ছন্দাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ছন্দা মারা গেছে শুনেই হাসপাতাল থেকে রবিন চম্পট দিয়েছে বলে জানতে পারেন ছন্দার পরিবারের লোকজন।

    শনিবার ময়না তদন্তের কথা থাকায় ছন্দার বাপের বাড়ির পরিবার ও আত্মীয়রা কাটোয়া হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেন সকাল থেকেই। বেলা এগারোটা নাগাদ রবিন ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন লোক হাসপাতালে হাজির হয়। তখনই রবিন মাজিকে আটক করে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।

    তার কিছুক্ষণ পরে ছন্দার বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে রবিনের বাড়ির লোকজনের বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পরে ছন্দার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল চত্বরে রবিনের পরিবারের দু’জনকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে।

    পুলিশ দ্রুত এসে প্রহৃতদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যায়। কেতুগ্রাম থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে ছন্দার পরিবার। তদন্ত শুরু করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More