ওকে মারতেই হতো, কেউ কিছু না জেনেই প্রতিবাদ করছে: বললেন অবণী-শিকারি আসগর আলি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবাদ আছড়ে পড়েছে সর্ব স্তরে। সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে অবণী-হত্যার বিরুদ্ধে গর্জে উঠছে রাজপথও। ঘটনাটিকে ‘নৃশংস হত্যা’ বলে অভিহিত করে সরকারের সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মানেকা গান্ধীও। কিন্তু ‘হত্যাকারী’ অবশ্য অনুতপ্ত হওয়া দূরের কথা, নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাসে অটল। বললেন, “কেউ কিছু না জেনেই কেবল প্রতিবাদ করছে। বাঘটাকে মারতেই হতো।”

অবণীর বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ’ ওঠে, সে নাকি গত দু’বছরে ১৩ জন মানুষকে মেরেছে। সেই কারণেই বন দফতরের তরফে নাকি বাধ্য হয়েই অভিযোন চালানো হয় তাকে ধরতে। আর তা করতে গিয়েই শিকারী আসগর আলির শ্যেন নিশানায় মারা যায় দশ মাসের দুই শাবকের মা অবণী। সমালোচনার ঝড় ওঠে গোটা রাজ্যে।

এই আবহেই আসগর আলি বলে বসেছেন, তিনি যা করেছেন ঠিক করেছেন। তিনি বলেন, “বাঘটা এমন জায়গায় ছিল, যেখানে ও এর মধ্যেই তিন জনকে মেরে ফেলেছে। তবে ওকে ধরতে পারা গেলে ভাল হতো, ট্র্যাঙ্কুলাইজ়ার দেওয়া যােত। প্রাণে হয়তো মারতে হতো না।” তাঁর আরও দাবি, “মানুষ কিছু না জেনেই মতামত দিচ্ছেন। তাঁরা বাস্তবটা জানেন না। যা বলা হচ্ছে, তার থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা ছিল। প্রচণ্ড ঘন ঝোপের আড়ালে বাঘটা লুকিয়ে ছিল। ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়ার জন্য আগে শিকারকে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যেতে হয়। আমরা গত দেড় মাস সেই চেষ্টা করেছি, সম্ভব হয়নি। ওটাকে মারতেই হতো”

হায়দরাবাদের ডাকসাইটে শিকারি শফাত আলি খানের ছেলে আসগর আলির এই বক্তব্যে কার্যত স্তম্ভিত পশুপ্রেমীরা। তবে এই নির্বিকার নিষ্ঠুর মন্তব্য করার ধারা সম্ভবত বংশানুক্রমিক। শফাত খান যেমন বলেছিলেন, “আমি রাজপরিবারের মানুষ। আমি শিকার করাকে সামাজিক কাজ বলে মনে করি। আমি বাঘ মারি, হাতি মারি, গরিবদের সাহায্য করার জন্য। আমি চিতাবাঘ, বাঘ, ভালুক– এবং যখন যাকে প্রয়োজন, ঘুম পাড়াই। আমি কর্নাটকে যাই, মধ্যপ্রদেশে যাই, হিমাচল প্রদেশে যাই, বিহারে যাই। যখনই যে সরকার আমায় শিকারে ডাকে, আমি যাই।”

এই বারেও মুখ খুলেছেন শফাত। ছেলে আসগরের সমর্থনে তিনি বলেন, “আসগর এক জন বিখ্যাত শিকারি এবং সংরক্ষক। ও অনেক প্রতিযোগিতায় তেলেঙ্গানার প্রতিনিধিত্ব করেছে। একই সঙ্গে ও দারুণ ঘোড়সওয়ার। বেশ কয়েক দিনের চেষ্টার পরে ও যেভাবে বাঘটা শিকার করেছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়।” 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More