“আমি ফেল করেছি”, যাদবপুরের অনশনরত পড়ুয়াদের বললেন উপাচার্য

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পড়ুয়াদের অনশনের ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই অবস্থায় সোমবার সকালে উপাচার্য এলেন যাদবপুরে। দেখা করলেন পড়ুয়াদের সঙ্গে। এবং বললেন, “আমি ফেল করেছি। আমায় আর বেশি দিন দেখতে হবে না তোমাদের। আমার চেয়ে আরও ভাল উপাচার্য পাবে তোমরা।”

    উপাচার্যের আবেগমথিত কথায় সহানুভূতিশীল হলেও, পরিস্থিতি সমাধানের বা দাবি পূরণের কোনও চিহ্ন দেখতে পাননি পড়ুয়া-অধ্যাপকেরা। তাই আন্দোলন জারি রয়েছে আগের মতোই। বরং পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হয়েছে।

    বাংলা, ইংরেজি ও তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপকেরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তির যে প্রক্রিয়া যাদবপুরে আসন্ন, তাতে কোনও ভাবেই অংশগ্রহণ করবেন না তাঁরা। এমনকী প্রবেশিকার সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত বন্ধ রেখেছেন পঠনপাঠনও। এর পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপকেরাও উপাচার্যকে মেল করে জানিয়ে দিলেন, তাঁরা এই ভর্তি পদ্ধতি থেকে অব্যাহতি চান।

    এই অবস্থায় সোমবার দুপুরে উপাচার্য এসে দেখা করেন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে। জানান, তিনি সবটা আচার্য অর্থাত রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীকে জানিয়েছেন। তিনি রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, আজকালেই রিপোর্ট আসবে, তার পরেই তিনি বৈঠক করবেন।

    এ দিন কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে কোনও হস্তক্ষেপ আমিও চাই না। সেই দাবি নিয়েই আমিও গিয়েছি আচার্যের কাছে। কিন্তু আমি চেয়ারে থাকলে এক রকম, চেয়ারের বাইরে আমার মতামত অন্য রকম।” তিনি এ-ও জানান, অনশনরত পড়ুয়াদের কোনও অসুবিধা হলে যেন তাঁকে জানানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অ্যাডমিশন কমিটির কথা তিনিই বলেছিলেন। সেটা ‘তাঁরা’ মেনে না নিলে তাঁর কিছু করার নেই।

    কিন্তু উপাচার্য যে দৃশ্যতই ভেঙে পড়েছেন এবং ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাঁর কথায় বারবার উঠে আসে। তিনি বলেন, “আমি ফেল করেছি, আমি পারিনি করতে, আমি ফেল করেছি। তোমাদের আর বেশি দিন দেখতে হবে না আমাকে।”

    এর পরেও ছাত্রছাত্রী ও পড়ুয়ারা অবশ্য আন্দোলনের পথে একটুও নরম হচ্ছেন না। তাঁরা জানাচ্ছেন, যে স্বাধিকারের পক্ষে উপাচার্য কথা বললেন, সেই স্বাধিকারই তাঁদের একমাত্র দাবি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সেই স্বাধিকারে বারবার হস্তক্ষেপ হচ্ছে বলেই এই পথে হাঁটতে হচ্ছে তাঁদের।

    অন্য দিকে, রাজ্যপালের সঙ্গে এ দিন দেখা করেন বিধানসভার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্যপালকে তিনি অনুরোধ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা কাটাতে আচার্য হিসেবে তিনি যেন হস্তক্ষেপ করেন। তিনি বলেন, “আমি আচার্যকে জানিয়েছি, উপাচার্য-আধিকারিক সকলেই বাড়িতে। আর এ দিকে ছেলেমেয়েরা না খেয়ে বসে আছে রোদ-জলে। এমন চলতে পারে না। যাদবপুর একটি পাঁচতারা বিশ্ববিদ্যালয়, সারা বিশ্বের দরবারে উৎকর্ষের কেন্দ্র। সেখানে এমনটা চললে, তা সারা রাজ্যের লজ্জা।”

    আন্দোলনরত পড়ুয়ারা সোমবার দুপুরেই একটি সাংস্কৃতিক কনভেনশনের ডাক দিয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে সেখানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More