শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

পাকিস্তানে এসে শ’য়ে শ’য়ে খ্রিস্টান মেয়ে বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছে চিনারা! তার পর…

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছু দিন আগে হঠাৎ করেই যেন পাকিস্তানের সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মেয়েদের বিয়ে করার জন্য ধুম পড়ে গেছিল চিনা পাত্রদের মধ্যে। কিন্তু সম্প্রতি জানা গিয়েছে, সেই মেয়েগুলির ‘বিবাহিত’ জীবন আদৌ সুখের হচ্ছে না সে দেশে গিয়ে। কারণ সূত্রের খবর, চিনে নিয়ে গিয়ে পতিতাবৃত্তিতে নিয়োগ করা হচ্ছে ওই মেয়েদের!

সম্প্রতি পাকিস্তানের ‘প্রোস্টিটিউশন রিং’ এই বিষয়টি জানতে পেরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় পাক পুলিশ ১২ জনকে গ্রেফতারও করেছে বলে জানা গিয়েছে পাক সংবাদমাধ্যমে। ধৃতদের মধ্যে আট জন চিনা ছাড়াও চার জন পাকিস্তানি আছেন। বিষয়টিতে নজরদারি করছে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (আফআইএ)।

কিছু দিন আগে থেকেই চাইনিজরা পাকিস্তানে এসে, নিজেদের খ্রিস্টান বলে পরিচয় দিয়ে, দ্রুত বিয়ের জন্যে মেয়ে খুঁজছে। তাদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পাকিস্তানের পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত দালালরাও। তারাই ওই চাইনিজদের বিয়ে দেওয়ার জন্য মেয়ে খুঁজে দিচ্ছেন।

জানা যাচ্ছে, অনেক সময়ে এই চাইনিজরা পাকিস্তানের গির্জার বাইরে দাঁড়িয়ে বিয়ের জন্যে মেয়ে খুঁজছে। মেয়ে বা মেয়ের পরিবারের কাছে টোপ হিসেবে বড় অঙ্কের অর্থের লোভ দেখানো হচ্ছে। মেয়ের অভিভাবকদের হাতে কয়েক হাজার ডলার ধরিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে, তারা চিনের ধর্মান্তরিত ধনী খ্রিস্টান। এই বলে গরিব পরিবারগুলিকে বিয়ে করেই মেয়েদের নিয়ে দ্রুত চলে যাওয়া হচ্ছে চিনে।

পাক সংবাদমাধ্যম জানায়, কিছু দিন আগে পাকিস্তানি নারী পাচারের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর পায় এফআইএ। এর পর থেকেই তৎপরতা চালিয়ে এর পেছনের গ্যাংটির পরিচয় বার করা হয়েছে। জানা গেছে চাইনিজ পুরুষরা পাত্র সেজে এসে এই মেয়েদের বিয়ে করে চিনে নিয়ে তাদের পতিতালয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। তবে এখানে একযোগে কয়েকটি গ্যাং সক্রিয় থাকতে পারে বলে আন্দাজ করছে পুলিশ।

শুধু তা-ই নয়। ইসলামাবাদে অবস্থিত চিনা দূতাবাসও অবৈধ এই বিয়ে ও পাচার নিয়ে সাবধান করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। গত মাসেও এ রকম অবৈধ বিয়ে আটকাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীকে সাহায্য করেছে চিনা দূতাবাস।

সম্প্রতি ফয়সলাবাদে আয়োজিত এমনই একটি বিয়ে তদন্তের গতি ঘুরিয়ে দিয়েছে। সেখান থেকে এক চিনা মহিলা ও পুরুষ এবং নকল ধর্মযাজককে আটক করা হয়। ওই চিনা পুরুষের সঙ্গেএকটি পাকিস্তানি খ্রিস্টান মেয়ের বিয়ে হচ্ছিল।

তদন্তের পরে ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা কমপক্ষে ৩৬ জন পাকিস্তানি মেয়েকে চিনে পাঠিয়েছে এবং সেখানে তাদের বেশ্যাবৃত্তিতে নিয়োজিত করা হয়েছে।

Comments are closed.