মেঘমল্লার– ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস / ১৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    প্রচেত গুপ্ত

    খুন হয়েছেন এক গায়িকা। সেই তদন্ত করতে গিয়ে উন্মোচিত আরও দু’টি খুন। আর সেই খুনের বৃত্তান্তের মাঝে উঠে এল মেঘমল্লার রাগ আর একটা রিভলভার। অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক প্রচেত গুপ্তর প্রথম আদ্যোপান্ত ডিটেকটিভ উপন্যাস। মানুষের সম্পর্কের গভীরে লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা, ঘৃণা, প্রতিশোধ আর তার শরীরের ভেতরে ঢুকে চলছে অপরাধীর সন্ধান। একেবারে আলাদা। প্রাপ্তমনস্ক। দ্য ওয়ালের ধারাবাহিক। আজ ত্রয়োদশ পর্ব।

    রঞ্জনী রেলিং টপকাল। এক হাতে রেলিং–‌এর একটা রড ধরে খুব সাবধানে দাঁড়াল সরু একফালি কার্নিশের উপর। ব্যালেন্সে একটু এদিক-ওদিক হলে একেবারে নীচের চাতালে পড়তে হবে। বেকায়দায় পড়লে মরতে না হোক, পা বা কোমর তো ভাঙবেই। মাথাও ফাটতে পারে। এখান থেকে পাশের ইঁটে পা রাখতে গেলে রেলিঙের রড থেকে হাত সরে যাবে। সেটাও সম্ভব নয়।

    তা হলে?‌

    বলাকা যদি খুন করে, তা হলে কী করে ভিতর থেকে দরজা দিয়ে নীচে নামল? দিনের আলোয় এত কসরত করতে গেলে বাইরের কারও তো চোখে পড়তই। তবে সত্যিই কি ও খুন করেনি?‌ অজুর্ন ধীমানী আত্মহত্যাই করেছে?‌ তা কী করে হবে?‌ ওই কেসের আইও-র সঙ্গে রঞ্জনী দেখা করে কথা বলছে। ভদ্রলোকের নাম শশাঙ্ক পাল। এক সময়ে পুলিশে নাম করেছিল। একটু কেস ঘেঁটেই বলে দিতে পারতেন, অপরাধের চরিত্র কী। যুক্তির থেকেও এক ধরনের ইনটিউশন ছিল। পুরনো সময়ের ডাক্তারবাবুদের মতো। হাজার রকমের পরীক্ষার থেকে রোগীর চোখ–‌মুখ দেখে ডায়াগনেসিস করে ফেলতেন। তবে অপরাধ বুঝলেই শুধু হয় না। অপরাধীকে ধরার জন্য তো সাক্ষ্য-প্রমাণ চাই। আদালতে সেগুলো হাজির করতে হয়। ইনটিউশন দিয়ে অপরাধীকে চেনা যায়, ধরে রাখা যায় না।

    কিন্তু শশাঙ্ক পাল মানুষটা ছিলেন অলস প্রকৃতির। খুব দৌড়াদৌড়ি করতে রাজি হতেন না। এই জন্য চাকরিতে প্রোমোশনও হয়নি। থানাতেই পড়ে থাকতে হয়েছে। তবে বহু কেসে সিনিয়ররা যোগাযোগ করতেন। ঘটনার চরিত্র, প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করত। যাকে বলা হত, নেচার অব্‌ দ্য ইনসিডেন্টে। বলাকার কেসটাও এই অফিসারের হাতে এসেছিল। এখন অবসর নিয়ে বাড়িতে বাগান করেন। রঞ্জনী গিয়ে দেখা করেছে।

    ‘‌স্যার, সত্যি কি বলাকা মেয়েটা ওর প্রেমিককে খুন করেনি?‌ লোকটা সুইসাইড করেছিল?‌’‌
    শশাঙ্ক পাল বাগানে কাজ করছিলেন। সেখানেই  বেতের চেয়ার পেতে, বসে কথা হচ্ছে।
    ‘‌আপনি আমাকে স্যার বলছেন কেন?‌ আমি তো রিটায়ার করেছি। আপনার থেকে নিচু পোস্টে কাজ করতে করতেই করেছি।’
    রঞ্জনী হেসে বলে, ‘‌রিটায়ার করলেও আপনি আমার থেকে বয়েসে অনেক বড়। যেই পোস্টেই কাজ করুন, দক্ষও অনেক বেশি। ক্রাইম ডিটেকশনে আপনার জুড়ি নেই।’‌
    শশাঙ্ক পাল বললেন, ‘‌কোথায় আর দক্ষ ‌?‌ ডিটেকশন করলেই তো শুধু হয় না, তাকে ধরতে হয়। আমি তো সেটাই পারি না।’‌
    রঞ্জনী প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বলল, ‘‌আপনি কি মনে করেন, বলাকা মেয়েটা কিছু করেনি?’‌‌‌
    শশাঙ্ক পাল বললেন, ‘‌একেবারেই নয়। অজুর্ন লোকটাকে ও-ই খুন করেছিল। নিজের হাতে করেছিল। কিন্তু প্লটটা সাজিয়েছিল নিখুঁত। পোস্টমর্টেম রিপোর্টও সে কথাই বলছে। ক্ষুরের প্রেসার খুব জোরালো ছিল। সুইসাইডের‌ সময় কারও পক্ষে নিজের গলায় অতটা চাপ দেওয়া অসম্ভব। কিন্তু এটা লজিক নয়।’‌
    রঞ্জনী বলল, ‘‌আর স্যার, চিঠিটা?‌ অর্জুন যেটা লিখেছিল, তোমাকে না পেলে গলায় ক্ষুর চালিয়ে মরব।’‌

    শশাঙ্ক পাল বেতের চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন, ‘দূর দূর, ওটা কোনও ইস্যুই নয়। কোনও একটা দুর্বল সময়ে আবদার করে‌ লিখিয়ে নিয়েছিল। খেলাচ্ছলে। আপনি মেয়ে হলেও বুদ্ধিমতী পুলিশ, তাই আপনাকে বলতে সংকোচ নেই, এই ধরনের পুরুষমানুষকে বিছানা নিয়ে গিয়ে যা খুশি ডিকটেড করা যায়। বলাকাও সেই ধরনের কিছু করেছিল। এক্সাইটমেন্টের চরম সময় পেন কাগজ এগিয়ে লিখিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু এটা তো কোর্টে প্রমাণ করা যায় না।’‌

    রঞ্জনী ‘‌ধন্যবাদ’‌ জানিয়ে উঠে এসেছিল। সে-ও নিশ্চিত, বলাকা খুনটা করেছিল। আর এই খুনের কিনারা করতে পারলে গায়িকা হত্যা রহস্যে অনেকটা আলো পড়বে। সেই কারণে আজ সে নিজে সরেজমিনে দেখতে এসেছে, বলাকা যদি অজুর্ন লোকটাকে খুনই করে থাকে, তাহলে সে কী করে ভিতর থেকে দরজা আটকে পালাল।

    সে নিজেই বারান্দা থেকে নামতে চেষ্টা করছে। পারছে না।

    নীচে উদ্বিগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ অফিসার চাপা গলায় বলল, ‘আমি ওপরে যাব?‌’‌

    রঞ্জনী ফিসফিস করে বলল, ‘‌আসুন। আমাকে নামতে সাহায্য করুন।’‌

    সেই অফিসার দু’‌হাতের আলতো ভরে পাঁচিলে উঠে পড়ল। দেওয়ালের গা থেকে বেরিয়ে থাকা ইটের ধাপে পা রেখে হাত বাড়িয়ে দিল। রঞ্জনী সেই হাতটা ধরে রেলিঙের রড ছাড়ল। ইটের ধাপে পা রেখে নেমে এল কিছুটা। তার পরে পাঁচিল পেল। সেখান থেকে হালকা লাফ দিয়ে রাস্তায়। বাড়ির পাশের সরু রাস্তা।

    সঙ্গী অফিসারকে বলল, ‘‌থ্যাঙ্ক ইউ। আপনি না থাকলে অসুবিধে হতো।’‌

    আর সঙ্গে সঙ্গে মনের ভিতরে আলো জ্বলে উঠল তার। তার মানে বলাকার সঙ্গে সে দিন দ্বিতীয় কেউ ছিল। সেকেন্ডম্যান। সে কে?‌ কেন ছিল বলাকার সঙ্গে?‌

    যা-ই হোক, দু’টো অপারেশন সেরে কাল বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হল।

    ব্রেকফাস্ট গোছাতে গোছাতে রঞ্জনী নয়নকে বলল, ‘তুমিই সকালে উঠতে গাঁইগুই করেও আর আমি যে এত কিছু শিখেও মাঝরাতে রেডে যাই। সেটা কিছু নয়?‌ তুমি আটটায় অফিস বেরোবে বলে কাঁদছো!‌’

    নয়ন বলল, ‘‌আমি তো তোমার মতো রিভলভার চালাতে শিখিনি। আমি কেন সকালে বেরোব?‌ আমি ঘুমোব।’
    ‘‌ঠিক আছে ঘুমো।’‌

    নয়ন লাফ দিয়ে বাথরুমে দৌড়ল। অফিসের গাড়ি চলে আসবে। রঞ্জনী হাসল। ছেলেটা রোজ এমন করে।

    আগামী রবিবার নয়ন তার হাতে স্পেশ্যাল ডিশ চেয়েছে। ফ্রিজ়ে ইলিশ মাছ আছে দেখে ইলিশ মাছের প্রিপারেশন নিয়ে পড়েছে রঞ্জনী। তবে ইলিশই যে হবে এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। অন্য কিছুও হতে পারে। বরং এই রেসিপি তার খটমটই লাগছে। সহজ কিছুতে যেতে হবে। সহজ অথচ নতুন। রান্না করতে রঞ্জনী তেমন পারে না। এ দিকে এমন এক জনকে বিয়ে করে বসেছে যে খেতে ভালবাসে। এতে অবশ্য সমস্যা হয় না। তারা এক জন অতি চমৎকার কুক পেয়েছে। রতনের মা। সে এক জন দক্ষ রাঁধুনি। চটাপট রান্না করে ফেলে। রঞ্জনী ছুটিছাটার দিনে তার কাছে রান্না শেখে। নয়নের জন্য শিখতে হয়। কুক যতই ভাল হোকে, সে মাঝেমধ্যে বৌয়ের হাতে খাবে বলে আবদার করে।

    রঞ্জনী তার বরকে মজা করে বলে, ‘পুলিশ বিয়ে না করে এক জন রাঁধুনি বিয়ে করলেই তো পারতে। তোমার জন্য আমার দুঃখ হয়। বৌয়ের হাতে ভালমন্দ খাওয়া হল না। রাঁধুনি বিয়ে করলে চেয়ার টেনে রান্নাঘরের পাশে বসে থাকতে। হাতে থাকত প্লেট। বৌ টপাটপ রান্না করে প্লেটে তুলে দিত। ই‌স্‌ রে, খুব জোর মিস হয়ে গেল।’‌

    নয়ন আড়মোড়া ভেঙে বলে, ‘‌তুমিও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিয়ে না করে একজন ডাকাত সর্দারকে বিয়ে করলে পারতে রঞ্জনী। ডাকাত ধরার জন্য তোমাকে আর হন্যে হয়ে ঘুরতে হতো না। বর ঘুম থেকে উঠলে খপ করে হাতকড়া পরিয়ে দিতে। তোমার জন্য আমার প্রাণ ফেটে যায়।’‌

    রঞ্জনী আহ্লাদী গলায় বলে, ‘‌আহা, আমি‌ কি জানতাম, তুমি এক জন অতি বোকা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে? তখন লেখাপড়ার থেকে তো তখন তোমার থিয়েটারে বেশি মন ছিল। মুখে বলতে, ইউনিভার্সিটিতে নাম লিখিয়ে রাখতে হয়, তাই রেখেছি।‌ বাবা বকবে। প্রেমে তো সেই জন্য পড়েছিলাম। ইঞ্জিনিয়ার ছেলে বিয়ে করতে আমার বয়ে গেছে।’

    নয়ন সিগারেট ধরিয়ে বলল, ‘আমিও কি ছাই জানতাম তুমি পুলিশ হবে?‌ যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ফেস্টে তুমি রবীন্দ্রভারতী থেকে গাইতে এলে। যত দূর মনে আছে সেমিক্লাসিকালের কম্পিটশন ছিল। তোমার গানটাও মনে আছে।’‌

    রঞ্জনী সন্দেহের গলায় ভুরু কুঁচকে বলল,‘‌বল তো কী গান।’‌
    নয়ন সহজ ভাবে বলল,‘‌রাধা ক্যায়সা না জ্বলে।’
    রঞ্জনী নাকমুখ সিঁটকে বলল, ‘‌একদম বাজে কথা। আমার মনে আছে। আমি রবীন্দ্রনাথের গান করেছিলাম। এ কী এ সুন্দর শোভা!‌ কী মুখ হেরি হে। ইমন ভূপালি। গান শুরুর আগে বন্দিশও শুনিয়েছিলাম।’‌

    ঘটনা তাই। সেই কম্পিটিশনে রঞ্জনী এমন সুন্দর গেয়েছিল যে বিচারকেরা মুগ্ধ হয়ে যায়। তারা রঞ্জনীর কাছে আরও গান শুনতে চায়। আরও দু’টো গান গাইতে হল। এক জন মহিলা বিচারক তো উঠে এসে রঞ্জনীকে জড়িয়ে ধরলেন। এই নিয়ে গোলমালও হয়েছিল। অন্য কম্পিটিটররা আপত্তি তুলল। কমপিটিশনের মাঝখানে এ ভাবে এক্সপ্রেশন দেওয়া যায় না। এতে অন্যদের মনোবল ভেঙে গেছে। যদি ভাল লাগে তাকে বেশি নম্বর দিয়ে ফার্স্ট করা হোক। কিন্তু সেটা গোপনে। কম্পিটিশন চলাকালীন প্রকাশ্যে হতে পারে না। এটা কোন টেলিভিশন শো নয়।

    বিচারকেরা একথা মানতে রাজি হননি। তাঁদের মত ছিল, টেলিভিশনের গানের প্রোগ্রামে বানানো উচ্ছ্বাস দেখাতে হয়। বাড়িতে বসে দর্শকেরাও যাতে ভাবে, আহা কী গাইছে!‌ ওর বেশিটাই অভিনয়। এখানে সে রকম কোনও দায় ছিল না। মেয়েটি খুব ভাল গেয়েছে, তাই তাকে আরও গাইতে বলে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এটা গানের কম্পিটিশন, যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার কম্পিটিটিভ এক্সাম নয় যে কারও পিঠ চাপড়ানো যাবে না। যাই হোক, শেষ পর্যন্ত গলায় মেডেল ঝুলিয়ে রঞ্জনী ফিরেছিল। সেই মেডেল সবাই দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু আর একটা মেডেল যে তার গলায় এক জন চুপিচুপি পরিয়ে দিয়েছিল, সেটা রঞ্জনীও জানতে পারেনি। কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং–‌এর ছাত্র নয়ন। ভালবাসার অদৃশ্য মেডেলটি এই সুন্দরী এবং গুণী মেয়েটির গলায় পরিয়ে সে ঝপাং করে গিয়ে আলাপ করে বসেছিল। এমনকী ফোন নম্বর পর্যন্ত চেয়ে বসল। রঞ্জনী কড়া গলায় উত্তর দিয়েছিল।

    ‘‌আমি কোনও অচেনা ছেলেকে ফোন নম্বর দিই না।’‌
    নয়ন মাথা চুলকে বলেছিল, ‘‌এক জন অচেনা মেয়েকে পাঠাব?‌ তাকে দেবে?‌’‌
    রঞ্জনী রেগে গিয়ে বলেছিল, ‘‌না,তাকেও দেব না।’‌
    নয়ন চিন্তিত ভাবে বলেছিল,‌ ‘‌আচ্ছা দেখি, তোমার পরিচিত কাউকে খুঁজে পাই কি না।’‌

    রঞ্জনী উত্তর না দিয়ে গটমটিয়ে চলে এসেছিল। নয়ন মাঝেমধ্যেই সে দিনের গান নিয়ে রঞ্জনীকে খেপায়।

    ‘‌কোন গান ঠিক মনে নেই, তবে তোমার গলা শুনে একটা কথা মনে হয়েছিল।’‌‌

    কথাটা শেষ না করেই সোফায় টানটান হয়ে শুয়ে পড়েছিল। রঞ্জনী বুঝতে পারল বর তাকে খেপাতে চাইছে। চোখ পাকিয়ে বলল, ‘‌থামলে কেন?‌ কী মনে হয়েছিল বল। তার পরে তোমার মজা দেখাচ্ছি।’‌

    সিলিঙের দিকে তাকিয়ে নয়ন বলল, ‘‌মনে হয়েছিল,  এই খ্যাড়খ্যাড়ে গলা আমাদের একটা নাটকে খুব ভাল যাবে।’‌

    কথা শেষ করে লম্বা টান দিয়ে ফুরফুর করে ধোঁয়া ছাড়তে লাগল নয়ন। একটু থমকে গিয়ে ভুরু কুঁচকে রঞ্জনী বলল, ‘‌কী বললে!‌ আমার গলা খ্যাড়খ্যাড়ে? আমার গানের গলা খারাপ?‌‌’

    নয়ন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বলল, ‘গানের জন্য কেমন জানি না, তবে আমাদের নাটকটার জন্য ভাল। সেখানে একটি মেয়ের ক্যারেক্টার ছিল, সে খালি খ্যাঁওম্যাঁও ‌করত।’‌

    ‌রঞ্জনী বরের সোফার দিকে গুটি গুটি এগিয়ে এসে বলল, ‘‌কী! আমি খ্যাঁওম্যাঁও করি?‌’‌
    নয়ন সিগারেটে টান দিয়ে, ধোঁয়া ছেড়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,‘‌তুমি করো না। আমরা নাটকের ক্যারেক্টার করেছিল।’
    ‘‌তবে রে, দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা।’‌

    ‌রঞ্জনী সটাং নয়নের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার শরীরের দুদিকে হাঁটু রেখে দু’‌হাতে চুলের মুঠি চেপে ধরল। নয়ন মেঝেতে সিগারেট ফেলে দিয়ে হাত পা  ছুঁড়ে চিৎকার করতে লাগল, ‘‌আমি কিন্তু পুলিশ ডাকব। পুলিশ.‌.‌.‌পুলিশ.‌.‌.‌।’‌
    রঞ্জনী বলল, ‘‌ডাকো তোমার পুলিশ। যত পারো ডাকো।’‌
    নয়ন আর্তনাদের ভঙ্গিতে বলল, ‘‌পুলিশ, এসে দেখে যান। আমার ডাকাত বউ আমাকে মেরে ফেলল।’‌
    রঞ্জনী স্বামীর চুলের মুঠিতে ঝাঁকুনি দিয়ে হাসতে হাসতে বলল, ‘‌এখনও মারিনি। এবার মারব।’‌

    ‌বলতে বলতে সে নয়নের মুখের ওপর মুখ নামায়।

    অঙ্কন : দেবাশীষ সাহা 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More