রবিবার, অক্টোবর ২০

দুর্গার আগমন বা গমন কোন বাহনে, পাঁজি ছাড়াই জেনে নিন সহজ হিসেব পদ্ধতি

  • 182
  •  
  •  
    182
    Shares

অনির্বাণ

মায়ের এবার কীসে আগমন? কীসেই বা গমন? পুজোর আগে আগে প্রতি বারই এই সব প্রশ্ন জেরবার করে তোলে বাঙালিকে। উত্তর পেতে পঞ্জিকা ঘেঁটে জানতে হয় এবার ঘোড়া, হাতি, নৌকা না দোলা? এই কৌতূহল হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, বিশ্বাস বলে এই গমানাগমনের উপরেই নাকি অনেক কিছু নির্ভর করে।সনাতন ধর্মে দেবীর আগমন ও গমনের জন্য নানা ধরনের যান-বাহনের উল্লেখ মেলে। কখন কোন বাহন দুর্গা ব্যবহার করবেন, সেই সূত্রও বলা আছে। সহজ এই নিয়মটুকু জেনে নিলে পাঁজি ছাড়াই নিজে নিজে হিসেব কষে বলে দেওয়া যায়, কোন বছর মা দুর্গা কীসে আসছেন, কীসেই বা যাচ্ছেন।

মনে রাখতে হবে পুজোর সপ্তমীতে দুর্গার আগমন। আর, গমন দশমীতে। এই দুই দিন সপ্তাহের কোন কোন বারে পড়ছে, তার উপরেই নির্ভর করে দেবীর কীসে আগমন বা কীসে গমন।

শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
‘রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ।
গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং নৌকায়াং বুধবাসরে।।’

শুরুতেই বলা হচ্ছে, ‘রবৌ চন্দ্রে গজারূঢ়া’। অর্থাৎ, সপ্তমী যদি রবিবার বা সোমবার হয়, তবে দুর্গার আগমন হবে গজে বা হাতিতে। একই ভাবে, দশমীও রবি বা সোমে পড়লে দুর্গার গমন হবে গজে।

এর পর বলা হয়েছে, ‘ঘোটকে শনি ভৌময়োঃ’। অর্থাৎ শনি বা মঙ্গলবার সপ্তমী পড়লে দেবীর আগমন হবে ঘোটকে বা ঘোড়ায়। দশমীও শনি বা মঙ্গলে পড়লে গমনও হবে ঘোটকে।

তার পরে বলা হয়েছে, ‘গুরৌ শুক্রে চ দোলায়াং’। বৃহস্পতি বা শুক্রবারে সপ্তমী পড়লে দেবী দোলায় আসবেন। আর, দশমী পড়লে দেবী দোলায় যাবেন।

সব শেষে বলা হয়েছে, ‘নৌকায়াং বুধবাসরে’। অর্থাৎ, বুঝবার সপ্তমী পড়লে দেবীর নৌকায় আগমন এবং দশমী পড়লে নৌকায় গমন।

এই হল সপ্তাহের সাত দিনের সাত নিয়ম। এটুকু জানলেই দেবীর আগমন ও গমনের হিসেব কষে নেওয়া যায় সহজে। এবার এই বছরের হিসেবটা করে ফেলুন চট করে।

Comments are closed.