মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

চুমুর উত্তেজনায় ভাঙল নাক, কালাও হলেন একজন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জানি জানি/ সবাই সবে/ছাড়বে/ চলার পথে/ কে কার চুমু কাড়বে। ’–চুমু খাওয়া তো একটা আর্ট।  কিন্তু সেই আর্টের ঠ্যালায় একজন কালা হলেন, আরেকজন ভাঙলেন তাঁর একমাত্র নাকটি।  শিবরাম চক্রবর্তীর প্রথম কবিতা ‘চুম্বন’।  কিন্তু তিনি যখন এই চুমুর কাড়াকাড়ি নিয়ে কবিতা লিখেছেন, হয় তো স্বপ্নেও ভাবেননি চুমুর বাড়বাড়ন্ত এই পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে নাক কান খোয়াবেন মানুষজন।
দুটো মানুষ ভালোবেসে ফেললে একে অন্যকে বারবার আদর করবে, চুমু খেতে চাইবে সেটা খুবই স্বাভাবিক।  কিন্তু সেই আবেগের যদি বাধভাঙা ঢেউ থাকে, তাহলে কী কী সমস্যা হতে পারে জানেন কি? দুটি ঘটনায় তাই চোখ উঠছে কপালে।  বেশি দূর নয়, উত্তরপ্রদেশের ঘটনা দুটোই।

চুমু খাওয়ার সময় একজন পুরুষ এমনভাবে তাঁর মুখ দিয়ে গার্লফ্রেণ্ডের মুখের ভিতরের হাওয়া টেনে নিয়েছেন, যে তাতে মহিলার গলার ভিতরের বায়ুচাপ কমে যায়, এতটাই কমে যায় সেটা কানে প্রভাব ফেলে এবং কালা হয়ে যান তিনি।  Eustachian tube যা কান এবং গলার মধ্যে সম্পর্কিত একটি টিউব।  সেটির মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ হাওয়াটা যেহেতু চলে এসেছিল ব্যক্তিটির মুখে, তাতে সমস্যা হয়েছে মেয়েটির।
আরেকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, একজন তাঁর প্রেমিকাকে প্রচণ্ড উত্তেজনার বশে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে গিয়েছিল, আর সে সময়ে মহিলা মাথা ঝাঁকিয়েছেন এতটাই জোরে যে, সেই ঝাঁকুনিতে প্রেমিকের একমাত্র নাকটি গেছে ভেঙে।

আমরা তো মোটামুটি সকলেই জানি চুমু খেলে মন ফুরফুরে হয়।  ফিল গুড হরমোন বেশি মাত্রায় ক্ষরণ হওয়ায় মানসিক চাপ অনেকখানি কমে একটি চুমুতেই।  শারীরিক অনুশীলন করার মতোই চুমু শরীরে ‘‌হ্যাপি হরমোন’‌ নিঃসরণ করে।  এ সেই হরমোন, যা আপনাকে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবৃত্তিও কমিয়ে দেয়।  ‌নিয়ম করে চুমু খেলে দাঁতের ক্ষয় কম হয়।  চুমু খাওয়ার ফলে শরীরের অক্সিটোসিনের মাত্রা বেড়ে যায়।  এতে স্নায়ু শান্ত হয়।  চুমুর সময়ে মুখের প্রায় ৩০টি পেশির নড়াচড়া হয় তাতে মুখমণ্ডলের রক্তচলাচল বাড়ে, ত্বক আরও উজ্জ্বল দেখায়।  ২ মিনিট একটানা চুমুতে ডুবে থাকলে অন্তত ৬ ক্যালোরি খরচ হয়।  চুমু খাওয়ার সময় হৃদপিণ্ড অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠায় ব্যয়ামও হয়।  ফলে রক্তচাপ ও রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়।  নিয়মিত চুমু খেলে অনিদ্রার সমস্যা হয় না।  নিয়মিত চুম্বনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।‌‌‌

তবে, চুমুর কিছু বাজে গুণও আছে।  চুমুতে যে পরিমাণ ব্যাকটিরিয়া এবং ভাইরাস থাকে, যা একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে যেতে পারে।  বিভিন্ন ধরণের ভাইরাস থেকে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে পার্টনারের।  আশ্চর্যজনকভাবে জ্বরও এই চুমুর কারণে হতে পারে, যা ইনফিউশনস মনোন্যাকিউসিস নামে পরিচিত।  ভাইরাস সংক্রমনের সম্ভাবনা থাকে এই চুমু থেকেই।  চুমুর সময়ে একে অন্যের লালা থেকে এ সব ব্যাকটিরিয়া সংক্রমিত হয়।
কাজেই চুমু খান বুঝে শুনে, অতিরিক্ত উত্তেজনা একেবারেই হিতে বিপরীত কাণ্ড ঘটাতে পারে।  তাই হাসপাতালের বিছানায়, না নিজের ঘরেরটায়,কোনটায় পৌঁছবেন সঙ্গীকে নিয়ে সেটা কিন্তু আপনারই হাতে।

Comments are closed.