মালদার তৃণমূল নেত্রীর কলকাতায় ফ্ল্যাট, সেখান থেকে পড়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হুগলির দুষ্কৃতীর

৫৩১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর কলকাতার পাইকপাড়ায় বিলাসবহুল আবাসন কেভেন্টারে। সেখানকারই একটি টাওয়ারের চারতলা থেকে রবিবার কাকভোরে ঝাঁপ দিলেন হুগলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী সেন্টিয়া। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পরে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটটি মালদা জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পায়েল খাতুনের নামে কেনা। এ-ও জানা গিয়েছে, শনিবার রাত থেকে ওই ফ্ল্যাটে ছিলেন পায়েলের স্বামী মহম্মদ ইয়াসিন। রবিবার ভোরে প্রচণ্ড চিৎকার-চ্যাঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে কেভেন্টারের আবাসিকদের। তাঁরা খবর দেন চিৎপুর থানায়। পুলিশ এসে সেন্টিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। মারা গিয়েছিল সে।

এ ব্যাপারে দ্য ওয়ালের তরফে পায়েল খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি এখন শিলিগুড়িতে আছি।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনার স্বামী তো কলকাতায় ছিলেন, কী বলবেন?” জবাবে তিনি বলেন, “আমার স্বামী কলকাতায় নেই, তিনি আজমের শরিফে গিয়েছেন।” এর পরে তাঁকে ফের প্রশ্ন করা হয়, “আপনার নামে কেনা ফ্ল্যাটে কী করে সেন্টিয়া ঢুকল?” জবাবে পায়েল বলেন, “কে সেন্টিয়া, আমি চিনি না।” তার পরে তাঁকে এ-ও জিজ্ঞেস করা হয়, “জানা যাচ্ছে আপনার স্বামী যখন মালদা থেকে কলকাতা আসছিলেন স্করপিও গাড়িতে, তখন হুগলির সুগন্ধা মোড় থেকে সেন্টিয়া ওঠে ওই গাড়িতেই।” এই প্রশ্ন শুনেই পায়েল বলেন, “এর বেশি আমি কিছু জানি না, কিছু বলতে পারব না আর।”

তৃণমূল নেত্রীর ফ্ল্যাট থেকে হুগলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী সেন্টিয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম পড়ে গিয়েছে শহরের প্রশাসন মহলে।

জানা গেছে, আবাসনের নিরাপত্তা কর্মীরা চারতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে শুনতে পান গণ্ডগোলের আওয়াজ। সেখানে তাঁরা পৌঁছনোর আগেই দেখা যায়, ফ্ল্যাট থেকে মত্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসছে তিন যুবক। তারা মদের ঘোরে নিজেদের মধ্যে মারামারি করছেন। বোতল ভেঙে একজন আরেকজনেক দিকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে।

রেজিস্টার অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর রাতে বেরিয়ে যান ইয়াসিন। পুলিশ বিমানবন্দর থেকে জানতে পেরেছে, শনিবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের বিমানে জয়পুর গিয়েছেন। আর তাঁর ফ্ল্যাটে রেখে যান সেন্টিয়া-সহ তাঁর গাড়ির চালক এবং ফ্ল্যাট দেখাশোনা করার এক কর্মীকে।

এখন প্রশ্ন হল সেন্টিয়া কে?

জানা যাচ্ছে, চাঁপদানি এলাকায় তোলাবাজি দিয়ে তার অপরাধ জগতে হাতে খড়ি। হুব্বা শ্যামলের শাগরেদ হিসেবে অন্ধকার জগতে নাম লিখিয়েছিল সেন্টিয়া। শ্যামলের মৃত্যুর পর সেন্টিয়া নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকে।

অনেকের মতে, শাসকদলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছিল সেন্টিয়া। তবে পায়েলের স্বামীর সঙ্গে কী ভাবে তার যোগ সূত্র সেটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

জানা যাচ্ছে, ওই রাতে দুই মহিলা ছিলেন ফ্ল্যাটে। সূত্রের খবর এসকট সার্ভিসের দু’জন এসেছিলেন ফ্ল্যাটে। ছিলেন একজন পুলিশ কর্মীও। মারামারির মধ্যে পড়ে তিনিও জখম হয়েছেন বলে খবর। গোটা ঘটনার তদন্তে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More