শনিবার, মার্চ ২৩

চা বাগানে বিষমদে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার অসমের হালমিরা চা বাগানে সুলাই নামে একধরণের মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বহু শ্রমিক। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জোড়হাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শুক্রবারই জোড়হাট হাসপাতালে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। শনিবার জানা যাচ্ছে, গুয়াহাটি হাসপাতালেও মারা গিয়েছেন ৩৪ জন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮। আরও মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।

সুলাই জাতীয় মদ গুড় আর ইথাইল অ্যালকোহল দিয়ে তৈরি হয়। হালমিরা চা বাগানের কাছে বেআইনিভাবে বিক্রি হয় ওই মদ। হালমিরা জায়গাটি গুয়াহাটি থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে।

দিন ১৫ আগেই উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে বিষমদে প্রায় ১০০ জন মারা গিয়েছিলেন। হালমিরা চা বাগানে মৃত্যুমিছিলের পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেজন্য এক সদস্যের তদন্ত কমিশন তৈরি হয়েছে। গোলাঘাটের জয়েন্ট ডিরেক্টর (হেলথ) রাতুল বরদলই বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ প্রথম মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বরদলুই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, বিষমদ পান করেই এতজনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে আছেন ৬৫ বছরের ধ্রুপদী ওঁরাও। তাঁর বাড়ি থেকেই হালমিরা টি এস্টেটের শ্রমিকরা মদ কিনেছিল বলে জানা যায়। ধ্রুপদীর ছেলে সঞ্জু ওঁরাওয়ের বয়স ৩০। তিনিও মারা গিয়েছেন। জোড়হাটের আশপাশের জেলারও অনেকে বিষমদ পান করে মারা গিয়েছেন। বিষমদ কোথায় তৈরি হয়েছিল, তা জানার চেষ্ট করছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সঞ্জু ওঁরাও টি এস্টেটের বাইরে থেকে ওই মদ কিনে এনেছিল। পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট পার্থপ্রতিম শইকিয়া বলেন, যতদূর মনে হচ্ছে, টি এস্টেটের বাইরে মদ তৈরি হয়েছিল। সঞ্জু জ্যারিকেনে ভরে সেই মদ নিয়ে আসে।

পুলিশের সন্দেহ, মদ তৈরির সময় ইথাইল অ্যালকোহলের পরিবর্তে মিথাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়েছিল। তাতেই মদ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এমনিতে সুলাই জাতীয় মদে খুব অল্প পরিমাণে মিথাইল অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে সম্ভবত বেশি পরিমাণে ওই রাসায়নিক মিশে গিয়েছিল।

সঞ্জুর ঘনিষ্ঠ পম্পি ওঁরাও বলেন, তাঁরা অনেক সময় নিকটবর্তী গ্রাম থেকে মদ কিনে আনেন। সঞ্জু ছিল চা বাগানের অস্থায়ী কর্মী। আগামী মাসে পম্পির সঙ্গে তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। শইকিয়া বলেন, সঞ্জু মারা যাওয়ার ফলে তদন্ত অনেক পিছিয়ে গেল। অবশ্য পুলিশ ইতিমধ্যে জেনে ফেলেছে, কোথায় ওই মদ বানানো হয়েছিল। যারা মদ তৈরি করেছিল, তাদের ধরার চেষ্টা হচ্ছে।

Shares

Comments are closed.