মঙ্গলবার, জুন ২৫

অনেস্টি ওভার ডাইনাস্টি, পরিবারতন্ত্রের কথা তুলে রাহুলকে কটাক্ষ মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে মানুষ ডাইনাস্টির বিপক্ষে ও অনেস্টির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বুধবার নিজের ব্লগে এমন লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেস বিশ্বাস করে পরিবারতন্ত্রে। বিজেপি বিশ্বাস করে সততায়। মানুষ পরিবারতন্ত্রের বদলে সততাকেই বেছে নিয়েছে।

মোদী লিখেছেন, দুঃখের বিষয়, কংগ্রেস দলে গণতন্ত্র নেই। কোনও নেতা যদি দলের শীর্ষ পদটি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাঁকে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন, কোনও প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করা বা না করা কারও মানসিকতার ওপরে নির্ভর করে। আইনকে কোনও নেতা কী চোখে দেখেন, তা তাঁর কার্যকলাপেই বোঝা যায়। এখন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সকলেই জামিনে মুক্ত আছেন। যখন কোনও সংস্থা তাঁদের প্রশ্ন করতে চাইছে, তাঁরা জবাবই দিচ্ছেন না।

কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীর ঠাকুমাকেও টেনে এনেছেন মোদী। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, মিসেস গান্ধীই প্রথমে ‘অনুগত বিচারব্যবস্থার’ কথা বলেছিলেন। তিনি চাইতেন আদালত যেন সংবিধানের পরিবর্তে একটি পরিবারের প্রতি অনুগত থাকে।

নাম না করে ভুতপূর্ব ইউপিএ সরকারেও সমালোচনা করেন মোদী। তিনি লিখেছেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর অফিসের সমান্তরাল একটি সংস্থা গড়ে তুলেছিল, তারা এখন প্রতিষ্ঠানগুলি রক্ষার কথা বলছে। এখানে মোদী বলেছেন এনএসি বা ন্যাশনাল অ্যাডভাইসারি কাউন্সিল নামে একটি সংস্থার কথা। প্রধানমন্ত্রীকে নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ওই সংস্থাটি তৈরি করে ইউপিএ। প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী তার চেয়ারপার্সন ছিলেন।

এরপর রাহুলের সমালোচনা করে মোদী লিখেছেন, কয়েক বছর আগে মন্ত্রিসভা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এক ব্যক্তি সাংবাদিক বৈঠকে সেই সিদ্ধান্তের কপি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন না। ২০১৩ সালে অভিযুক্ত সাংসদদের রক্ষা করার জন্য একটি অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল। রাহুল গান্ধী প্রেস কনফারেন্সে তার কপি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

ব্লগে সবশেষে তিনি লিখেছেন, পরিবারতন্ত্র চালু হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

গত কয়েকমাস ধরে কংগ্রেস মোদীর বিরুদ্ধে মূলত দু’টি অভিযোগ করে এসেছে। রাফায়েল চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ করে বলা হচ্ছে, চৌকিদার চোর হ্যায়। দ্বিতীয়ত সিবিআই কর্তাকে অপসারণ, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ ও আরও কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, মোদীর আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেগুলি কার্যত ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে। মোদী এদিন ব্লগে কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই উলটে দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন।

Comments are closed.