সোমবার, আগস্ট ১৯

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে আস্থাভোট করুন, কর্ণাটকের স্পিকারকে নির্দেশ রাজ্যপালের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বৃহস্পতিবার বিধানসভায় যখন আস্থাভোট নিয়ে বিতর্ক চলছে তখনই বিজেপির এক প্রতিনিধিদল দেখা করল রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে। তাঁর কাছে অভিযোগ জানায়, এইচ ডি কুমারস্বামী সরকার বৃহস্পতিবারের মধ্যে আস্থাভোট করতে রাজি নয়। এর পরেই রাজ্যপাল স্পিকার কে আর রমেশকে নির্দেশ দেন, এদিনের মধ্যে যাতে ভোটাভুটি হয়, তার ব্যবস্থা করুন।

এদিন বেলা ১১ টায় কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী যখন বিধানসভায় আস্থাভোটের প্রস্তাব পেশ করলেন, সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেছিলেন, ভোটাভুটি যেন বৃহস্পতিবারই হয়। তাঁকে কটাক্ষ করে কুমারস্বামী বলেন, মনে হচ্ছে বিজেপির খুব তাড়া আছে। তারপর বেলা যত গড়াল, ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠল, এদিনের মধ্যে আস্থা বিতর্ক শেষ হওয়া মুশকিল। সেক্ষেত্রে ভোট হবে শুক্রবার। ভোট যাতে বৃহস্পতিবার হয়, সেজন্য ইতিমধ্যে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছে বিজেপির এক প্রতিনিধি দল।

আস্থাভোট শুরু হওয়ার আগেই জানা যায়, শাসক কংগ্রেস-জেডি এস জোটের ২৬ জন বক্তা বিধানসভায় বক্তব্য পেশ করবেন। এতজন ভাষণ দিলে স্বাভাবিক কারণেই সময় লাগবে বেশি। ফলে এদিনই ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

এর মধ্যে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়া বিধানসভায় দাবি করেন, আগে স্পিকার কে আর রমেশ ব্যাখ্যা করুন, সুপ্রিম কোর্ট কেন তাঁকে হুইপ জারি করতে বারণ করেছে। ভোটাভুটি হবে তার পরে।

সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, কর্ণাটকের বিদ্রোহী বিধায়কদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা হবে কি হবে না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন একমাত্র স্পিকার। কিন্তু যাঁরা ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন, স্পিকার তাঁদের বিধানসভার অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করতে পারবেন না। সেইমতো একজন বাদে বিদ্রোহী বিধায়করা কেউ এদিন বিধানসভায় উপস্থিত হননি। তাঁরা রয়েছেন মুম্বইয়ে।

সিদ্দারামাইয়ার বক্তব্য, বিধায়কদের হুইপ জারি করার অধিকার আছে স্পিকারের। বিচারপতিরা স্পিকারের অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছেন। বিদ্রোহীরা কি এখনও বিধায়ক আছেন না নেই? আগে স্পিকার এবিষয়ে জানান। তার পরে আস্থাভোট হবে।

সিদ্দারামাইয়াকে সমর্থন করেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এইচ কে পাটিল। তিনি বলেন, স্পিকার এব্যাপারে নির্দিষ্ট করে না জানালে বিধানসভার অধিবেশন চলতেই পারে না। তিনি যখন বক্তব্য পেশ করছিলেন, বিরোধী বেঞ্চ থেকে তুমুল চিৎকার শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা।

একটি সূত্রে খবর, বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে, সকালবেলায় দিল্লি ও বেঙ্গালুরুর কংগ্রেস নেতারা স্থির করেন, কুমারস্বামী এদিন আস্থাপ্রস্তাব পেশ করবেন। কিন্তু ভোটাভুটি কিছুতেই বৃহস্পতিবার হতে দেওয়া যাবে না। সেজন্যই স্থির হয় আস্থা বিতর্কে ভাষণ দেবেন সরকার পক্ষের ২৬ জন বিধায়ক।

শাসক জোট এখনও মুম্বইতে বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের কয়েকজনকে অন্তত সরকারপক্ষে ফিরিয়ে আনতে চান কুমারস্বামীরা। বিদ্রোহী বিধায়কদের একজন, রামলিঙ্গ রেড্ডিকে এদিনই বিধানসভায় দেখা গিয়েছে। তিনি সরকারপক্ষে ফিরে এসেছেন। আরও এক বিদ্রোহী বিধায়ক শ্রীমন্ত পাটিল হোটেল থেকে বেরিয়ে ভর্তি হয়েছেন নার্সিং হোমে। তিনিও সরকার পক্ষে ফিরে আসতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন।

এরই মধ্যে রাজ্যপাল নির্দেশ দিলেন, আস্থাভোট করাতে হবে বৃহস্পতিবারই। এতে কংগ্রেসের পরিকল্পনা বানচাল হয়ে যেতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

Comments are closed.