দিল্লি হিংসা: ছ’জন মুসলিম প্রতিবেশীকে আগুন থেকে বাঁচিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন হিন্দু যুবক প্রেমকান্ত

এই সংঘর্ষের আবহে হিন্দুত্ববাদ যখন কাঠগড়ায় উঠেছে, তখন নিজে একজন হিন্দু হয়েও মনুষ্যধর্ম পালন করতে প্রাণ বাজি রাখলেন প্রেমকান্ত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংঘর্ষে উত্তাল দিল্লি। একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে নৃশংস মারের ভিডিও। আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণের উন্মাদনায় লেগে যাচ্ছে ধর্মের রং। এমনই সময়ে মানবতার এক অনন্য নজির তৈরি করলেন প্রেমকান্ত বাঘেল। মানবতার এই নজিরই এখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আলো দেখাচ্ছে গোটা দেশকে। পুড়তে বসা ছ’জন মুসলিম প্রতিবেশীকে বাঁচিয়ে নিজের প্রাণ ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন তিনি। সকলে বলছেন, এই সংঘর্ষের আবহে হিন্দুত্ববাদ যখন কাঠগড়ায় উঠেছে, তখন নিজে একজন হিন্দু হয়েও মনুষ্যধর্ম পালন করতে প্রাণ বাজি রাখলেন প্রেমকান্ত।

    জানা গেছে, বুধবার রাতে সিএএ-পন্থী মানুষেরা দল বেঁধে আক্রমণ করছিল মুসলিম মহল্লাগুলোয়। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল একের পর এক বাড়ি। প্রাণভয়ে পালাচ্ছিলেন এলাকাবাসী মুসলিমরা। সেখানেই বাড়ি প্রেমকান্ত বাঘেলের। তাঁর প্রতিবেশী মুসলিম পরিবারেও পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেবল অন্য ধর্মের হওয়ার কারণে চোখের সামনে কারও প্রাণ যাবে, তা মানতে পারেননি প্রেম।

    তাই নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে হামলাকারীদের চোখের সামনে প্রতিবেশীদের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি। জ্বলন্ত ঘরের ভিতরে আটকা পড়ে থাকা মানুষদের জীবন বাঁচাতে যান। একে একে ৬ জন অগ্নিদগ্ধ মানুষকে উদ্ধার করে আনেন বাড়ির বাইরে। উগ্রপন্থী আক্রমণকারীদের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে দগ্ধদের হাসপাতালেও পাঠান বাঘেল। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে তাঁর নিজের শরীরেরও অনেকটা অংশ পুড়ে গেছে বেশ ভালরকম।

    পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সও ডাকেন। কিন্তু ভয়েই হোক বা যে কোনও কারণেই হোক, সেই অ্যাম্বুল্যান্স তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে রাজি হয়নি। সারা রাত পোড়া শরীরে কষ্ট পান তিনি। আজ, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় জিটিবি হাসপাতালে। ৭০ শতাংশ দগ্ধ শরীরে চিকিৎসা চলছে তাঁর।

    সংবাদমাধ্যমকে প্রেমকান্ত বাঘেল বলেন, “সময়টা খুব খারাপ। তবে সকলেই যে এখানে আক্রমণাত্মক, তা নয়। এই হিংসার মধ্যেও আমার মতো আরও অনেকেই ছিলেন যারা সহমর্মিতা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। সিএএ নিয়ে আন্দোলনের সময় আমিও সেখানে সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু যখন সেটিতে সাম্প্রদায়িক রং লাগতে শুরু করে, তখন আমি সরে আসি।”

    জানা গেছে, দিল্লির ওই শিববিহার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক আবহে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। কিন্তু তাতেও যে মানবিকতার ধর্ম এখনও বজায় রয়েছে, প্রেমকান্তের নিঃস্বার্থ ঝুঁকিই তার উদাহরণ।

    অন্য দিকে দিল্লির শিখ সম্প্রদায়ও পাশে দাঁড়িয়েছে সংঘর্ষ-বিধ্বস্তদের। ২৪ ঘণ্টা গুরুদোয়ারার দরজা খুলে দিয়েছে তারা। অশোকনগর-সহ একাধিক এলাকা থেকে খবর মিলেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কয়েকটি মুসলিম পরিবারকে নিজেদের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন হিন্দুরা। আবার বুধবার হাতে হাত রেখে মানবশৃঙ্খল করে চাঁদবাগের একটি মন্দির ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন সেখানকার মুসলিমরাও।

    এসবের মধ্যেও দিল্লিতে সংঘর্ষ থামছে না পাঁচ দিন পরেও। ইতিমধ্যেই নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। আহত কমপক্ষে ২০০। তাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ইতিমধ্যেই ১০৬ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More