শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

গান্ধীজির কুশপুতুলে গুলি! অবশেষে ধৃত হিন্দু মহাসভার নেত্রী পূজা শকুন পাণ্ডে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাত্মা গান্ধী কুশপুতুলে গুলি চালিয়েছিলেন তাঁরা। গান্ধীজির ৭১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এমনই ছিল তাঁদের ‘উদযাপন’। তাঁরা হিন্দু মহাসভার সদস্য। আর এই কাজে প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সমিতির সম্পাদক পূজা শকুন পাণ্ডে। অবশেষে গ্রেফতার হলেন পূজা।

৩০ জানুয়ারি, গান্ধীজির মৃত্যুদিবসে তাঁর হত্যাকারী নাথুরাম গডসের স্মরণে দিনটি তারা আনন্দ সহকারে পালন করেছিলেন, যার ভিডিও ভাইরালও হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর পর থেকেই তাদের গ্রেফতারের দাবি উঠেছিল সর্বত্র। নিখোঁজ ছিলেন পূজা শকুন পাণ্ডে, তার স্বামী অশোক পাণ্ডে-সহ ওই দলের ১২ জন সদস্য। খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে গ্রেফতার হয় তিন জন।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার আলিগড়ের তপ্পল এলাকা থেকে ঘটনার মূল মাথা পুজা শকুন পাণ্ডেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর স্বামী অশোক পাণ্ডেকেও পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পূজা ও তাঁর স্বামী অশোক পাণ্ডে-সহ ১২ জনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ এ, ২৯৫ এ, ১৪৭ ধারায় মামলা রুজু করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

জাতির জনক বলে পরিচিত মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা  করেছিলেন নাথুরাম গডসে। তিনি হিন্দু মহাসভার সদস্য  ছিলেন। সেই হিন্দু মহাসভাই গান্ধীজির মৃত্যুদিন ‘পালন’ করল তাঁর কুশপুতুলে গুলি করে। পাশাপাশি গডসের মূর্তিতে মালা দিয়ে মিষ্টিও বিতরণ করে তাঁরা।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে অশোক পাণ্ডে জানিয়েছিলেন, ‘‘আমরা ভুল কিছু করিনি। আমরা আমাদের অফিস চত্বরেই করেছি এটা। গান্ধীজি দেশভাগের জন্য দায়ী…১০ লক্ষেরও বেশি হিন্দু মারা গিয়েছিলেন তাতে।’’ অন্য দিকে, এই ঘটনায় রাজীব কুমার নামে হিন্দু মহাসভারই এক সদস্য পূজার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে জানান, পূজা ওই সংগঠনের কেউ হন না। হিন্দু মহাসভার ব্যানারকে সামনে রেখে পূজা এমন কাণ্ড করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রাজীব। উল্লেখ্য, রাজীব যে হিন্দু মহাসভার সদস্য, তার প্রেসিডেন্ট স্বামী চক্রপানি।

যদিও পরে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অশোক পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘‘স্বামী চক্রপানির নেতৃত্বাধীন হিন্দু মহাসভার সঙ্গে আমাদের কোনও যোগ নেই। রাজীব কুমারের অভিযোগের ভিত্তিতে পূজার নামে এফআইআর দায়ের করে ভুল করেছে পুলিশ।’’ প্রসঙ্গত, অশোক যে হিন্দু মহাসভার সদস্য, তার প্রেসিডেন্ট চন্দ্র প্রকাশ কৌশিক।

কয়েক দিন আগে সোশ্যাল  মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি  ভিডিও-য় দেখা  যায়, গান্ধীজির কুশপুতুলের দিকে পিস্তল তাক করে প্রথমে ক্যামেরার সামনে বেশ কয়েক বার পোজ দেন হিন্দু মহাসভার জাতীয় সম্পাদক পূজা। স্লোগান ওঠে, মহাত্মা নাথুরাম গডসে অমর রহে। তার পরেই গান্ধীজির কুশপুতুলে পরপর গুলি চালান তিনি। এতেই শেষ নয়, কুশপুতুল থেকে ঝরে পড়ে নকল রক্তও। এ ভাবেই পালন করা হয় জাতীর জনকের হত্যা! গুলি চালানোর পরে সকলকে মিষ্টিমুখও করিয়েছেন পূজা।

দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও।

সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন  তাঁদের সংগঠনে এই নতুন কায়দায় গান্ধীজির মৃত্যু দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিনটিকে শৌর্য দিবস হিসেবে দেখে হিন্দু মহাসভা। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হয়ে যেতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।

১৯৪৯ সালের ৩০ জানুয়ারি হত্যার পরে ওই বছরেই ৮ নভেম্বর ফাঁসির সাজা ঘোষণা হয় নাথুরামের। তার আগে চলে  আইনি প্রক্রিয়া। গান্ধীজির দুই ছেলে না চাননি গডসের ফাঁসি হোক। কিন্তু নভেম্বর মাসেরই ১৫ তারিখ  আম্বালা জেলে নাথুরামের ফাঁসি হয়।

তবে এই প্রথম নয় এর আগেও গডসেকে মহান মানুষ হিসেবে প্রতিপন্ন করার  কাজ করেছে হিন্দু মহাসভা। ২০১৫ সালে ওই সংগঠনের তরফে বলা হয়েছিল, তারা কর্নাটকের ছ’টি জেলায় গডসের মূর্তি বসাতে চায়।

Shares

Comments are closed.