তপন ঘোষ মারা গেলেন, আরএসএস থেকে হিন্দু সংহতি, বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন গেরুয়া বাহিনীর এই নেতা

এক সময়ে আরএসএস-এর প্রচারক থাকলেও বেশ কয়েক বছর সঙ্ঘের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না তপন ঘোষের। নীতিগত মতানৈক্য থেকেই তিনি এক সময়ে সঙ্ঘের সংস্পর্শ ছেড়ে নতুন সংগঠন গড়েন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: মারা গেলেন তপন ঘোষ। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বে থাকলেও হিন্দু নেতা হিসেবেই ছিল তাঁর পরিচিতি। সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হন তিনি। ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই রবিবার সন্ধ্যায় মারা যান তপন ঘোষ। বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

    এক সময়ে আরএসএস-এর প্রচারক থাকলেও বেশ কয়েক বছর সঙ্ঘের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না তপন ঘোষের। নীতিগত মতানৈক্য থেকেই তিনি এক সময়ে সঙ্ঘের সংস্পর্শ ছেড়ে নতুন সংগঠন গড়েন। বরাবরই তিনি উগ্র রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন। আর তার জেরেই সঙ্ঘের সঙ্গে তাঁর মতানৈক্য তৈরি হয়। তবে জীবনের বেশির ভাগ সময়টাই কেটেছে আরএসএস প্রচারক হিসেবে। বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনার সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

    আরও পড়ুন করোনা গোপন করেছিল চিন, সরব হলেন ভয়ে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়া হংকংয়ের বিজ্ঞানী

    তপন ঘোষ আরএসএস-এ যোগ দেন ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে। কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্ক (ওয়েলিংটন স্কোয়্যার) শাখার স্বয়ংসেবক থাকার পরে সঙ্ঘের প্রচারক (হোলটাইমার) হয়ে যান। জরুরি অবস্থার সময়ে দীর্ঘ সময় কারাবাসও করেন তপন ঘোষ। আরএসএস প্রচারক হিসেবেই রাজ্যে অখিল ভারতী বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সংগঠন-সম্পাদক হন। এই সময়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চান, কিন্তু তৎকালীন বিজেপি নেতৃত্ব তাতে রাজি হননি। দীর্ঘ সময় বিদ্যার্থী পরিষদের দায়িত্ব পালনের পরে ফের হাওড়া ও হুগলি জেলা নিয়ে গঠিত বিভাগের জন্য আরএসএস প্রচারক হন তপন।

    সেই সময়ে মৌরিগ্রামে ‘আল্লানা কসাইখানা’ নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন। পাশে ছিলেন তৎকালীন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্তর্জাতিক প্রধান অশোক সিংঘল। এই সময়ে ফের স্থানীয় আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর বিরোধ‌ শুরু হয়। প্রচারকের দায়িত্ব পালন না করে অন্য কাজ করছেন বলে তাঁর দায়িত্ব বদল হয়। দুই ২৪ পরগনা নিয়ে গঠিতে বিভাগের প্রচারক হন তপন ঘোষ। সেই দায়িত্বে গিয়েও একই থেকে যান তপন।

    ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে বাসন্তীর কাছে উত্তর সোনাখালি গ্রাম গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তাল হয়। সেখানেও আরএসএস-এর নির্দেশ অমান্য করে সংঘর্ষে হিন্দুদের নেতৃত্ব দেন তপন ঘোষ। আবার দায়িত্ব বদল হয়। তপনকে এবার দিল্লিতে পাঠিয়ে দেয় আরএসএস। বজরং দলের সর্বভারতীয় দায়িত্ব দেওয়ার পরে কার্যত সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেন তপন ঘোষ।

    এর পরেই তিনি তৈরি করেন তাঁর নতুন সংগঠন ‘হিন্দু সংহতি’। মধ্য কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কের কাছে গলি, তস্য গলির ভিতরে ৫, ভুবন ধর লেনে নিজের পৈতৃক বাড়িতেই তৈরি হয় সংগঠনের কেন্দ্র। ওই বাড়ি থেকেই নিয়মিত প্রকাশিত হয় সংগঠনের পত্রিকা। একই সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠন বিস্তারের কাজ। হিন্দু সংহতির নাম বারবার জড়িয়ে যায় বিভিন্ন গোষ্ঠী সংঘর্ষের সঙ্গে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতই নয়, বিশ্বের বহু দেশেই হিন্দু সংগঠন গড়ার কাজ করেছেন তিনি।

    তবে হিন্দু সংহতিতেও স্থায়ী হননি। একটা সময়ে অনুগামী দেবতনু ভট্টাচার্যের হাতে দেন সভাপতির দায়িত্ব। পরে অবশ্য সংগঠনই ভেঙে দেন তিনি। যদিও এর পরে দেবতনু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতি নতুন করে চলতে থাকে। আজন্ম সংগঠন প্রিয় তপন ঘোষ ফের তৈরি করেন ‘সিংহ বাহিনী’ নামে এক সংগঠন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More