বুধবার, জুন ২৬

হিমালয়ের রানির গায়ে আগুন! বিপদের মুখে ২০০ পর্যটক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চালকের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল হিমালয়ান কুইন হেরিটেজ ট্রেন। মঙ্গলবার বিকেলে চলন্ত ট্রেনে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় ট্রেনের সাতটি বগি। ২০০ যাত্রী নিয়ে ট্রেন তখনও ছুটছে। কোনও রকমে ট্রেন থামিয়ে বড় দুর্ঘটনার থেকে যাত্রীদের রক্ষা করেন চালক।

৫২৪৫৫ নম্বর টয়ট্রেনটি কালকা থেকে শিমলা যাচ্ছিল। সূত্রের খবর, ইঞ্জিনে আগুন লাগতেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা ট্রেন। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি শুরু করেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমসিম খান রেলের কর্মীরা। তবে প্রাথমিক আতঙ্ক কেটে যায় ট্রেন থামার পরেই। ইঞ্জিনটি আলাদা করে দেওয়া হয় বাকি ট্রেন থেকে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণেই আচমকা এমনটা ঘটেছে। একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে অনুসন্ধানের জন্য।

এই কাণ্ডের পরে একটি নতুন ইঞ্জিন পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। আরও চার ঘণ্টা ছোটার পরে গন্তব্যে পৌঁছয় ট্রেনটি।

কালকা-শিমলা রুটে ন্যারো গজের এই ঐতিহ্যশালী হিমালয়ান কুইন রেল পরিষেবা শুরু হয় ১৯০৩ সালে। একশো বছরেরও দীর্ঘ এই পরিষেবায় আগে কখনও এমনটা ঘটেনি। নানা সময়ে বরফ, বৃষ্টি ও ধসের কারণে নানা অসুবিধায় পড়লেও, এত বড় অগ্নিকাণ্ড এই প্রথম।

শীতের প্রথম বরফের পরে এই ট্রেনে যাত্রা করাটা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। সম্প্রতি এই ট্রেনের ছাদটি স্বচ্ছ কাচ দিয়ে ঢেকেছে রেল। আয়োজন করেছে আরও অনেক বিলাসবহুল সুবিধার। এই অবস্থায় এমন একটি বড় দুর্ঘটনা আতঙ্ক বাড়িয়েছে অনেকটাই।

আম্বালায়, রেলের এক সিনিয়র কর্তা হরি মোহনের কথায়, “অনেকগুলি তার পুড়ে যাওয়ার ফলে অনেক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গিয়েছে। সেগুলি সারাতে সময় লাগবে। রেলকর্মীরা খবর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ করি। নির্বিঘ্নে শেষ করা যায় যাত্রা।”

Comments are closed.