বদলাতে হল ১৮৯ বছরের পুরোনো নিয়ম! সাধারণ মানুষদের ঢুকতে দেওয়া হবে না এবছর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোয়

১১৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  ১৯ তারিখ, সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে এবার পুজো মণ্ডপে সাধারণ মানুষরা ঢুকতে পারবেন না। এই খবরে মন ভেঙেছে অনেকেরই। শহর পুজোর আলোয় ছেয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কথা প্রায় ভুলতে বসেছিলেন। গতকাল কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনামা অনুসারে সমস্ত পুজোমণ্ডপ কনটেইনমেন্ট জোন বলে ঘোষণা করা হল।

লককডাউনের পর থেকেই এবার পুজো হবে কি না, এই নিয়ে বারোয়ারি পুজোর কর্মকর্তারা বেশ সংশয়ের মধ্যে ছিলেন। কিন্তু অন্যদিকে এইবছর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর নিয়মবিধি আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কলকাতায় বারোয়ারি পুজোর মতো বনেদি বাড়ির পুজো নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ মাতামাতি থাকে। কিন্তু এবছর প্রায় সবকিছু থেকেই বঞ্চিত থাকবেন সাধারণ মানুষেরা।

শেষ মুহূর্তে জেনে নিন কোন কোন বনেদি বাড়ির কী কী নিয়ম পাল্টালো-

শোভাবাজার রাজবাড়ি –

“বাড়ির সদস্য ছাড়া কেউই এবার পুজোয় ঠাকুর দালানে ঢুকতে পারবেন না”, বললেন বাড়ির সদস্য তীর্থঙ্কর কৃষ্ণ দেব।
তিনি জানান দুই রাজবাড়ি অর্থাৎ ‘বাঘ-ওলা রাজবাড়ি’ আর ‘ছোট রাজবাড়ি’ দু’জায়গাতেই এক নিয়ম।

বাড়ির পুজোর নিয়ম কানুন খুব একটা বদলাবে না। বাড়ির সদস্যদের সুরক্ষার কথা ভেবে কিছু আয়োজন হয়ত ছোট করে করা হবে। প্রতিবেশী, সাধারণ মানুষ বা কোন ফোটোগ্রাফার (কয়েকজন মিডিয়ার লোক ছাড়া) কেউই ঢুকতে পারবেন না।

ভবানীপুর মল্লিক বাড়ি –

“বাড়ির মধ্যে যাতে খুব ভিড় না হয় সেদিকেই খেয়াল রাখব। ” , বললেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক।
বৈষ্ণব রীতি অনুসারে এই বাড়ির পুজো হয়। জন্মাষ্টমীর দিনই কাঠামো পুজো হয় এবং মূর্তি তৈরির কাজ শুরু হয় ঠাকুর দালানে।
“প্রতিবছর পুজোর কটাদিন ভীষণ হৈ হুল্লোরে মাতেন বাড়ির সকলে। শুধু বাড়ির সদস্য না, অনেক অচেনা মানুষেরও ভীড় জমে। দেশ বিদেশ থেকে লোকজন আসে। তবে এবার পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে এই ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করব আমরা।” তিনি জানান।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার, বরিষা –

“পুজো হচ্ছে, কিন্তু ছোট করে” , বললেন পরিবারের সদস্য তন্ময় রায়চৌধুরী।
“আমাদের বাড়ির ছ’টা ভাগ – বড় বাড়ি, আটচালা বাড়ি, মেজো বাড়ি, মাজের বাড়ি, বেনকি বাড়ি আর কালিকিঙ্কর ভবন। জন্মাষ্টমীর দিনই আমরা কাঠামো পুজো করে শুভ সূচনা করেছি। পুজোর নিয়ম সব একই থাকবে। শুধু আয়োজন ছোট করে হবে। পুজোর সময় শুধুমাত্র বাড়ির সদস্যরাই থাকবেন এবছর। অন্যবার বহু মানুষ আসতেন এবং ভোগ প্রসাদ খেতেন। এবার যেহেতু পরিস্থিতি অন্যরকম, তাই সব আয়োজনই ছোট করে হবে।” ,জানান তিনি।

হাতিবাগান কুন্ডু বাড়ি –

” এবছর পুজো একেবারেই বাড়ির পুজোর মতো হবে। শুধু বাড়ির সদস্যরা থাকবেন। ” , বললেন তীর্থঙ্কর কুন্ডু।
“পুজোর আচার নিয়ম সবটাই পালন করা হবে। তবে এবারে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রেখেই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যবারের থেকে এবছর বির্সজনের সময় ভিড় এড়ানোর জন্য নতুন কিছু আলাদা নিয়ম থাকবে। ” তিনি বলেন।

রানি রাসমণির বাড়ির পুজো, জানবাজার-

“নিউ নর্মালের সমস্ত নিয়ম মাথায় রেখে পুজো হচ্ছে।” , বললেন বাড়ির সদস্য প্রসুন হাজরা।
স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব আসতেন এই বাড়ির পুজোতে। বাড়ির অনেক পুরোনো নিয়ম আজও মেনে চলা হয়। তবে পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার যে সব নিয়ম পালন করতে বলেছেন সেই সবকিছুকে মাথায় রেখে পুজো হবে এবার জানবাজারে।

শ্রীমানি বাড়ির দুর্গা পুজো,সুকিয়া ষ্ট্রীট

বাড়ির সদস্য সুতপা শ্রী্মানি জানান, ” বাড়িতে এবছর অন্নপূর্ণা পুজো হয়নি। ঘট পুজো হয়েছে। ভেবেছিলাম পুজোর আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এখন পরিস্থিতি আরও জটিল। তাই এবার শুধুমাত্র বাড়ির সদস্যরাই পুজোতে উপস্থিত থাকবেন। বাড়ির অভ্যন্তরে ভিড় যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখব।”

গিরিশ ভবন , ভবানীপুর –

“১৮৯ বছরের পুরোনো নিয়ম বদলাতে হল এই বছর।” , বললেন বাড়ির সদস্য কৌশিক মূখার্জী।
তিনি বললেন, ” আমরা এবছর মূর্তি পুজো করছি না। ঘট পুজো হবে। বাড়ির সকল সদস্যরা মিলে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবছরের নিয়ম এবারে বদলাতে হল। এর আগে অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও পুজো হয়েছে। কিন্তু এবছরটা একেবারে আলাদা। পুজো হলে বাড়িতে ভিড় হবেই। সেকারণেই এই সিদ্ধান্ত। পরেরবছর থেকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আমরা পুজো করব”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More