ড্রাগ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তর্ক করতে আসেন জো বিডেন, বিতর্কিত মন্তব্য ট্রাম্পের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বিডেন ইদানীং যখন বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন, তখন একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ করেছি। গত মঙ্গলবার ফক্স টিভিকে এক সাক্ষাৎকারে এমনই বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রতিপক্ষ বিডেন ড্রাগ নেওয়া শুরু করেছেন। সেজন্যই তিনি আগের চেয়ে ভাল তর্ক করতে পারছেন।

প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, বিডেনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প। এর আগে তিনি বলতেন, “বিডেন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য পুরোপুরি অযোগ্য। আমেরিকার সর্বোচ্চ পদে বসলে তিনি বিপর্যয় ঘটাবেন।” এরপরে বামপন্থী প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্সের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নেন বিডেন। তখন ট্রাম্প বলেন, ভালই তর্ক করেছেন বিডেন।

ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, কীভাবে বিডেনের পারফরম্যান্স ভাল হল সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি ফের বলেন, “মনে হয় তিনি কোনও ড্রাগের নেশা করেছেন। এর ফলে তাঁর যুক্তিগুলি শানিত হয়ে উঠেছে।”

আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিডেনের সঙ্গে বিতর্কে বসবেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, বিতর্কের আগে বিডেনের ড্রাগ টেস্ট করাতে হবে। তিনি নিজেও ড্রাগ টেস্ট করাতে রাজি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এর আগে ফ্লোরিডার এক রেডিও স্টেশনে বিডেন বলেন, “ট্রাম্পের সঙ্গে তর্কের জন্য আমি অপেক্ষা করছি। আমি জানি, সে একটা বোকা। তার মন্তব্যগুলি নিতান্তই বোকা বোকা।”

৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে ভোটারদের বোঝাতে চেষ্টা করছেন, ৭৭ বছর বয়সী বিডেন মানসিকভাবে সুস্থ নন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বিডেন ঘন ঘন বেফাঁস মন্তব্য করেন। তাঁকে কোনও প্রশ্ন করার আগে রিপোর্টারদের লিখিতভাবে জানাতে হয়, কী জিজ্ঞাসা করবেন।

ট্রাম্প নিজে রোজই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। সেক্ষেত্রে প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, “জো ইতিমধ্যেই হেরে গিয়েছে। মানসিকভাবে অসুস্থ কোনও ব্যক্তিকে আমরা প্রেসিডেন্ট হতে দিতে পারি না।”

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্রমশ তাঁর বিরুদ্ধে আরও তীব্র আক্রমণ করছে। তাঁকেও আক্রমণের ধার বাড়াতে হবে।

এর আগে এক ভাষণে তাঁকে সমর্থকদের দু-দুবার করে ভোট দিতে বলেছেন ট্রাম্প। খোলা মঞ্চে, প্রকাশ্যে এমন বেআইনি কাজের কথা বেশ জোরের সঙ্গে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অথচ তিনি নিশ্চয় ভালই জানেন, দু’বার ভোট দেওয়া আইনত অপরাধ। তার পরেও ট্রাম্পের এমন দাবি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

কয়েকদিন আগে নর্থ ক্যারোলিনার উইলমিংটন শহরে ভোট প্রচারের বক্তৃতা দেওয়ার সময়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি। যদিও ভোট প্রচার করতে উইলমিংটন যাননি ট্রাম্প। তিনি গেছিলেন, এই শহরটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ঐতিহাসিক শহর হিসেবে ঘোষণা করার জন্য। শহরটিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু হেরিটেজ সিটি’ ঘোষণা করার পরে বক্তৃতা রাখার সময়ে ট্রাম্প আচমকাই ভোটের প্রসঙ্গে চলে যান। এবং তখনই বলেন, একবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে এবং আরও এক বার ডাক যোগে, অর্থাৎ মোট দুবার করে যেন তাঁকে ভোট দেন সমর্থকরা।

এবারের করোনা পরিস্থিতিতে ডাক যোগে ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমেরিকায়। তবে কেউ চাইলে তিনি বুথে গিয়েও দিতে পারেন ভোট। কিন্তু প্রথম থেকেই ডাকযোগে ভোটের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা এর মাধ্যমে ভোট জালিয়াতির সুযোগ পাবেন। ডাকযোগে ভোট আদৌ নিরাপদ বলে মনে করেন না তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More