বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

হার্নিয়া অপারেশনে শহরে নতুন দিশা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : হার্নিয়াকে আমরা খুব একটা গুরুত্ব দিই না।  এই হার্নিয়াই এক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।  তখন অপারেশন ছাড়া উপায় থাকে না।  হার্নিয়ার একটি নতুন ধরনের অপারেশন শুরু করছে অ্যাপোলো হাসপাতাল। বুধবার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে একথা জানানো হয়।

কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের ল্যাপেরোস্কোপিক ও হার্নিয়া সার্জেন ডঃ বি রামান্না এবং হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডঃ জয় বসু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন।  তাঁরা জানান, এই প্রথম  দেশে এই উদ্যোগ নেওয়া হল। পরে মুম্বই এবং দিল্লির অ্যাপোলোতে এই ব্যবস্থা করা হবে।  পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই রোগ সারা বিশ্বে খুব বড় আকার ধারণ করছে আজকাল।  অপারেশন ছাড়া কিছুই করার থাকে না এক্ষেত্রে।  ওষুধে এই রোগ সারানো যায় না।  তাই অপারেশনই শেষ কথা।

নতুন এই ব্যবস্থায় খুব কম সময়ে অপারেশন করা সম্ভব হবে।  ২০ থেকে ৩০ মিনিট, বা সমস্যা জটিল হলে খুব বেশি হলে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লাগে।  সেটা হার্নিয়ার মাপের এবং অবস্থার উপর নির্ভর করবে। এতে রোগী কম ব্যথা, যন্ত্রণা পাবেন।  পেটের বা কুঁচকির মাংসপিণ্ড বেরিয়ে আসে যখন তাতে যে ‘ফরেনবডি নেট’ লাগানো হয়, তা অনেক সময়েই পেশীর সঙ্গে মিশে যায় ও তাতে শরীরের ক্ষতি হয়।  নতুন ব্যবস্থায় পেশীর উপরে এমনভাবে এই নেট লাগানো হবে যাতে সেটা ঝুলে যাওয়া মাংসপিণ্ডকে বাড়তে দেবে না, আবার শরীরের সাথে কোনও ভাবে মিশে যাবে না।

আসলে হার্নিয়া হল শরীরের পেশীর স্থূলতা।  মহিলাদের ক্ষেত্রে ‘incisional hernia’, ‘umbilical hernia’ এবং পুরুষের ক্ষেত্রে ‘inguinal hernia’ বেশি হয়।  পুরুষের কুঁচকির পেশি স্ফীত হয়ে যায়, আর মহিলাদের পেটের পেশিতে এই সমস্যা হয়।  এমনও হয়েছে যে প্রথমদিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় এক একজনের হার্নিয়া এতবড় আকার ধারণ করেছে যে সেই মাংসপিণ্ডকে টেবিলের মতোও ব্যবহার করেছেন রোগী! যদি আপনার হার্নিয়া ছোট থাকে এবং আপনার কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে তাহলে ডাক্তার আপনাকে অপেক্ষার কথা বলতে পারেন।  কিন্তু হার্নিয়া যদি বড় হতে থাকে এবং ব্যথা হয় তাহলে অস্বস্তি দূর করতেও সাধারণ অপারেশনের প্রয়োজন হয়।

নতুন ব্যবস্থায় AWR (abdominal wall reconstruction) ,E TEP, TAR (transversus abdominis release), SCOLA (subcutaneous onlay laparoscopic approach), BOTOX, PPP (preoperative progressive pneumoperitoneum) ইত্যাদি পদ্ধতিতে অপারেশন করা হবে। যেখানে সবচেয়ে কম সময়ে আপনাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।  এক্ষেত্রে আপনার পকেট থেকে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।  তবে অপারেশনের জটিলতা থাকলে সে খরচ বাড়তেও পারে।  অ্যাপোলোতে যেসব  স্কিম রয়েছে তাতে আপনি কিছুটা হলেও কম খরচে এই অপারেশন করতে পারেন।  শহরের এই নতুন ব্যবস্থা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কতটা নতুন দিশা দেখাতে পারে সেটাই এখন দেখার।

 

Shares

Comments are closed.