রবিবার, আগস্ট ১৮

কেউ নিজেকে কসাই ভেবে টুকরো করত দেহ, কেউ আবার দৈত্য ভেবে ফাঁস দিত শিশুদের গলায়!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০০ জন রোগীকে খুন করেছি! ভরা আদালতে স্বীকার করে নিল জার্মানির একটি হাসপাতালের প্রাক্তন নার্স, নীলস হোগেল। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ডোজ়ের ওষুধ প্রয়োগ করে সে মেরে ফেলত তাঁদের– এ কথাও জানিয়েছে ওই নার্স।

বৃহস্পতিবার চলতে থাকা শুনানির সময়ে তার স্বীকারোক্তি শুনতে শুনতে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিরা। নীলস অবশ্য অবলীলায় বলে যায়, এটা এক রকম খেলা ছিল তার কাছে। রোগীকে ওষুধ দিয়ে মৃত্যুর মুখ পর্যন্ত ঠেলে দিয়ে, ওষুধ বন্ধ করে আবার বাঁচিয়ে আনার নেশা হয়ে গিয়েছিল। এটা করে সে সহকর্মীদের চমকে দিতে চাইত। তবে এমনটা করতে গিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে বাঁচানো যায়নি। আর সেই সংখ্যাটা একশোরও বেশি। দু’টি হাসপাতালে কাজ করার সময়ে একশো জনেরও বেশি রোগী এভাবেই মেরেছে সে। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সব ক’টি ঘটনা ঘটেছে। নীলস মনে করিয়ে দিয়েছে, “সব ক’টা হত্যা আমি ঠাণ্ডা মাথাতেই করেছি।”

ঘটনাটিকে সিরিয়াল কিলিং বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। জার্মানিতে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সব চেয়ে বড় সিরিয়াল কিলার হিসেবে তকমাটি এই নার্সের গায়েই লাগল।

এ রকমই আরও কয়েক জন ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলারের ঘটনা শুনলে চমকে উঠতে হয়!

পুলিশই যখন খুনি

সাইবেরিয়ার প্রাক্তন পুলিশ মিখাইল পপকভের কথাই ধরুন না। বছর দশের আগে ২২টা খুন করে জেলে গিয়েছিল সে। গত বছর ডিসেম্বরে ফের জানা গেল, ২২ নয়, মোট ৫৬টি খুন করেছে ৫৪ বছরের মিখাইল! ১৯৯২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ঘটেছে সব ক’টি কাণ্ড। বেশি রাতে টহল দিতে বেরিয়ে রাস্তায় লিফ্ট দেওয়ার নাম করে মহিলাদের গাড়িতে তুলত মিখাইল। পুলিশের গাড়িতে দিব্যি নিরাপদে উঠতেন মহিলারাও। তার পরেই তাঁকে ধর্ষণ করে, মাথায় হাতুড়ি মেরে খুন করত। লোপাট করত প্রমাণ। গাড়ি থেকে ফেলে দিত লাশ।

এটাই নেশা ছিল মিখাইলের। পুলিশ এমনটা করতে পারে, কে সন্দেহ করবে! ফলে ধরা পড়তেও অনেক সময় লাগে। তত দিনে ঘটে যায় ৫৬টি খুন। রাশিয়ার সব চেয়ে কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারের তকমা মিখাইলই পেয়েছে।

এমনিই খুন করতাম

রাশিয়ার কুখ্যাততম যদি মিখাইল হয়, তা হলে তার থেকে কোনও ভাবেই পিছিয়ে নেই আমেরিকার কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার স্যামুয়েল লিটল। ৭৮ বছর বয়সি এই মানুষটি গত বছর নভেম্বরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানিয়েছে, ১৯৭০ থেকে ২০০৫-এর মধ্যে ৯০টি খুন করেছে সে। তার ‘টার্গেট’ ছিল, ড্রাগের নেশা করা ব্যক্তিরা এবং পেশাদার বেশ্যারা। কেন এমন করত? এমনি!

‘এমনি’ই নাকি বেছে বেছে ৯০টি মানুষকে মেরে ফেলেছে সে। শুধু তা-ই নয়। প্রতিটা খুনের পরে এমন ভাবে তাঁদের মুখ থেঁতলে দিত, যে বেশির ভাগ সময়েই নিহতদের পরিচয় জানা যেত না।

সাধারণত আক্রান্তের মুখের বিবরণ শুনে অপরাধীর ছবি আঁকায় পুলিশ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে, অপরাধীকে ধরে, তার কাছ থেকে বিবরণ শুনে নিহতদের ছবি আঁকিয়ে তাঁদের পরিচয় বার করতে হয়েছে পুলিশকে!

দাবার খোপ ভরাতে খুন

তবে এদের ছাপিয়ে গিয়েছে আলেকজান্ডার পিচুস্কিন। মস্কোর এই যুবক ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে ৪৮টা খুন করার পরে ধরা পড়ে ২০০৭ সালে। ৩৩ বছরের আলেকজান্ডার দাবি করে, দাবার খোপে ৬৪টি খোপ থাকে। সেই এক একটি খোপের জন্য এক এক জন মানুষ মারবে বলে ঠিক করেছিল সে! পার্কে, রাস্তায় একটু বয়স্ক মানুষ খুঁজে এই কাজটাই করছিল। কিন্তু ‘লক্ষ্যপূরণ’-এর আগেই শ্রীঘরে যেতে হয় তাকে।

অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় খুন

চিনের ইয়াং শিনহাই তিন বছর ধরে ৬৭টি খুন করার পরে ২০০৪ সালে ধরা পড়েছিল। ৩৫ বছরের এই যুবক জানিয়েছিল, অ্যাডভেঞ্চার! অ্যাডভেঞ্চারের নেশাতেই নাকি বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে, কোনও পরিবার বেছে নিয়ে, সেই পরিবারের সকলকে কুপিয়ে খুন করত! রক্তের ফিনকি তুলে অনেক মানুষ একসঙ্গে ছটফটিয়ে মরে যাচ্ছে– এ দৃশ্যের নাকি তুলনা হয় না! তবে খুনের আগে মহিলাদের ধর্ষণ করতে আর খুনের পরে পালানোর সময়ে সর্বস্ব লুঠ করতে ভুলত না ইয়াং।

খুন করতে ভাল লেগেছে

আমেরিকার ট্রাক পেন্টার গ্যারি রিজওয়ে স্বীকার করে নেয়, ৪৮ জন পেশাদার বেশ্যাকে খুন করেছে সে। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে এই খুনগুলি করলেও, সে ধরা পড়ে ২০০৩ সালে। তখন তার বয়স ৫৪ বছর। এ ক্ষেত্রেও খুনের কারণ নির্দিষ্ট নয়। খুন করতে ভাল লেগেছে তাই করেছে বলে জানায় গ্যারি।

ডাক্তার খুনি

ইংল্যান্ডের চিকিৎসক হ্যারল্ড শিপম্যান ২০০০ সালে ধরা পড়ে ১৫ জন বৃদ্ধ রোগীকে খুন করার অভিযোগে। এর বছর চারেক পরে, ৫৭ বছর বয়সে জেলেই আত্মহত্যা করে ওই সিরিয়াল কিলার। বিচার চলাকালীন জানা গিয়েছিল, ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে ২৫০ জন রোগীকে বেশি মাত্রার মরফিন দিয়ে মেরেছে সে। তদন্তকারীরা জানিয়েছিল, ইউথ্যানেশিয়া অর্থাৎ স্বেচ্ছামৃত্যু প্র্যাকটিস করত এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার।

লক্ষ্য যখন ছোটরা

২০০০ সালে সাজা ঘোষণা হয় কলম্বিয়ার বাসিন্দা লুইস অ্যালফ্রেডো গ্যারাভিটোর। আট থেকে ১৬ বছরের ছেলেদের ধরে ধরে খুন করত সে। পাঁচ বছরে ১৮৯টা বাচ্চাকে খুন করে, ৪২ বছর বয়সে ৮৩৫ বছর জেলের শাস্তি হয় তার।

কসাই শিক্ষক

১৯৭৮ থেকে ১৯৯০-এর মধ্যে ৫২ জন মহিলাকে ধর্ষণ করে, খুন করে দেহ কুচিয়ে দেয় রাশিয়ান সিরিয়াল কিলার আন্দ্রেই চিকাতিলো। ১৯৯২ সালে যখন সে ধরা পড়ে, তার বয়স তখন ৫৬। পেশায় শিক্ষক হলেও, তার মধ্যে আসলে এক জন কসাই লুকিয়ে আছে বলে জানিয়েছিল সে। সেই সঙ্গে স্বীকার করেছিল, কুচিয়ে কাটার সময়ে দুয়েক টুকরো মাংস খেয়েও নিত সে।

আন্দিজের দৈত্য

কলম্বিয়ার পেদ্রো লোপেজ় মনস্লেভ ধরা পড়েছিল একটি নাবালিকাকে অপহরণ করতে গিয়ে। কিন্তু ১৯৮০ সালের এই অপহরণের তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়েছিল কেউটে। জানা গেছিল, কলম্বিয়া, ইইকুয়েডর ও পেরুর ৩১০ জন ছোট বাচ্চাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে সে। ১৬ বছরের কারাবাসের পরে তাকে মানসিক রোগীদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। কয়েক বছর পরে সেখান থেকে পালায় সে। জেরায় জানিয়েছিল, সে নাকি আসলে আন্দিজ পাহাড়ের দৈত্য। দুষ্টু বাচ্চাদের গলায় ফাঁস দিয়ে ‘শাসন’ করাই কাজ তার।

আরও পড়ুন…

৩০০-র বেশি ধর্ষণ, খুন করেও দিব্যি আছেন জেলে, চিনে নিন বিশ্বের কুখ্যাত সিরিয়াল কিলারদের

Comments are closed.