মঙ্গলবার, মে ২১

এমনটা হতে পারে, ভাবাই যায় না, বলছেন নিউ জিল্যান্ডের মুসলিমরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশগুলির অন্যতম হল নিউ জিল্যান্ড। সেখানে কালো হেলমেট পরা আততায়ী মসজিদে হানা দেবে, গুলি চালিয়ে মানুষ মারবে, ভাবতেই পারেননি সেদেশের মুসলমানেরা। নিউ জিল্যান্ডের সাধারণ মানুষও ভাবতে পারেনি, দক্ষিণপন্থী জঙ্গিরা এইভাবে গণহত্যা চালাতে পারে। সেদেশের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদেরন বলেছেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে শুক্রবার ছিল ‘ডার্কেস্ট ডে’। সবচেয়ে কালো দিন।

নিউ জিল্যান্ডে মুসলমানদের সংখ্যা খুবই কম। ২০১৩ সালের জনগণনা অনুযায়ী সেদেশে ৪৬ হাজার মুসলমান বাস করেন। তাঁরা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ। ২০০৬ থেকে ২০১৩-র মধ্যে দেশে মুসলমানদের জনসংখ্যা বেড়েছিল ২৮ শতাংশ। তাঁদের মাত্র এক চতুর্থাংশ নিউ জিল্যান্ডে জন্মেছেন। বাকিরা এসেছেন বাইরে থেকে।

স্থানীয় মুসলমানদের অনেকে অন্যান্য ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। তাঁরা বেশিরভাগই বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ থেকে এসেছেন।

ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পরে ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ জিল্যান্ডের সভাপতি মুস্তাফা ফারুক বলেন, আমাদের সম্প্রদায় বরাবর দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দেশটিতে নিজেদের নিরাপদ ভেবে এসেছে। আমরা ভাবতেই পারিনি এখানে এমন কিছু ঘটতে পারে।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, শুক্রবারের ঘটনায় নিউ জিল্যান্ড সম্পর্কে তাঁদের মনোভাব বদলাবে না। ফারুকের কথায়, ১০০ বছরের বেশি মুসলিমরা এই দেশে বসবাস করে আসছে। কখনও এমন হামলা হয়নি। একটি ঘটনায় পুরো দেশ সম্পর্কে আমাদের মনোভাব বদলাবে না।

একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, মুসলিমরা নিউ জিল্যান্ডে এসে দ্রুত স্থানীয় জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। তবে নিউ জিল্যান্ডের নাগরিকরা অভিবাসী মুসলিমদের খুব ভালো চোখে দেখেন না। বিশেষত যে মুসলিমরা পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছেন, তাঁদের প্রতি স্থানীয় মানুষের ধারণা বিশেষ ভালো নয়। চিন বা ফিলিপাইন্স থেকে আসা মুসলিমদের অবশ্য স্থানীয়রা ভালো চোখেই দেখেন।

২০১৫ সালে নিউ জিল্যান্ড হেরাল্ড নামে এক সংবাদপত্রের সমীক্ষায় দেখা যায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় বেশি। কিন্তু চাকরি পেতে অন্যান্য ধর্মের লোকজনের তুলনায় তাঁদের বেশি অসুবিধা হয়।

২০০৬ সালে একবার কয়েকটি সংবাদপত্রে এমন একটি কার্টুন ছাপা হয়েছিল যাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন স্থানীয় মুসলমানরা। বিক্ষোভ দেখাতে কয়েকশ মুসলিম অকল্যান্ডে জড়ো হয়েছিলেন। নিউ জিল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক বলেছিলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আছে ঠিকই কিন্তু ওই কার্টুন না ছাপালেই তারা ভালো করত।

Shares

Comments are closed.