হাইপারটেনশন: আপনার নীরব ঘাতক—জেনে নিন কী করণীয়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ ১৭ই মে, বিশ্ব হাইপারটেনশন দিবস।  দি ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগ (ডাব্লুএইচএল) ২০০৩ সালের ১৪ই মে প্রথম হাইপারটেনশন ডে পালন করে।  ২০০৬ থেকে ১৭ই মে কে এই দিন হিসেবে মনোনীত করা হচ্ছে।  উচ্চ রক্তচাপ যুক্ত রোগীদের মধ্যে উপযুক্ত জ্ঞানের অভাবের কারণে এই দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে মনে করেন ডব্লুএইচএলের গবেষকরা।  এই ডব্লুএইচএলের আওতায় মোট ৮৫ টি জাতীয় হাইপার টেনশন সোসাইটি এবং লিগ আছে।

    দৈনন্দিন জীবনে হাইপারটেনশনকে অনেকেই হাই ব্লাড প্রেশারও বলে থাকেন।  শরীরের রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে যখন, হার্ট থেকে খুব জোরে পাম্প হয়ে শিরা ধমনীর মধ্যে দিয়ে অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে, তখনই হয় হাইপার টেনশন বা হাই ব্লাড প্রেশার।  কারণ এ সময়ে শিরা ধমনীতে প্রচণ্ড বেশি পরিমাণে চাপ পড়ে।  বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট এন এন খান্না বলছেন, এ সময়ে এত বেশি রক্তচাপ কাজ করে, অনেকক্ষেত্রেই শিরা ফেটে মানুষের মৃত্যু হয়।  প্রতি দশ জনের মধ্যে আটজন সময়ই পান না হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করার, তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।  উচ্চ রক্তচাপ হলে শরীরের যে কোনও শিরাতেই এই সমস্যা হতে পারে, তবে হার্ট থেকে যে শিরার মধ্যে দিয়ে রক্ত আসে সারা শরীরে , তাতেই সবচেয়ে বেশি হয় এই সমস্যা।

    বিশেষজ্ঞরা যদিও বলছেন, চাইলে আপনার টেনশন, নিজের আয়ত্তে রাখতেই পারেন।  যশোবন্তপুরের কলম্বিয়া এশিয়া রেফারেল হাসপাতেলের চিফ ডায়াটেশিয়ান পবিত্র এন রাজ বলছেন, “ হাইপারটেনশন কেন হচ্ছে, সে কারণগুলোতে গেলেই আপনি এই রোগ সারিয়ে ফেলতে পারবেন।  দেখবেন যাঁদের এই সমস্যা হয়, বেশিরভাগেরই পরিবারে আগে কারও হয় তো এই সমস্যা ছিল।  তিনি হয় তো খুব বেশি স্ট্রেসের মধ্যে থাকেন।  হয় তো কারও কিডনির সমস্যা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।  অথবা খুব বেশি ধূমপান, মদ্যপান করছেন তিনি বা অত্যন্ত বেশি মাত্রায় মোটা সেই মানুষটি। ”

    এ জাতীয় সমস্যা থাকলে হাইপারটেনশন থেকে আপনার হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা যে কোনও কার্ডিও ভাসকুলার ডিসিজ় হতেই পারে।  তাই সবসময়ে নজরে রাখুন নিজের উপর এবং প্রিয় মানুষের উপর।   খাওয়া দাওয়া কিছুটা হলেও নজরে রাখতে হবে।  পবিত্র বলছেন, এক্ষেত্রে কী খাবেনের চেয়েও বেশি জরুরি কী কী খাবেন না, সেদিকে বেশি নজর দেওয়া দরকার।  এক্ষেত্রে DASH Diet মেনে চলা খুব জরুরি।  এই ডায়েট মূলত প্ল্যান করাই হয় যাতে ব্লাড প্রেশার কমানো যায়।  এতে ফল, সব্জি, লো ফ্যাট ডেয়ারি ফুড, মাংস, মাছ, বাদাম, বিন সবই থাকে।  তবে মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার, রেড মিট খুবই কম পরিমাণে থাকে।  ইউনাইটেড ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার থেকেই এই DASH ডায়েট করতে বলা হয়।

    অনেকগুলো গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, সোডিয়াম হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।  পাঁপড়, আচার, প্রিসার্ভেটিভ দেওয়া কোনও খাবার, মাংস–-সবেতেই থাকে অতিরিক্ত পরিমাণে সোডিয়াম।  তাই এগুলো এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলাই ভালো।  ইন্স্টা নুডলস, স্যুপ, পাস্তা এড়িয়ে চলুন, এগুলোতে আছে মোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট এবং আজিনামোটো।  স্যালাড ড্রেসিং, চাটনি, সস্, চিজ়, বিস্কুট, সল্টেড নাট শুনলে আপাত নিরীহ মনে হলেও এগুলো আসলে আপনার ক্ষতিই করে।  তাই এদের খাবার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিন।  WHO বা World Health Organisation বলছে, সারাদিনে ৫ গ্রামের বেশি নুন খাওয়া চলবে না।

    অতএব কিছু জিনিস মেনে চলুন রোজকার জীবনে, আর নিজের হৃৎপিণ্ডের যত্ন নিন,  সুস্থ থাকুন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More