বৃহস্পতিবার, মে ২৩

মন আর হর্মোনের ব্যালেন্স করুন, ফিট থাকুন-হিট থাকুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান টানলে মাথা আসে। আপনি রোগা না মোটা, তা-ও অনেকটা সেভাবেই আপনার মনকে প্রভাবিত করে। ওজন বেশি বলে যদি ‘ডায়েট’ করতে শুরু করেন নিজের মতো করে, তাতে হিতে বিপরীত হতেই পারে। আপনার জিভকে তো বেঁধে ফেলবেন, কিন্তু মন বাধবেন কী করে! আর তাই মন খারাপও হবে, আপনাকে ছুটতে হবে মনোবিদ এবং ‘ডায়েটিশিয়ান’-এর কাছে। আবার মন খারাপ করছে বলে আপনার হর্মোনের এদিক ওদিক হবে, তাতে রোগা তো হবেনই না, বরং ওজন বাড়বে হৈ হৈ করে‌! তাহলে উপায়?

সমীক্ষা বলছে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ডিপ্রেশনের মূল কারণ ‘ওবেসিটি’। এখন আলাদা করে কখনও ডায়েটিশিয়ান, কখনও সাইকায়াট্রিস্ট অথবা ‘ওয়েলনেস কোচ-এর কাছে আপনার পক্ষে ছোটা কি সম্ভব, না আপনি চাইবেন? না সেটা আপনার পকেটের জন্য স্বাস্থ্যকর হবে! সবকটা উত্তরই নিশ্চয় না। এমন কোনও জায়গা খুঁজে বের করতে হবে যেখানে একই ছাতার তলায় এই ‘ডায়েটিশিয়ান’, ‘সাইকায়াট্রিস্ট’ বা ‘ওয়েলনেস কোচ’ সকলকেই পাবেন আপনি। বাঁচবে সময়, বাঁচবে পকেট, বাঁচবেন আপনিও।

এখন এই দুই জিনিসকে একসাথে টার্গেট করে একটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাই করে ফেলা হয়েছে। যার নাম ‘rainbow programme’, অর্থাৎ ‘Research Aimed at Improving Both Mood and Weight’. শিকাগোর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের প্রফেসর ডঃ জুন মা তাঁর সহকর্মীদের নিয়ে এই প্রোগ্রামটা করেছেন। যেখানে ৪০৯ জন অংশগ্রহণ করলেও , তাঁদের মধ্যে থেকে ২০৪ জন মানুষের উপর এই সমীক্ষা করা হয়। যাদের একসাথে ‘ডিপ্রেশন’ এবং ‘হেল্থকেয়ার’এর চিকিৎসা চলে। বাকিদের শুধু ‘হেল্থকেয়ার’-এর ব্যবস্থা করা হয়। তাই তাঁরা অতটা উপকার একসাথে পাননি। এই সমীক্ষা বলছে এই ২০৪ জনের ‘বডি মাস ইনডেক্স’ যেখানে ৩৬.৭ থেকে কমে ৩৫.৯ হয়েছে, সেখানে বাকিদের ক্ষেত্রে সেভাবে চোখেই পড়েনি। এমনকী ‍ওই ‍২০৪ জনের ডিপ্রেশনের সমস্যাও যেভাবে কমেছে তা বাকিদের হয়নি। পরিসংখ্যানে ২০৪ জনের ডিপ্রেশন কমেছে ১.৫ থেকে ১.১-এ, আর বাকিদের কমেছে ১.৪ মাত্র। এই ২০৪ জন যেখানে প্রথম ৬ মাসে প্রত্যেকে আলাদা করে ৯টি কাউন্সেলিং পেয়েছেন এবং লাইফস্টাইলের ১১টি ভিডিও দেখেছেন। পরের ৬ মাসে হেল্থ কোচ বারবার ফোনে তাঁদের শারীরিক পরিবর্তনের খোঁজ খবর নিয়েছেন। বাকিদের এতটা গভীরে চিকিৎসার সুযোগই হয়নি। কখনও সময়-কখনও পকেট বাধ সেধেছে। ‘রেইনবো’র মনোবিদ অ্যান্টিডিপ্রেশনের ওষুধও দিয়েছেন ব্যক্তিবিশেষে। সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিটি চাইলে সেই ওষুধ দেখিয়েও নিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসককে।

‘হেল্থকোচ’ সরাসরি কথা বলতেন ওই ২০৪ জনের সঙ্গে। পুরো টিমে ডায়েটিশিয়ান, সাইকায়াট্রিস্টরা তাঁদের টিপস এবং প্রেসক্রিপশন ‘হেল্থকোচ’কে বলে দিতেন। ফলে পুরো কেয়ার টিমের সকলে হেল্থকোচকে রিপোর্ট করেছেন। তাই অনেক সহজে ওই ২০৪ জনের কাছে পৌঁছনো গেছে। আপাতত জুন মা এবং তাঁর টিম চাইছেন আলাদা করে প্রতি পেশেন্টকে চেকআপ করতে এবং পরবর্তীকালেও যাতে তাঁদের কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে নজর দিতে।

অতএব আপনিও এমন কোনও রাস্তা খুঁজুন যেখানে আপনার মন এবং শরীর একই সঙ্গে যত্নে থাকবে। আলাদা করে জোর করে আপনাকে মন বা শরীর কোনওটাই টেনে নিয়ে যেতে হবে না। ফলে সহজেই আপনার দৈনন্দিন আরও স্বতঃস্ফূর্ত এবং সহজ হবে। চেষ্টা করেই দেখুন হয় কি না!

Shares

Comments are closed.