মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

একটা ওভারি বাদ গেছিল ক্যানসারে, তবু ঘরে এল ফুটফুটে সন্তান

মধুরিমা রায়

ক্যানসারে একটা ওভারি হারানোর পরেও সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিলেন হুগলির অনুমিতা হালদার (পরিবর্তিত নাম)।  ২০১৫ তে তাঁর ক্যানসার ধরা পড়ে।  বিয়ের দু’বছরের মধ্যে ক্যানসারের থাবার পরেও সন্তানের জন্ম দেওয়ার ইচ্ছেটা কিন্তু মরে যায়নি অনুমিতার।  তাঁর সেই ইচ্ছেকে বাস্তবায়িত করেছেন শহরের বেসরকারি হাসপাতালের কয়েকজন ডাক্তার।

৩১ বছরেরে অনুমিতার ডানদিকের ওভারি বাদ দিতে হয়, ক্যানসারের জন্য।  ডঃ এপি মজুমদার অনুমিতার চিকিৎসা করেছিলেন ২০১৫তে।  বাঁ দিকের ওভারিতে হাত দেননি তিনি।  রোগীর বয়স এক্ষেত্রে খুব বড় একটা ফ্যাক্টর ছিল।  অনুমিতা মোট ৬ টি সাইকেলে কেমো নেন।  তাঁর শরীরে রেডিয়েশনও চলে।  তাঁর ক্যানসার সামলে উঠতে কেটে যায় বেশ কিছুটা সময়।  এবছরই তাঁর স্বপ্ন স্বার্থক হল।

একটি বেসরকারি হাসপাতালের গায়নোকলজিস্ট ডঃ বিশ্বজ্যোতি গুহ অনুমিতার এই ট্রিটমেন্টের দায়িত্বে থাকা টিমের একজন।  তিনি বলছেন প্রথমে তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন ওষুধ দিয়ে কাজ চালাতে, কারণ অনুমিতার শরীরে যে ডিম্বাণুগুলো তৈরি হচ্ছিল, কেমোথেরাপির ফলে সে গুলো খুব দুর্বল ছিল।  তবে তৈরি হচ্ছিল।  কিন্তু দু’বার মিসক্যারেজ হয়ে যায় অনুমিতার।  এসময়ে তাঁর ‘obstetric cholestasis’ এবং ‘gestational diabetes’ বারবার হচ্ছিল।  যাতে লিভারের সমস্যা রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং চামড়া স্ট্রেচ হতে থাকে বলে পেট এবং কোমরের কাছে চুলকানি হতে থাকে।  এই সমস্ত প্রতিকূলতার পরেও অনুমিতা বা তাঁর পরিবার হার মানেননি।

ডাক্তারদের মতে, ওভারির সমস্যা থাকলেও সন্তান জন্ম দিতে সেভাবে সমস্যা হয় না, যদি ইউটেরাস ঠিক থাকে।  এক্ষেত্রেও সেটাই কাজে এসেছিল।  তিনি বলেন, “আমাদের দুটো ওভারিই অ্যাক্টিভ থাকে।  তাই কোনও কারণে একটা কেটে বাদ দিতে হলেও, মহিলাদের মেনোপজ় অর্থাৎ ৪০-৪৫ বছর না হলে অনায়াসে সন্তানের জন্ম দিতে পারেন।”  অনুমিতার ইউটেরাস ঠিক ছিল।  তবু দু’বার মিসক্যারেজের পরে ডাক্তাররা তাঁকে আইভিএফ পদ্ধতির পরামর্শ দেন।  সেই হাসপাতালেই আইভিএফ ডিপার্টমেন্টের হেড ডঃ কৌশিকী সরকার অনুমিতার বিষয়টা দেখতে শুরু করেন।

অনুমিতার ডিম্বাণু আর তাঁর বরের শুক্রাণু নিয়ে শরীরের বাইরে মিলিয়ে সেটা অনুমিতার শরীরে স্থাপন করা হয়।  ৩৬ সপ্তাহে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।  সাধারণত ৩৮ সপ্তাহে একটি বাচ্চা জন্মায়।  এক্ষেত্রে ২ সপ্তাহ আগেই বাচ্চাটিকে সিজা়র করে বের করা হয়।  আপাতত সুস্থ আছেন অনুমিতা এবং তাঁর বাচ্চা।  অর্থাৎ মনের জোর এবং শরীরের চিকিৎসায় সাড়া দেওয়া দুইই এক্ষেত্রে বাঁচিয়ে দিল অনুমিতার স্বপ্নকে।  স্বাভাবিকভাবেই খুশি তাঁর পরিবার।

এ বিষয়ে শহরের বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট ডঃ গৌতম মুখোপাধ্যায় বলছেন, “সবসময়েই এ ধরণের সাফল্যকে স্বাগত।  ওভারি নিয়ে খুব বেশি না ভাবলেও চলে যদি ইউটেরাস ঠিক থাকে।  আর অবশ্যই অনুমিতার বয়সটা খুব কাজে এসেছে এক্ষেত্রে।  মেনোপজ়ের কাছাকাছি থাকলে হয় তো একটু বেশি সময় লাগত।  তবে এভাবেই মনের জোর রাখলে ক্যানসার কোনওমতেই আর আমাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না। ”

ক্যানসারকে জয় করা আর সমস্যার নয় এখন।  বরং এরপরেও আছে জীবন।

Shares

Comments are closed.