সোমবার, নভেম্বর ১৮

জেনে নিন, কেন কখন কোথায় যোগাভ্যাস করবেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  আজকের যুগে বেশিরভাগ মানুষ মানসিক চাপের শিকার। এই টেনশন বা স্ট্রেস থেকে মানুষের বহু রোগ হতে পারে এবং আয়ু কমে যেতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞানীরা বলছেন  ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনির রোগের সূত্রপাত ঘটে মানসিক চাপ থেকে। আর বর্তমান যুগে মানুষ তার সংসার খরচ জোগাড় করার জন্য যত না চিন্তিত, তার চেয়ে অনেক বেশি চিন্তায় থাকে রোগের চিকিৎসা ও হাসপাতালের খরচ কিভাবে জোগাড় হবে তা নিয়ে। অনেক সময় একটি পরিবার রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়েই নিঃস্ব হয়ে যায়।
 অথচ এই সমস্যা সমাধানের উপায় আমাদের দেশেরই মুনি ঋষিরা হাজার হাজার বছর আগেই শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। যা আজ সারা বিশ্ব গ্রহণ করলেও, আমরা, বিশেষ করে বাঙালিরা পিছিয়ে আছি। অথচ আজ থেকে একশো বছর আগেও বাংলায় শোনা যেত একটা প্রবাদ, যোগ থাকতে রোগকে নিমন্ত্রণ কেন!  শরীরের সঙ্গে মনের সংযোগ ঘটিয়ে আত্মিক উন্নতি ও শরীরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রোগব্যধিকে দূরে সরিয়ে রাখতে যোগের সত্যিই কিন্তু বিকল্প নেই।
তাই সময় থাকতে নিজের ও পরিবারের ভালোর জন্য যোগকে আপন করুন। নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষই সুস্থ থাকার জন্য যোগাভ্যাস করতে পারেন। যোগাচার্যদের মতে যোগাসনের মাধ্যমে সবচেয়ে কার্যকরি উপায়ে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া, যোগাসন ছাড়া অন্য কোনও ব্যায়াম নেই যাতে শরীরের অস্থি সন্ধি, ফুসফুস, প্লীহা, পাকস্থলী, মূত্রথলী, যকৃৎ, বৃক্ক ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে প্রযোজনমত রক্ত সঞ্চালন হতে পারে।
যোগাসন ছাড়া অন্য কোনও ব্যায়াম নেই যাতে মেরুদণ্ডে আড়াআড়ি আর লম্বালম্বি ভাবে চাপ পড়তে পারে এবং মেরুদণ্ড দু’দিকে স্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে। যোগাসন শরীরের প্রয়োজনীয় গ্রন্থিগুলোকে অতিমাত্রায় সতেজ ও সক্রিয় করে তোলে। তাই শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে সুস্থ থাকার সেরা পদ্ধতি হিসেবে সারা বিশ্ব চেনে যোগকেই (YOGA)।

আগে জেনে নিন যোগের উপকারিতা

 শরীর আর মনের মধ্যে সমতা আসবে। দেহের নমনীয়তা বাড়বে, মনে অবাঞ্ছিত চিন্তা আসবে না। বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করবে। প্রবৃত্তিগুলি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সূক্ষ্মতর ও উচ্চতর সাধনার জন্য মনকে প্রস্তুত করতে পারবেন। যে কোনও কাজে আপনার একাগ্রতা ও ধৈর্যশক্তি বাড়াবে। মনের চঞ্চলতা কমাবে। চিন্তা করার দক্ষতা বাড়বে।

● শরীরে জমে থাকা বিষ (Toxins) দূর করবে।

গ্রন্থিগত ত্রুটি দূর করে গ্রন্থিরস ক্ষরণে সমতা আনবে।

 পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, যকৃৎ অতিমাত্রায় কার্যক্ষম হবে। ফলে হজমশক্তি  বাড়বে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

● শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করবে। ফলে দেহে বেশি শক্তি উৎপাদিত হবে এবং আপনার পরিশ্রম করার ক্ষমতা বাড়বে।
●  নারীদের ঋতুকালীন পিরিয়ডের সময় ব্যথা কমাবে। নারীদের ডিম্বাশয় সতেজ ও সুস্থ রাখবে। ফলে প্রজনন ক্ষমতা বাড়বে।

কখন যোগাভ্যাস করবেন

যোগদর্শন বলছে  সূর্যোদয়ের দু’ঘণ্টা আগে যখন প্রকৃতি শান্ত ও নির্মল থাকে এবং আমাদের পাকস্থলী ও অন্ত্র যখন সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকে, সেটাই যোগাসনের আদর্শ সময়। কিন্তু আজকের কর্মব্যস্ততার যুগে অনেককেই গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়, তাই তাঁদের জীবনে ভোর দেখা সম্ভব হয় না। তাহলে তাঁরা কি যোগাভ্যাস করবেন না! অবশ্যই করবেন, দিনের যে কোনও সময় করবেন। তবে ভারী খাবারের অন্তত দু’ঘন্টা পর করবেন। ঘুম থেকে উঠে বিছানাতেই করতে পারেন যোগাভ্যাস। যোগাভ্যাস যোগান দেবে অফুরান প্রাণশক্তি, যা আপনাকে সারাদিন তরতাজা রাখবে।

কোথায় যোগাভ্যাস করবেন

কোলাহল মুক্ত খোলামেলা জায়গাযেখানে অবাধে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে যোগাভ্যাস করবেন। সেই জায়গাটি আপনার বাড়ি হতে পারে, বাগান হতে পারে আবার পার্কও হতে পারে। তবে খুব বেশি গরম বা ঠান্ডা জায়গায় যোগাভ্যাস করবেন না।
● যোগাভ্যাসের জন্য ফোমের ম্যাট ব্যবহার করবেন। না থাকলে মোটা কাপড়  বা কম্বল ব্যবহার করবেন। পিচ্ছিল জায়গায় ম্যাট পাতবেন না।
যোগাভ্যাসের সময় পাতলা এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরবেন। চশমা ও ঘড়ি খুলে রাখবেন।

যোগাসন অনুশীলনের সময় প্রতিটি আসনের মাঝে পর্যাপ্ত বিশ্রাম বাধ্যতামূলক ভাবে নিতে হবে।

জেনে রাখুন

যোগাভ্যাসের জন্য কোনো বয়সসীমা  নেই। যেকোনও বয়সের নারী ও পুরুষ যোগাভ্যাস করতে পারেন। তবে প্রথমেই  একা একা অনুশীলন করতে শুরু করবেন না। প্রথম দিকে বিশেষজ্ঞ যোগ প্রশিক্ষকের সহায়তা নিন।
● শরীরের ওপর অতিরিক্ত জোর দিয়ে বা শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে যোগাভ্যাস করবেন না। আগে আপনার চিকিৎসকের অনুমতি নিন।

গর্ভাবস্থায় যোগাভ্যাস খুবই উপকারী। তবে অনুশীলনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

● যোগাভ্যাসের আগে ঠান্ডা জলে স্নান করে নিতে পারেন। এতে শরীর ও মন সতেজ থাকবে।

● যোগাভ্যাস করেন বলে শুধু নিরামিষ খাবার খাবেন এরকম কোনও নিয়ম নেই যোগদর্শনে। তবে অল্প ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া ভালো। সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল খাবেন। এটা খুবই জরুরি।

● যোগাভ্যাসের উপকারিতা এক দিনে পাবেন না।  কোন আসন করলে কী উপকার হয় বা কার কোন আসন করা উচিত তা প্রথমেই আপনার পক্ষে জানা সম্ভব নয়। নিজে নিজে যোগাভ্যাস করতে গেলে উপকারের চেয়ে অপকারই হবে বেশি। তাই একজন অভিজ্ঞ প্রশিক্ষককে আপনার দরকার। তাঁর কাছে শেখা আসনগুলি নিয়মিতভাবে অনুশীলন করলে মিরাকল হবেই হবে। নিশ্চিত থাকুন।

Comments are closed.