রবিবার, নভেম্বর ১৭

নির্বাচকরা প্রথমবারে তাঁকে বাতিল করে দিয়েছিলেন, বললেন সচিন তেণ্ডুলকর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁকে ক্রিকেটের ঈশ্বর বলতেও অনেকে দ্বিধা করেননি।  টেস্ট ক্রিকেটে প্রায় ১৬ হাজার আর একদিনের আন্তর্জাতিকে সাড়ে ১৮ হাজারের কাছাকাছি রান।  এই সচিন তেণ্ডুলকরকেও প্রথমবার ট্রায়ালে বাতিল করে দিয়েছিলেন নির্বাচকরা।  সেই কথা বললেন সচিন তেণ্ডুলকর নিজেই।

পশ্চিম মহারাষ্ট্রের ‘লেট লক্ষ্মণ রাও দুরে স্কুলে’র পড়ুয়াদের সচিন বলেন, “আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমার মনে একটাই কথা ছিল, ভারতের হয়ে আমাকে খেলতে হবে।  আমার সেই সফর শুরু ১১ বছর বয়সে।  আমার এখনও মনে আছে যে আমি ভালো ব্যাট করলেও তা আশানুরূপ ছিল না, তাই নির্বাচকরা আমায় মনোনীত করেননি, তখন আমি খুব হতাশ হয়েছিলাম।  কিন্তু তার পরে আমার একাগ্রতা, জেদ ও কঠোর পরিশ্রম আরও বেড়ে গেল।  যদি তোমাদের মনে কিছু করার ইচ্ছা থাকে, তা হলে শর্ট কার্টে কাজ হবে না। ”

রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন সচিন তেণ্ডুলকর তাঁর এলাকা উন্নয়নের অর্থের একাংশ এই স্কুলকে দেন। সেই অর্থেই স্কুলের তিনটি শ্রেণিকক্ষ হয়েছে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে।

উপস্থিত পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে সচিন বলেন, ক্রিকেটার হিসাবে আমার সব সাফল্য আমার পরিবারকে, পরিবারের সকলকে উৎসর্গ করছি।  পরিবার বলতে আমি প্রথমেই বলব আমার মা-বাবা, আমার ভাই অজিত ও বড়ভাই নীতিনের উৎসাহ দেওয়ার কথা।  নীতিন সাধারণত সামনে আসেন না।  বিয়ের পরে আমার দিদি পুণেতে চলে যায়, সেও আমাকে উৎসাহিত করেছে।  সত্যি কথা বলতে কি, আমার প্রথম ক্রিকেট ব্যাটটা দিদিই আমাকে দিয়েছিল। বিয়ের পরে অঞ্জলি (স্ত্রী) এবং সারা ও অর্জুন (দুই সন্তান) আমাকে উৎসাহ দিয়েছে।  এই তালিকায় আমার মামা-মাসী, কাকা-পিসিরাও আছেন।  আর একজনের কথা অবশ্যই বলতে হবে, (রমাকান্ত) আচরেকর স্যার। ”

সারা বিশ্বে সচিনই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি একশোটি শতরান করেছেন (টেস্ট ও ওয়ান ডে মিলিয়ে)।  জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ সচিন খেলেছেন তাঁর ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে।  দীর্ঘ ক্রিকেট জীবনে অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি, তবে তা খুবই কম সময়ের জন্য।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী সচিন।  স্কুলজীবন থেকেই তাঁর বিশ্বরেকর্ড গড়া শুরু।

টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটের পাশাপাশি টি-২০ ক্রিকেটও খেলেছেন সচিন।  আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেললেও ঘরোয়া আইপিএলে তিনি খেলেছেম মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে।  শচিনের ছেলে অর্জুন এখন ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন।

Comments are closed.