শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

মরে গেলেও মাথা উঁচু রাখব, কংগ্রেস দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে বললেন চিদম্বরম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই এবং ইডি খুঁজছে তাঁকে। প্রায় দু’দিন ধরে কার্যত বেপাত্তা তিনি। অবশেষে টানটান নাটকের দৃশ্যের মতোই, ২৭ ঘণ্টা পরে প্রকাশ্যে এলেন চিদম্বরম! আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখলেন সংবাদমাধ্যমের সামনেও। ইতিমধ্যে তাঁকে পাকড়াও করতে কংগ্রেস সদর দফতরে সিবিআই এবং ইডি হানা দিলেও, তারা পৌঁছনোর আগেই বেরিয়ে যান চিদম্বরম। 

বুধবার সন্ধেয় হঠাৎই কংগ্রেসের পার্টি অফিসে পৌঁছে যান অভিযুক্ত পি চিদম্বরম। করেন সাংবাদিক বৈঠকও। সেখানে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে তিনি বলেন, “আমি নাকি আইনের হাত থেকে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি! এই চিন্তাভাবনাটাই আমার পক্ষে যথেষ্ট ধাক্কার। আমি সুবিচারের জন্যই লড়ছি। আমি আইএনএক্স মামলায় অভিযুক্ত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চলছে। আমার পরিবারের কারও নাম চার্জশিটে নেই।”

চিদম্বরম আরও বলেন, তাঁর ছেলে কার্তি-কেও মিথ্যে ফাঁসানো হচ্ছে এই মামলায়৷ তবে তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা আছে তাঁর৷ সেই কোর্টে সমস্ত তথ্য পেশ করার জন্যই গতকাল আইনজীবীদের সঙ্গে ছিলেন তিনি। সারা রাত জেগে কাগজপত্র তৈরি করছিলেন৷ ফেরার হওয়ার প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রের ভিত্তি হল স্বাধীনতা। আমি জীবন ও স্বাধীনতার মধ্যে স্বাধীনতা ও সম্মানকে বেছে নেব। ” অর্থাৎ আইনের সদ্ব্যবহারের অধিকার তাঁরও আছে।

দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে অভিষেক মনু সিংভি, কপিল সিব্বলদের নিয়ে সাংবাদিক সাংবাদিক বৈঠকে চিদম্বরম এ-ও জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর বিবেকের কাছে স্বচ্ছ। মাথা উঁচু করেই চলবেন তিনি। “আমি এটুকুই আশা করতে পারি, তদন্তকারী সংস্থা আইনের যথাযথ সম্মান করে এই তদন্ত চালাবে।”– বলেন চিদম্বরম। দাবি করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার হচ্ছে। অপপ্রচার চলছে তাঁকে নিয়ে। আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে কংগ্রেস দফতর থেকে কিছু ক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে যান তিনি।

মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট আইএনএক্স-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করে। সে দিন রাতেই সিবিআই তাঁর বাড়িতে হানা দেয়, কিন্তু তাঁকে পাওয়া যায়নি বাড়িতে।

এর পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন চিদম্বরম। সুপ্রিম কোর্টে সেই আবেদনের ওপরে শুনানি হবে শুক্রবার। অর্থাৎ এখনই আগাম জামিন পাচ্ছেন না প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তিনি যাতে বিমানে দেশের বাইরে পালাতে না পারেন, সে জন্য লুক আউট নোটিসও জারি করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, চিদম্বরম যে কংগ্রেসের অফিসে যেতে পারে, তার আগাম খবর ছিল সিবিআই ও ইডি-র কাছে। এমনকী তারা সেই পরিকল্পনা মতো কংগ্রেস কার্যালয়ে হানাও দেয়, কিন্তু তার আগেই সাংবাদিকদের সামনে নিজের বয়ান দিয়ে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফলে আরও এক বার ফাঁকা হাতেই ফিরতে হয় তদন্তকারী অফিসারদের।

Comments are closed.