গুয়ার্দিওলার ভাগ্যে বিশ্বকাপ নাচছে ব্রিটিশদের কপালে?

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    অরিন্দম মুখোপাধ্যায়: 

    টেক – ১

    গল্পের শুরুটা ২০১০ সালে। তবে তার ভিত তৈরি হয় ২০০৮ এ। সেই বছরই বার্সেলোনায় কোচ হিসাবে যোগ দেন পেপ গুয়ার্দিওলা। তারপর শুরু হয় ম্যাজিক। স্পেনও ২০১০ বিশ্বকাপ ঘরে তুলে নিয়ে যায়, যার মূলে ছিলেন বার্সায় পেপের দলের সাত ফুটবলার। তাঁদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া এবং পেপের পাসিং ফুটবলের বিরাট প্রভাব ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে…

    টেক – ২

    সাল ২০১৩। পেপ গুয়ার্দিওলা দায়িত্ব নিলেন বায়ার্ন মিউনিখের। তাঁর হাতে পড়ে বায়ার্ন মিউনিখের খেলার ধরণই পালটে গেলো। তাঁদের গতিময়, কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল পালটে গেলো সুন্দর ওয়ান টাচ আর অসাধারণ পাসিং দক্ষতায়। জার্মান ফুটবলে যেন এল রেনেশাঁ। ফিলিপ লাম বললেন “এই বয়সে এসেও যখন কোনও কোচ আমাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেন, তখন আর ট্রফি দিয়ে সবকিছু বিচার করা যায় না। ” জার্মান দলে ডাক পেলেন বায়ার্ন মিউনিখের অধিকাংশ ফুটবলার, এবং ২০১৪ বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে তাঁদের বোঝাপোড়া এবং ফুটবল দক্ষতা বিরাট ভূমিকা পালন করলো…

    টেক – ৩

    সাল ২০১৬। পেপ কোচ হয়ে এলেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটিতে। প্রথম মরশুমে সফল হতে না পারলেও দ্বিতীয় মরশুমে পেপ তাঁর দল নিয়ে আগুন ছোটালেন। প্রিমিয়ার লিগের মতো হাড্ডাহাড্ডি লিগকে পরিণত করে দিলেন ‘ওয়ান টিম লিগে’। তাই এখন প্রশ্ন হচ্ছে, স্পেন এবং জার্মানির মতো ইংল্যান্ডও পেপের এই ফুটবল বিপ্লবকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারবে কি না। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে। সেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ সুইডেন।

    কিন্তু আগের দু বারের স্পেন বা জার্মানির মতো ইংল্যান্ডের খেলায় পেপের ফুটবলের সেই ঝলক দেখা যায়নি। এর কারণ হলো, স্পেন বা জার্মানির ক্ষেত্রে অধিকাংশ খেলোয়াড়ই একই ক্লাবের এবং পেপের অধীনে খেলে যাওয়া খেলোয়াড়। কিন্তু ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে সেই সমীকরণ মিলছে না। রহিম স্টার্লিং এবং জন স্টোন্স বাদে সিটির কাউকেই প্রথম দলে খেলতে দেখা যাচ্ছে না। বরং হ্যারি কেনের অধিনায়কত্বে এই দলে বেশি খেলোয়াড় টটেনহ্যাম হটস্পারের। তাই পেপ যদি টটেনহ্যামের কোচ হতেন, তাহলে সেই সম্ভাবনা জোরালো হত। তবুও বহু বছর পর ইংল্যান্ড দ্বিতীয় রাউন্ডের বাধা টপকে পা রেখেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। যা এতদিন সম্ভব হয়নি তা সম্ভব হয়ে উঠলো পেপের সিটি আমলেই। শুধুই কি কাকতালীয়? নাকি ভাগ্য?

    জানা নেই। তবে স্পেন এবং জার্মানি টিম হিসাবে অনেক ভালো ফুটবল খেলেছিল। সেদিক ইংল্যান্ডের খেলা এখনও সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি। পেপের ছোঁয়ার ফলে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে কি অন্য ইংল্যান্ডকে দেখা যাবে, নাকি ভাগ্যে ভর করে এরকম বোরিং ফুটবল খেলেও ইংল্যান্ড বাজি মেরে যাবে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে ১৫ জুলাই অবধি…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Leave A Reply

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More